SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৪-০৪-২০১৮ ০৬:৪৮:০৭

১৭ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলে বোমা হামলার সাক্ষ্যগ্রহণ

ramna-case

১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সাক্ষ্য গ্রহণই শেষ হয়নি রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলাটির। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, আদালত ও বিচারক সংকটের কারণে মামলা দীর্ঘসূত্রী হয়ে দাড়ায় ফলে সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া যায় না। একই ঘটনায় নিম্ন আদালতে দায়ের করা হত্যা মামলার রায় হলেও দীর্ঘ দিন ডেথ রেফারেন্স শুনানি না হওয়ায় সাজা কার্যকর করা যাচ্ছে না সাজাপ্রাপ্তদের। এদিকে, তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি টিএসসি এলাকায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে শ্লীলতাহানি মামলার।

২০০১ সালে পহেলা বৈশাখ ভোরে রমনা বটমূলে চলছিলো ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। আনন্দঘন সেই পরিবেশ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায় দু'টি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৭ ব্যক্তি এবং আহত হন ২০ থেকে ২৫ জন। পরে আহতদের মধ্যে আরো তিন জন মারা যান।

এ ঘটনায় স্বামী হারানো পুতুল রাণী এখনো ভুলতে পারেননি সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা। বৈশাখী উৎসব যেন তার কাছে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির উপাখ্যান।

পুতুল রাণী বলেন, ওই দিন আমাদের অফিসে স্টাফরা আমাকে বাসায় পৌঁছে দেয়। বাসায় গিয়ে দেখি আমার ভাই আহত হয়েছে। তারপর ওর কাছে যানতে তর দাদা কোথায়? পরে জানতে পারি সে আর নেই।

এ ঘটনায় নীলক্ষেত থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে ১৪ জনকে আসামি করে দু'টি মামলা দায়ের করে পুলিশ। গত বছর হত্যা মামলায় ৮ জনকে ফাঁসি ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। কিন্তু বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। সাক্ষী হাজির না হওয়ায় বিচার কাজ এগুচ্ছে না বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

রাষ্ট্রের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, এখানে রাষ্ট্র পক্ষের ব্যর্থ হবে কেন। সাক্ষী যদি বাড়িতে চলে যায়। সেই সঙ্গে ঠিকানা পরিবর্তন করি, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই।

আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, আমি মনে বিচার কাজ বিলম্ব করা জন্য অন্যায়।

এদিকে একই ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি না হওয়ায় হাইকোর্টেই আটকে আছে ঐ ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচার।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন,  এই মামলা তালিকাভুক্ত রয়েছে। আশা করি খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে টিএসসি এলাকায় নারীদের শ্লীলতাহানির আলোচিত মামলাটির তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সম্প্রতি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ ঘটনায় করা মামলার একমাস পর ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও থেকে ৮ জনকে শনাক্ত করার কথা জানায় পুলিশ।

শিগগিরই এসব ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না বলে মত প্রকাশ করেন সংস্কৃতি কর্মীরা।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, আমরা চাই অপরাধীরা শাস্তি পাক। নিশ্চয়ই একদিন এই বিচার হবে। তবে সেটার জন্য আমাদের কাজ বসে রাখবো না।