SomoyNews.TV

পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট- ১২-০৪-২০১৮ ০১:০৯:৪৭

তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগে ১৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে বামদের সাধারণ ধর্মঘটের ডাক

biman

পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে আগামী ১৩ এপ্রিল ৬ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট ডাকল পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী বামফ্রন্ট–‌সহ তাদের সহযোগী দলগুলি। তবে এই ধর্মঘটে সমর্থন নেই এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)‌ দলের। ১১ এপ্রিল বুধবার ১৭ দলের বৈঠকের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এই ঘোষণা করেন।

এদিকে বামেদের ডাকা এই সাধারণ ধর্মঘটকে পূর্ণ নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে রাজ্য কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এই কথা বলেন।
বুধবার সন্ধ্যায় আলিমুম্দিন স্ট্রিটের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বিরোধীরা কেমন ‘উন্নয়নের’‌ মুখোমুখি হয়েছে, তা রাজ্যের মানুষ সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন। বুধবার ছিল স্ক্রুটি-নি। আশ্চর্যের ব্যাপার, সেখানে বামপন্থী কোনও দলের প্রতিনিধিকে থাকতে দেওয়া হয়নি। আর এবার জেলায় জেলায় ‘উন্নয়ন’এর নতুন উপদ্রব হল হুমকি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য ৫ দিন সময় দিয়েছে কমিশন। যা কোথাও কোনোদিন হয়নি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বামপন্থী প্রার্থীদের বা তাঁদের আত্মীয়স্বজনকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য অত্যাচার, হুমকি শুরু হয়ে গেছে।

এই অবস্থায় তাই আমরা সাধারণ ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য হয়েছি। ১৩ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছি আমরা। পরদিন চৈত্র সংক্রান্তি, তার পরদিন পয়লা বৈশাখ। দুটি দিনই বাঙালির কাছে বিশেষ দিন। এই কথা মাথায় রেখেই ১২ ঘণ্টা না ডেকে ৬ ঘণ্টা ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। ১৩ এপ্রিল কিছু কিছু পরীক্ষা রয়েছে। তাদের বাধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এ ছাড়া জরুরি পরিষেবাও ধর্মঘটের বাইরে থাকবে, যেমন থাকে।

এদিন বিমান বসু বলেন, সুপ্রিম কোর্টে আমাদের হয়ে মামলা করেছিলেন বিকাশ ভট্টাচার্য। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই মামলা কলকাতা হাইকোর্ট দেখবে। আজ বৃহস্পতিবার আমরা হাইকোর্টেই যাব। একই সঙ্গে আমাদের আইনি লড়াইও চালাব, রাস্তার লড়াইতেও থাকব।  

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এদিন জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীকে হাইকোর্টের কাছে নির্বাচন স্থগিত রাখা–‌সহ সমস্তরকম আবেদন করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। বাম, গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলি এই প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে লড়াই অব্যাহত রাখবে।

বিমান বসু  বলেন, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের কর্মীরা এসে কলকাতায় বিক্ষোভ দেখাতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সামনে যাবে। এই রাজ্যের শাসকদল গণতন্ত্রকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বামপন্থীরা চুপ করে বসে থাকতে পারে না। প্রয়োজনে আরও বড় কর্মসূচি নিতে হবে আমাদের।‌‌