SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৬-০৫-২০১৮ ১০:৩১:০৯

ফারাক্কা বাঁধের কারণে কমছে পদ্মার পানি সমতলের উচ্চতা

capainnbabgonj

ফারাক্কার কারণে প্রতি বছরই কমে যাচ্ছে দেশের অন্যতম নদী পদ্মার পানি সমতলের উচ্চতা। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে চাঁপাইনবাবঞ্জের অন্য নদীগুলোর ওপরেও। ফলে বর্ষা মৌসুমের যেমন বাড়ছে ভাঙনের প্রবণতা, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে ক্রমেই পানির অভাবে মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পদ্মার অববাহিকায় থাকা জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেখানে পানি সমতলের সর্বনিম্ন উচ্চতা ধরা হয় ১১ দশমিক ২ পয়েন্ট গত ৩ বছরে কমতে কমতে তা নেমে এসেছে ৮ দশমিক সাত পয়েন্টে।

ভারত থেকে বয়ে আসা গঙ্গা নদী বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ঢুকে পদ্মা নাম ধারণ করে। এই নদীকে কেন্দ্র করেই একসময় আবর্তিত হত এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা। তবে সময়ের ব্যবধানে এই নদী এখন এই এলাকার মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ। ১৯৭৫ সালে ভারত এই নদীর উজানে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর বদলে যেতে থাকে এই নদীর গতিপথ। বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ ছেড়ে দেয়া পানিতে একদিকে যেমন নদীগর্ভে বিলীন হয় গ্রামের পর গ্রাম, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল পরিণত হয় বালু চরে।

এলাকাবাসী জানান বলেন, এখানে অনেক কষ্টে আছি। এখন পর্যন্ত এখানে চার-পাঁচবার বাড়ি ভেঙেছে। একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হওয়া এই নদী যেন মাঝেমাঝেই তাড়া করে এখানকার বাসিন্দাদের। ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘর-বাড়ি, ফল-ফসলসহ সবকিছু।

কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, ভাদ্র মাসে যে ধানের আবাদ করি সেই ধানটা বর্ষা মৌসুমে ডুবে। তার মধ্যে আবাদ করি দশ বিঘা, তার মধ্যে পাঁচ বিঘাই ডুবে যায়।

গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে ২৭হাজার কিউসেক পানি দেয়ার কথা থাকলেও গত ১৭ বছরের অর্ধেকের বেশি সময় সেই পানি দেয়নি ভারত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, পানি সর্বনিম্ন স্তরের যে ব্যবধান সেটা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর বৃদ্ধির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদীর পাড়ের যে স্থিতিশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। এবং সেই সঙ্গে নদী ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঙ্খা পয়েন্ট থেকে ফারাক্কা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ২০কিলোমিটার। সংশ্লিষ্টদের মতে , এই বাঁধ নির্মাণের আগে শুষ্ক মৌসুমে ৬০ থেকে ৭০ হাজার কিউসেক পানি আসতো বাংলাদেশে।