SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৮-০৪-২০১৮ ১০:০১:০৬

পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্পে অর্থ দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক

untitled-4

মূল সেতুর কাজ শুরুর প্রায় ৩ বছর পর অবশেষে সই হলো পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের ঋণ চুক্তি। গতকাল (শুক্রবার) চীনের বেইজিংয়ে দেশটির এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে এ চুক্তি হয়।

এতে সড়ক পথের পাশাপাশি এবার রেল যোগাযোগের সুবিধাও পেতে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলবাসী। ঋণ চুক্তি হয়ে যাওয়ার ফলে আগামী মাস থেকে পুরোদমে কাজ শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী রেলমন্ত্রী।

নদীর বুকে বিশাল কর্মযজ্ঞ। সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক হিসেবে জাজিরা প্রান্তে ৩টি স্প্যানও বসানো হয়েছে।

তবে জট বেঁধে ছিলো রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাগজে কলমে কাজ শুরু হওয়া এ প্রকল্প রাজধানী ঢাকাকে রেলপথে যোগ করবে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে। কমলাপুর থেকে ছাড়া ট্রেন গেণ্ডারিয়া হয়ে পৌঁছাবে ৩৭ কিলোমিটার দুরের মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায়। সেখান থেকে মূল পদ্মা সেতু দিয়ে যাবে অন্যপ্রান্ত জাজিরায়। আর জাজিরা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এবং পরে ভাঙ্গা থেকে নড়াইল হয়ে যশোর পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার রেল সংযোগ দেয়া হবে।

ঢাকায় চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে সমঝোতা স্মারকের পর চলতি বছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশটিকে এ প্রকল্পে ঋণ দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়। তবে দেশটির এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে সুদের হারসহ চুক্তির নানা শর্ত নিয়ে বনিবনা হচ্ছিলো না। অবশেষে সে জটিলতা কাটলো। ২৬৭ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজী হয়েছে এক্সিম ব্যাংক।

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, 'সকল স্তর আমরা শেষ করেছি। ঋণচুক্তি হওয়ার পরপরই আমরা নির্মাণ কাজে হাত দেবো। ব্রিজের এপার পর্যন্ত যাতে ট্রেন চালাতে পারি সেই লক্ষ্য আমাদের নির্ধারণ করা ছিলো। এখন আমাদের লক্ষ্য নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, সফল হবো।'

রেল লাইন চালু করা গেলে খুলনার সাথে ঢাকার দূরত্ব কমবে ২১২ কিলোমিটার, সময় লাগবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এছাড়া পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গেও রেল যোগাযোগের দুয়ার খুলবে।

বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাহিদুল হক এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুন পিং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে বর্তমানে বাংলাদেশের ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল চীনে অবস্থান করছেন।