SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০১-০৫-২০১৮ ০৬:১৭:৪৬

পদ্মা সেতুর আধা কিলোমিটার দৃশ্যমান, সামনে চ্যালেঞ্জ বর্ষার স্রোত

padma

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বসছে পদ্মা সেতুর চতুর্থ স্প্যান। আগের তিনটির সঙ্গে জোড়া লাগিয়ে নতুন স্প্যানটি বসাতে নদীর জাজিরা প্রান্তে প্রস্তুত করে ৪১ নম্বর পিলার। মাওয়ার ইয়ার্ডে রং করা শেষে দুই একদিনের মধ্যে স্প্যানটি নিয়ে যাওয়া হবে নির্ধারিত পিলারের কাছে।

তবে, আগামী মাস থেকে নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাজের গতি কমে আসার আশঙ্কা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।

নদীতে দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর ৩টি স্প্যান। নানা জটিলতা আর শঙ্কার মুখে পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতিতে আশা জাগানো এ স্প্যানগুলোর সঙ্গে মিশে আছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের স্বপ্ন ।

আনুষ্ঠানিক কাজ শুরুর প্রায় ৩ বছর পর গত বছরের ৩০শে সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি। এরপর দ্বিতীয় স্প্যানটি বসাতে প্রায় ৪ মাস সময় লাগলেও ৩য় স্প্যান বসানো হয়েছিলো তার দেড় মাসের মাথায়। চতুর্থ স্প্যানটি ইয়ার্ডে রং করা শেষ হয়েছে গত সপ্তাহে। এখন অপেক্ষা এটি জাজিরা প্রান্তে নিয়ে নির্ধারিত পিলারের ওপর বসানোর। এই স্প্যানটি বসানোর পর পঞ্চম স্প্যানটি জোড়া দেয়া গেলেই প্রথমবারের মতো জাজিরা পাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত হবে পদ্মা সেতু। তাই আশাবাদী পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, 'সমস্যা আসছে, জটিলতা আসছে। আগুলো মোকাবেলা করেই তো কাজ করতে হবে। আমরা অবশ্যই আশাবাদী। কোন আইটেম হয়তো একটু পরে করেছি, কোনটা আগে করেছি। এটা প্রতিনিয়তই হচ্ছে। এখন আমাদের প্রতিদিনের উন্নতি আশা করছি ভালো হবে।'

নদীতে বাড়ছে স্রোত। ক্ষণে ক্ষণে ঝড়ের পূর্বাভাসও রয়েছে। জাজিরা প্রান্তে শুধুমাত্র সেতু নির্মাণের জন্য আলাদা করে চ্যানেল কেটে তাতে কাজ করা হচ্ছে। তবে মাওয়া প্রান্তে সে সুযোগ নেই। তাই এখানে কাজ করতে হয় নদীর স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। তার ওপর এ প্রান্তের ২২টি পিলারের নকশা জটিলতায় কাজ বন্ধ ছিলো দীর্ঘদিন। তবে নকশা সমাধান মেলার পর কাজ চলছে পুরোদমে।

এরমধ্যে ২, ৩, ৪ও ৫ নম্বর পিলারের কাজ শেষ। আরো ৪টি পিলারের কাজ অর্ধেক শেষ। তবে বর্ষা এলে কমে আসবে কাজের গতি।

পদ্মা সেতুর পরামর্শক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, 'মাওয়ার দিকে যে মূল চ্যানেল সেটাতে বর্ষার সময় কাজ করা সম্ভব না। প্রত্যেকটা খুঁটির নিচের মাটি এখন পরীক্ষা করে কোনটা আগে করা হবে বা কোনটা পরে করা হবে এটা ঠিক করা হচ্ছে।'

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পর্যন্ত ৮৭ ভাগ কাজ হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে ৬০ ভাগ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হবে বলে কিছুদিনের মধ্যেই মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন লক্ষ্য ঠিক করার কথা রয়েছে।

একটি দুটি করে হাতের আঙুলে গুনে তিনটি স্প্যান অর্থাৎ প্রায় অর্ধকিলোমিটারের সেতু এখন প্রায় দৃশ্যমান। এর সঙ্গে জোড়া দিয়ে ৪০ এবং ৪১ নম্বর পিলালের মধ্যে চতুর্থ স্প্যানটি বসিয়ে দেয়া সম্ভব হলে তা কেবল প্রকৌশলীদের আত্মবিশ্বাসই বাড়িয়ে তুলবে না একই সঙ্গে পদ্মা সেতুর স্বপ্নের ভিতকে করবে আরও বেশি শক্তিশালী।