SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০১-০৩-২০১৮ ০৯:৩২:০৮

দ্বিতীয় সপ্তাহেই বসবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর তৃতীয় স্প্যান

padma-march-jpgedt

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি মাসের এক তারিখে আমরা বিশেষ রিপোর্ট প্রচার করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ থাকছে তৃতীয় স্প্যান বসানোর বিষয়ে একটি রিপোর্ট।

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বসছে পদ্মা সেতুর তৃতীয় স্প্যান। নদীতে নিয়ে যাওয়ার আগে ইয়ার্ডে স্প্যান রং করাসহ সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, শুকনো মৌসুমের সুবিধা কাজে লাগাতে চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে মাওয়া প্রান্তের পাইলিংয়ের কাজ এগিয়ে রাখতে চান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

সেতুর উপর থেকে এমনই দেখাবে পদ্মা নদী। কোটি মানুষের স্বপ্ন বুকে নিয়ে যে সেতুর নির্মাণ শুরু, সেখানে এখন পর্যন্ত অর্জনের খাতায় যোগ হয়েছে দুটি স্প্যান। এরকম ৪১টি স্প্যান জোড়া দিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পুরো সেতু যখন হবে, পাখির চোখে তার একটুকরো ছবি দৃশ্যমান এখন।

নদীতে আপাতত দুটি স্প্যান জ্বলজ্বল করছে পদ্মা সেতুর বিজ্ঞাপন হিসেবে। পানি থেকে ১২০ ফুটের বেশি উচ্চতায় বসানো হচ্ছে এক একটি স্প্যান। ১৩ মিটার উচ্চতার এ স্প্যানের নিচের অংশে চলবে ট্রেন আর উপরের অংশে মোটরগাড়ি। এক একটি স্প্যানের ওপরে ৩ হাজার ৭৫টি স্ল্যাব বসিয়ে তৈরি হবে ২২ মিটার প্রস্থের ৪ লেনের সড়ক। প্রথম স্প্যানটি বসানোর পর দ্বিতীয় স্প্যান বসাতে সময় লেগেছে প্রায় ৪ মাস। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হবে দেড়মাসের মাথায়।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, 'স্প্যানের রঙ করা থেকে শুরু করে সব নিয়ে যাব ওপারে। আমাদের কিছু আনুষঙ্গিক কাজ ওখানে আছে সেগুলো আমরা শেষ করবো। ১০তারিখের মধ্যে উঠবে সেভাবেই কাজ করছি।'

চীন থেকে আনা ছোট টুকরোগুলোকে জোড়া লাগিয়ে তৃতীয় স্প্যান চূড়ান্ত করতে সময় লেগেছে প্রায় চার মাস। ২-১ দিনের মধ্যে ৩২'শ টন ওজনের এ স্প্যানটি নিয়ে যাওয়া শুরু হবে প্রায় ৬ কিলোমিটার দুরের জাজিরা প্রান্তে। স্প্যান তোলার কাজ জাজিরা প্রান্তে হলেও তীব্র স্রোত এবং নকশা জটিলতার কারণে বেশ পিছিয়ে আছে মাওয়া প্রান্তের কাজ। তবে শুকনো মৌসুমের সুবিধা পেতে এ প্রান্তেও এখন কাজে গতি আনা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর পরামর্শক প্যানেলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, 'মেইন চ্যানেল যেটা মাওয়ার দিকে বর্ষার সময় কাজ করা সম্ভব না। পরিবেশগত কিছু বিধি-নিষেধও আছে।'

৪২ টি পিলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত কাজ চলছে ২৬টিতে। প্রতিটি পিলারে ৬টি করে মোট ২৫২টি পিলার বা খুঁটির মধ্যে বসানো হয়েছে ১১৫টি। বর্তমানে ৩টি হ্যামারই পুরো সক্রিয় থাকায় প্রতি ২ দিনে একটি করে খুঁটি বসানো সম্ভব হচ্ছে।