SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৬-০৩-২০১৮ ০০:৪১:৫৪

জনবল সংকট, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসি

ec-manpower-jpg-ed

দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগছে নির্বাচন কমিশন। মাঠ পর্যায় থেকে সচিবালয় পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অধিকাংশ পদেই রয়েছেন চলতি দায়িত্ব নিয়োজিত কর্মকর্তারা। রয়েছে পদশূন্যতাও।

 

কমিশন বলছে, বর্তমান জনবল দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই জনবল বাড়াতে এরইমধ্যে সরকারকে তাগিদ দিয়েছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।

পদ আছে, পদের মানুষ নেই। বছরের অধিকাংশ সময়েই কার্যালয় থাকে তালাবদ্ধ। এই দৃশ্য শুধু কক্সবাজারের মহেশখালীর ই নয়। দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর বেশ কয়েকটি উপজেলা নির্বাচন অফিসই এমন জন-মানবশূন্য। ফলে জেলার অন্য নির্বাচন কর্মকর্তাকে পালন করতে হয় বাড়তি দায়িত্ব।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা বলেন, 'আমি নিজে ৩টি উপজেলার দায়িত্বে আছি। ১টা জেলার দায়িত্ব আমার পাশাপাশি ২টি জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হচ্ছে।'

বান্দরবন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, 'বান্দরবন জেলায় নির্বাচন অফিসে টোটাল ৩২টি অনুমোদিত পদ আছে। তারমধ্যে মাত্র ১৬জন কর্মরত আছেন।'

ঢাকাসহ দেশের ১০জন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার, সব ক'জনই কাজ করছেন চলতি দায়িত্ব হিসেবে। একই অবস্থায় রয়েছেন যুগ্ম-সচিব এবং বেশ কয়েকজন উপসচিবও।

মাঠপর্যায় এবং ইসি সচিবালয়ে সবমিলিয়ে কর্মকর্তা রয়েছেন ২৮২৪ জন। এরমধ্যে ৬৯৫টি পদই শূন্য। আর প্রথম শ্রেণীর ৭৯১জন কর্মকর্তার মধ্যে পদ খালি ২৫১টি।

নির্বাচন কমিশন মাহমুব তালুকদার বলেন, 'জনবলের প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। নতুনভাবে সচিবালয়কে আমরা ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি।'

বর্তমান এই জনবল কাঠামো, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন মাহমুব তালুকদার বলেন, 'আগামী যে নির্বাচন সেটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। বর্তমান জনবল দিয়ে সেটা সম্ভব না।'

জনবল বাড়াতে কমিশনকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনাররা। সে সঙ্গে প্রয়োজন সরকারের ইতিবাচক মনোভাব।

শুধু জাতীয় সংসদ কিংবা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনই নয়। এক মেয়াদে নির্বাচন কমিশনকে প্রায় ৭ হাজারের মত নির্বাচন পরিচালনা করতে হয়। এই কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বর্তমান কাঠামোর চেয়ে বহু অংশে জনবল বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।