SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৮-০৫-২০১৮ ০৯:২৩:০১

বেহাল মহাসড়কে ঈদ যাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

road-and-highway

সারাদেশে মহাসড়ক ও সড়কগুলো সংস্কার না করলে এবারও ঈদে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে সড়ক ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান। তার ওপর বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দ ভোগান্তি বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। রমজানের শুরুতেই ব্যবস্থা না নিলে সড়কপথে বাড়ি ফেরা মানুষের চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষের সেই গতানুগতিক আশ্বাস, ঈদ যাত্রার আগেই ঠিক হবে সব।

ঈদ মানেই বাড়ি ফেরা। আর নাড়ির টানে এই ফেরার মিছিলে অন্যতম ভরসা সড়ক পথ। বর্ষা মৌসুমে মহাসড়কের বেহাল দশায় এবারের ঈদ যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তায় সাধারণ মানুষ।

দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোর সুরতহাল করে দেখা যায় দুর্ভোগ চারদিকেই।

ঢাকা-চট্টগ্রাম:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রথম বাধাই কাঁচপুর। ঈদের আগে অবস্থার উন্নতি না হলেই যাত্রার শুরুতেই হয়ত কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে। এরপর কয়েক কিলোমিটার চার লেন হওয়ায় যানবাহনের গতি স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎই মেঘনা-গোমতী ব্রিজের ঠিক আগেই দুই লেনের রাস্তায় থমকে যেতে হবে চালক ও যাত্রীদের। তারপর মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে ফেনীর নির্মাণাধীন রেল ওভার পাসের বিড়ম্বনা তো আছেই।

ঢাকা-সিলেট:

ভুলতা-গাউছিয়া হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উঠতে এখনই ভোগান্তির সীমা নেই। এরপর পুরো মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার পর পরই ভাঙা রাস্তার দুর্ভোগ ।

ঢাকা-মাওয়া:

পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কের কারণেই মূলত অনেক স্থান সরু হয়ে এসেছে ঢাকা থেকে মাওয়া যাবার। তার ওপর দফায় দফায় ভারি বর্ষণ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাবার প্রধান এই সড়কের বেহাল দশার কারণ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল:

গত কয়েক বছরের মত এবারো উত্তরবঙ্গে যাত্রীদের আতঙ্কের নাম এই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। নির্ধারিত সময় পার হলেও শেষ হয়নি চার লেনের কাজ। ইপিজেড, বিকেএসপি পার হলেও, চন্দ্রা মোড় পার হতেই বেগ পেতে হবে পরিবহনগুলোকে। থেমে থেমে চলতে হবে গাড়ি। এ অবস্থা প্রায় এলেঙ্গা পর্যন্ত। খানাখন্দের পাশাপাশি এ রাস্তায় দুর্ভোগের অন্যতম কারণ ট্রাফিকের অব্যবস্থাপনা। প্রায় একই অবস্থা ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কেরও।

একদিকে ভরা বর্ষ মৌসুমে এবারের ঈদ যাত্রা। তারওপর মহাসড়কের বেহাল দশা। তড়িঘড়ি করে শেষ মুহূর্তে এসব রাস্তা হয়তো সংস্কারের উদ্যোগ নেবে কর্তৃপক্ষ। তবে তা দুর্ভোগ এড়াতে কতটুকু কাজে দিবে সে বিষয়ে সংশয় আছে বিশেষজ্ঞদের।

এক্সিডেন্ট রিসার্স ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, 'একদিকে যানজট যেমন বাড়বে অন্যদিকে এই যানজট একটু ফাঁকা হলেই চালক বেপরোয়াভাবে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সময়টা কাভার করতে চাইবে। এই কারণেই কিন্তু দুর্ঘটনার ঝুঁকিয়ে বাড়বে।'

নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে ঈদের আগে চেষ্টা থাকবে সমন্বয়ের।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, 'মালিক-শ্রমিক, আমাদের আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীও কিন্তু অনেক সময় হিমশিম খায়। এখানে জনবলের একটা বিষয় আছে। এখানে আসলে সবাইকে নিয়ম মানার একটা সংস্কৃতির মধ্যে আসতে হবে।'

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের একটা পরিকল্পনা থাকে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু কাজ হচ্ছ। রোজার শুরুর দিকেই কাজগুলো হয়ে যাবে। আমরা মনে করি না যে, বড় কোনো সমস্যা হবে।'

ঈদের সময় যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।