SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০১-০৪-২০১৮ ০৭:৪৬:১৯

পদ্মা সেতু প্রকল্প পিছিয়ে পড়ছে নদী শাসনের কাজ

a

প্রথম দুই বছর নানা জটিলতায় কেটেছে সময়। তাই পদ্মা সেতুর ৫টি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে নদী শাসনের কাজ। তবে চলতি শুকনো মৌসুমে সব জটিলতা কাটিয়ে পুরো দমে চলছে কাজ। লক্ষ্য, এ বছরের মধ্যেই কমপক্ষে তিন কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের কাজ শেষ করা। তবে পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আরো বাড়তি দুই বছর।

পদ্মা নদীর জাজিরা প্রান্ত। বড়ো এলাকা জুড়ে চলমান ছবিটি বলছে, শুধু নদীতে নয়, কাজ চলছে নদীর দুই পাড়েও। মূল সেতু যে পথে হবে, সে নকশা অনুযায়ী নদীর গতিপথ যাতে পরিবর্তন না হয়, কিংবা পাড়ের অপ্রত্যাশিত ভাঙ্গন রোধে করা হচ্ছে নদী শাসনের কাজ।


২০১৪ সালে কাজ শুরু হলেও প্রথম দুই বছর নদীর মাওয়া প্রান্তে পরীক্ষামূলক কাজ করতে গিয়ে বড়ো বিপর্যয়ে পড়েন প্রকৌশলীরা। প্রবল বর্ষায় নদীর তলদেশে তৈরি হওয়া বিশাল দুটি গর্ত বা স্টার হোলের কারণে মাওয়া প্রান্তে আকস্মিক ৭ লাখ কিউবিক মিটার মাটি সরে যায়। তখনি সেখানে কাজ বন্ধ করে সরিয়ে আনা হয় জাজিরা প্রান্তে।

নদীর জাজিরা প্রান্তে ১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং মাওয়া প্রান্তে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার নদী শাসন করার কথা রয়েছে। চলতি শুকনো মৌসুমে জাজিরা প্রান্তে ৩ কিলোমিটার নদী শাসনের লক্ষ্য রয়েছে। আগামী বছরও এ প্রান্তে আরো ৬ কিলোমিটার কাজ করা হবে। ২০২০ সালে কাজ করা হবে মাওয়া প্রান্তে।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, যত সময় আসছে নদী শাসনের কাজের গতি কমে যাবে।  কারণ বর্ষা মৌসুমে আমরা নদীর কাজ করতে পারি না। তবে আমরা চিন্তা করেছি এই বছর জাজিরা প্রান্তে আমরা কিছু কাজ করবো। কারণ জাজিরা প্রান্তে পানির স্রোত কম।

বছরে মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রবল স্রোতে করা যায় না নদী শাসনের কাজ। কোথায়, কি পরিমাণে কাজ করা হবে, সেটা বুঝতে আগে জরিপ করতে হয় নদীর তলদেশ এবং মাটির নিচের অংশে। কিন্তু এ কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সময় মতো নিয়ে আসেনি কোরিয়ান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো। তাই প্রথম দুই বছর কাজে গতি ছিলো না। তবে নদী শাসনের পুরো কাজ শেষ করা না গেলেও মূল সেতুর কাজ শেষে উদ্বোধনের ক্ষেত্রে সেটা সমস্যা হবে না।

পদ্মা সেতুর পরামর্শক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, নদী শাসন আরেকটু পিছিয়ে আছে। আমার ধারণা এক বছর বাড়াতে হবে। এটার জন্যে সেতু উদ্বোধন পিছিয়ে থাকবে না। কয়েক কিলোমিটার বাকি থাকবে। তা বাদেই আমরা পুরো চালু করে দিতে পারি।   

এখন পর্যন্ত নদী শাসনের ৬০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে ৩৭ শতভাগ। তবে এ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামী ৩ বছরের মধ্যে কোন রকম সমস্যা ছাড়াই কাজ শেষ করা সম্ভব বলে মনে করছেন প্রকৌশলীরা।

পদ্মা সেতুর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোর মধ্যে এই নদী শাসন অন্যতম। নানা জটিলতায় আগের দুই শুকনো মৌসুমে  কাজে গতি আনা সম্ভব না হলেও সমস্যা চিহ্নিত করার কারণে এই বছর পুরো দমে চলছে কাজ । আর সেটায় আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আশাবাদী করে তুলছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। তবে নদী শাসন যেহেতু চলমান একটা প্রক্রিয়া তাই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পরেও আরও কয়েক বছর এই কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।