SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২২-০৫-২০১৮ ০৪:০৩:০৯

তারা আত্মসমর্পণ করতে চায়, বাঁচতে চায় (ভিডিও)

dosshu

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে চায় সুন্দরবনের জলদস্যু সূর্য বাহিনী ও ছোট শামসু বাহিনী । তারা বলছে, জীবনের নিরাপত্তা, পুনর্বাসনের সুযোগ আর প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে দস্যুতা ছেড়ে ফিরতে চায় স্বাভাবিক জীবনে। আর এক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছে তারা।

প্রকৃতির অপার মহিমায় গড়ে ওঠা বিশ্বের অন্যতম বিস্ময় সুন্দরবন। এই বন যেমন নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বুক দিয়ে রক্ষা করে দক্ষিণ বাংলার মানুষকে, তেমনি ব্যবস্থা হাজারো মানুষের জীবিকার। আবার এই সুন্দরবনের গহীনে লুকিয়ে থাকে ভয়াল বিভীষিকা। যাদের হাত থেকে রেহাই পায় না জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল থেকে শুরু করে পর্যটকরা পর্যন্ত।

অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি দস্যুতাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়া এসব দস্যুদলের দুটি- সূর্য বাহিনী ও ছোট শামসু বাহিনী। সুন্দরবনের অন্ধকারে ফেরারি জীবনে কাটিয়ে তারা এখন ফিরতে চায় স্বাভাবিক জীবনে।

দস্যু দলের এক সদস্য বলেন, 'এটা আসলে ভালো জীবন না। এই ফেরারি জীবনে ভালোভাবে থাকা যায় না, বাঁচা যায় না।'

আরেক সদস্য বলেন, 'আমি বাড়ি যেতে পারি না। আমার শত্রু তো আছেই। এ ভালোবাসে না, সে ভালোবাসে না।'

দলের কম বয়সী এক সদস্য বলেন, 'এই কাজে ইচ্ছা করে কেউ আসে না। এই কাজ অনেক খারাপ। বন্ধ-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে আমি এই কাজে এসেছি।'

মাস্টার বাহিনী, মোতালেব বাহিনী, রাজু বাহিনীসহ আরো কয়েকটি বাহিনীর দলছুট সদস্যরা মাস কয়েক আগে গড়ে তুলেছে সূর্য ও ছোট শামসু বাহিনী। তাদের দাবি এর আগেও আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছে তারা। কিন্তু প্রয়োজনীয় আশ্বাস না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি স্বাভাবিক জীবনে ফেরা।

দলের জ্যেষ্ঠ এক সদস্য বলেন, 'জোয়ার আসলেই বন ভোরে যায় তারওপর বৃষ্টি। কখনও কখনও এক পলিথিনের মধ্যে বসে থাকতে হয়।'

আরেক সদস্য কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আমরা বাচতে চাই। আমাদের এখান থেকে নিয়ে যান। আমার ছোট ছোট বাচ্চা। তারা মাঠের কাজ করে।'

তাদের উপলব্ধি দস্যুতার এই জীবনে কোনো অর্জন নয় বরং দিনে দিনে হারানোর পাল্লাই ভারি হয়েছে।

সূর্য বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা দশ জন। আর ছোট শামসু বাহিনীর সদস্য নয়জন। দেশি বিদেশি বেশকিছু অস্ত্র গোলাবারুদ রয়েছে তাদের সংগ্রহে। প্রয়োজনীয় আশ্বাস পেলে সবসহই আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক তারা।

পরিবার পরিজন আর চেনা পরিবেশ থেকে দূরে, বহুদূরে দীর্ঘ বছর নিষিদ্ধ জীবন কাটিয়ে তারা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাচ্ছেন। তাদের উপলব্ধি, দস্যুতার এই জীবনে প্রতিক্ষণ তাড়া করে মৃত্যু। তবে আত্মসমর্পণের আগে তাদের একটাই দাবি, যেনো তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন করা হয়।