SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৪-০২-২০১৮ ০৫:৪৭:২০

পঁচে গেছে পান, ঝরে গেছে চাষির স্বপ্ন

dinaj-pan

এবারের তীব্র শীতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দিনাজপুরের হিলিসহ আশপাশের জেলার পানের আবাদে। পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাতাসহ পান গাছ। কীটনাশক প্রয়োগেও কোন সুফল পাচ্ছেন না চাষিরা। সংকট থাকায় স্থানীয় বাজারে পান বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এবারের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

 

হিলি'র মোংলা স্থলবন্দরের কয়েকটি পানের বরজের চিত্র। এমন ছোট বড় অন্তত হাজার খানেক পানের বরজ রয়েছে হিলিসহ আশপাশের এলাকায়। সব বরজেরই এ করুণ দশা। তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে পানের বোঁটা। ঝড়ে পড়ছে গাছের পান। শুকিয়ে মরে যাচ্ছে অনেক পান গাছ। এমন অবস্থায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

পান চাষিরা জানান, শতকরা ১০০ ভাগের মধ্যে ৮৫ ভাগ বরজই ক্ষতিগ্রস্ত। আমাদের কোটি টাকার উপরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আছে।

এদিকে এক পান চাষি অভিযোগ করে জানান, সরকার পানের রোগের জন্য কোন ওষুধ বের করতে পারে নাই। আলু পঁচা রোগের যে ওষুধ সেগুলো আমাদেরকে দেয়।  আমরা সেইগুলোই ব্যবহার করি কোন কাজে আসে না।

আরেক কৃষক জানান, আমার পানের এই বরজটা বিক্রি করা যেত দুই লাখ টাকা, এখন বিক্রি করতে হবে ১ লাখ টাকা।

এদিকে, রোগ নিরসনে কীটনাশক ব্যবহার করেও মিলছে না সুফল। আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে সংকট। পাইকারি ও খুচরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পান। অন্যদিকে পানের রোগ দমনে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

দিনাজপুর হাকিমপুরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা নাজনীন বলেন, 'এই মুহূর্তে আমাদের পরামর্শ পানে ডোগা নিচে নামিয়ে দিয়ে মাটি অথবা সার দিলে হয়তো পানের নতুন আগাছা বের হবে। এবং সেখান নতুন পানও আসবে।'

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে।