SomoyNews.TV

সাক্ষাৎকার

আপডেট- ২৫-০২-২০১৮ ১৭:১৩:৫৭

গাজী আনিস একটি ব্যতিক্রমী বিনোদনের নাম (ভিডিও)

gazi-anis

সময় টেলিভিশনের একুশে বইমেলা বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ী ছিলেন গাজী আনিস। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ লেখক শান্তনু চৌধুরীর সঙ্গে লাইভ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন সময় টিভির মঞ্চে। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে গাজী আনিস তাঁর চমৎকার প্রতিভা প্রদর্শন করেন। ২০ সেকেন্ডে ৬৪ জেলার নাম, ২ মিনিটে ৪১১ জন নারীর নাম, ঢাকার ৫৪টি মেট্রোপলিটন থানার নাম, রবি ঠাকুরের ৯৫টি ছোট গল্পের নাম। তবে ২ মিনিটে ৪১১ নারীর নাম বলা প্রতিভাটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে ছড়িয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ ভিউ হয় এবং একই সাথে সমালোচিত হয়।

গাজী আনিস অনর্গল নাম বলায় পারদর্শী। জাদু শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছেন, আবার লেখালেখিও করেন তিনি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সময় টিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের সময়’তে নাম বলা, জাদু প্রদর্শন ও স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।

এক মিনিটে মানবদেহের ২০০ রোগের নাম বলতে পারেন গাজী আনিস। আর মাত্র ২০ সেকেন্ডে বলতে পারেন ৬৪ জেলার নাম। ৪১১ জন নারীর নাম বলতে তাঁর সময় লাগে ২ মিনিট। বিশ্বের ১৯৭ টি স্বাধীন দেশের নাম এবং মাইকেল এইচ হার্ট রচিত ১০০ মনিষীর নাম বলতে তার সময় লাগে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ড। রবি ঠাকুরের ৯৫টি ছোট গল্পের নাম, সুন্দরবনের ৭৪ প্রজাতির মাছের নাম, ১৪৫ জন কবির নাম, তাঁর বন্ধুদের নাম, কুরআনের ১১৪টি সুরার নাম, বিভিন্ন ভাষার নামও বিভিন্ন অঞ্চলের নামসহ ২০ আইটেমের ৩৫০০ নাম তাঁর ঠোটস্থ।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার অন্তর্গত ভুরুলিয়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে গাজী আনিসের জন্ম। সেখানেই কেটেছে শৈশব এবং কৈশোর। প্রকৃতির খুব কাছে থেকে বেড়ে উঠেছেন গাজী আনিস। তাঁর বাবা চিংড়ী চাষি এবং মা গৃহিণী। ভূরুলিয়া নাগবাটি স্কুলে মাধ্যমিক এবং শ্যামনগর সরকারি মহসিন কলেজ থেকে শেষ করেছেন উচ্চমাধ্যমিক। আর বর্তমানে পড়ছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে।

শুধুমাত্র কয়েকটি পারফর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন গাজী আনিস। তিনি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মূলক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন। তার নিজের জেলার সংগঠন ‘সুন্দরবন স্টুডেন্টস সলিডারিটি টিম’ এর সহ-সভাপতি তিনি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব যেমন- ড্যাফোডিল প্রথম আলো বন্ধুসভার, সভাপতি; ইয়ুথ এগেইনস্ট হাঙ্গার, ডি আই ইউ ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক, এজিং সাপোর্ট ফোরাম, সোশ্যাল বিজনেস স্টুডেন্ট ফোরাম, ড্যাফোডিল খুলনা বিভাগীয় পরিবার, কমিউনিকেশন ক্লাব, অল স্টারস থিয়েটার ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্বপালন করছেন তিনি। একজন সংগঠক হিসেবে নিজেকে নিয়মিত পাকাপোক্ত করছেন তিনি।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত দেশের সর্ববৃহৎ যুব ছায়া সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনের সাতক্ষীরা-৪ আসনের যুব সাংসদ হিসেবে বক্তৃতা পেশ করেছেন তিনি। ৪র্থ, ৫ম অধিবেশনে একই আসন থেকে বক্তৃতা পেশ করেন তিনি। ভবিষ্যতে নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেও দেখতে চান গাজী আনিস।

একজন ভালো মানুষ হয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার জন্য গাজী আনিস একটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত কাজ করছেন। লাইব্রেরীটি প্রতিষ্ঠা খরচ হবে ২০ লক্ষাধিক টাকা। তবুও তিনি দমে যাননি। তিনি আশাবাদী যে, একদিন তিনি সফল হবেন। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীটি তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় প্রতিষ্ঠা করতে চান।

লেখাপড়া ও অন্যান্য চাপ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সংস্কৃতির চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন গাজী আনিস। অবসর পেলে লিখতে বসেন ছড়া, কবিতা, গান ও ছোটগল্প। লেখেন জাতীয় দৈনিক গুলোতেও। প্রিয় লেখকের মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য। লেখালেখির জন্য তাঁর বন্ধুমহল ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা কবি আনিস নামেও ডাকে। গাজী আনিস বলেন, ‘আমি চাই একজন ভালো মানের সাংবাদিক হতে আর স্বপ্ন দেখি শিল্প, সাহিত্যও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের।’