SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৭-০২-২০১৮ ০৪:২৯:৩৪

অসহায় বৃদ্ধদের সহায় একদল ছাত্র

untitled-14

মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন আর আত্মকেন্দ্রিকতার এই সমাজে তরুণ-যুবকদের নিয়ে অনেকেই যখন আশাহত, তখন অসহায় বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোবিন্দগঞ্জের ছাত্র-যুবকরা। পরিবার পরিজন থেকে নিগৃহীত বৃদ্ধদের জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছেন তারা।

স্বামী মারা যাওয়ার পর নিঃসন্তান মজিরনের বেঁচে থাকার অবলম্বন ৮ শতক জমি দলিল করে নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় স্বজনরা। তারপর অসহায় এই বৃদ্ধার ঠিকানা হয় ফুটপাতে। সেখান থেকে তুলে এনে তার ভরণ পোষণের দায়িত্ব নেয় বৃদ্ধসেবা বৃদ্ধাশ্রম। এখানে আশ্রিত প্রত্যেকের জীবনের গল্প প্রায় একই রকম।
 
এক বৃদ্ধা বলেন, 'আমার একটা মেয়ে ছিলো, মরা গেছে। বিয়ে দিয়েছিলাম কিশোরগঞ্জে। সে মারা যাবার পর ভাইয়েরা আমাকে অত্যাচার করে।'

অপর এক বৃদ্ধা বলেন, 'আমাকে এক গ্লাস পানি এনে না দিলে খেতে পারি না। তারা আমাকে তিন বেলা খেতে দিচ্ছে। কাপড়-চোপড়, বিছানা ধুয়ে দিচ্ছে।'

জীবনের শেষ সময়ে অবহেলা-বঞ্চনার শিকার মানুষগুলোর জন্য একটু নিরাপত্তা হয়ে পাশে দাঁড়াতে প্রথম উদ্যোগ নেয় কলেজ শিক্ষার্থী আপেল মাহমুদ। পরে যোগ দেয় তার ১১ বন্ধু। বঞ্চিত মানুষগুলোর জন্য দ্বারে দ্বারে হাত পাতেন তারা।

এক উদ্যোক্তা বলেন, 'এর জন্য অনেক অর্থের দরকার হয়। যেহেতু আমি একজন ছাত্র তাই এই খরচ নিজে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।'

এলাকার ধনী ব্যক্তিদের কাছে এই বৃদ্ধাশ্রমটি পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তাও চেয়েছেন তারা।

প্রিয় সন্তান এমনকি আত্মীয়-স্বজন, কেউই দায়িত্ব না নেয়ায় কিছু দিন আগেও দু’মুঠো ভাতের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছেন অসহায় এই মানুষগুলো। তাদের জন্য এলাকার ছাত্র-যুবকরা গড়ে তোলেন এই বৃদ্ধাশ্রম। এখন অনেকটা আর্থিক সঙ্কটের কারণে সেই আয়োজকদেরও রণেভঙ্গের যোগাড় হয়েছে।

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সহায়তার আশ্বাস উন্নয়নকর্মীদের। আর নিবন্ধন ছাড়া সহযোগিতার সুযোগ নেই বলছে সমাজ সেবা বিভাগ।

গাইবান্ধার এসকেএস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান রাসেল আহমেদ লিটন বলেন, 'সরকারের যে প্রতিষ্ঠান আছে, বিশেষ করে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং আমাদের মতো যেসকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে তারাও যেনো এটার কল্যাণে এগিয়ে আসে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করুক।'

গাইবান্ধা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক প্রামাণিক বলেন, 'তারা যদি আমাদের কাছে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আসে এবং বিভিন্নভাবে সহায়তা চায় তাহলে আমরা অবশ্যই সহায়তা করতে পারবো।'

২০১৭ সালের মে মাসে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বোয়ালিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বৃদ্ধাশ্রম। এখানে আশ্রিত ১৬ জন বৃদ্ধের থাকা-খাওয়ার জন্য মাসে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।