SomoyNews.TV

সাক্ষাৎকার

আপডেট- ১৮-০২-২০১৮ ২১:৫৯:১৬

আকাশ আমার হৃদয়, মিডিয়া আমার আত্মা: নানজীবা

nanziba

বয়স এখনও ১৮ র গণ্ডিতে পৌঁছায়নি কিন্তু একাধারে ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, পরিচালক ,উপস্থাপিকা, লেখক , ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর  এবং বিতার্কিক। বলছি নানামুখী প্রতিভার অধিকারী নানজীবা খানের কথা। এত অল্প বয়সে যে জীবনকে ইচ্ছামত রঙে রঙে সাজানো যায়, তা নানজীবা খানকে না দেখলে বোঝা যাবে না।

বর্তমানে তিনি “অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল” এ  “ট্রেইনি পাইলট” হিসেবে অধ্যয়ন করছেন।স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম(হ্যালো) র সাংবাদিক, বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন।

২ বছরের গবেষণা শেষে চলতি বই মেলায় তাঁর লেখা প্রথম বই “অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়” সাফল্যের সাথে বিক্রি হচ্ছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন । বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজেই।

২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের ১ম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক।

২য় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘কাগজ কেটে ছবি আঁকি” অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ার জীবন শুরু করেন তিনি।বর্তমানে বিটিভি তে “আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি”, “আমাদের কথা”, “আনন্দ ভুবন”, ও “শুভ সকাল” অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন।

৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শিশু সাংবাদিক হিসেবে জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানের । পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন  মন্ত্রী, সমাজকল্যান মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী,  তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী,স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী,  মেয়র সাঈদ খোকন সহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট  মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, এমদাদুল হক মিলন,  হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর,জুয়েল আইচ,  মীর আহসান,  র‌্যাবের প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস, ওয়াল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্নাইডার ও ভারতের রক্ষামন্ত্রী সহ এ পর্যন্ত ৭৫ জন বিশিষ্ট জনদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।


নানজীবা খানের অসাধারণ একটি সাক্ষাৎকার (ভিডিও) দেখুন:

একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দ্বায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামরিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির  “ভাইস প্রেসিডেন্ট” হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার।

দাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন “বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়হুল সফর ভারতে অংশগ্রহন করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং রক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া,ভারত,সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান,কিরকিস্তান,ভিয়েতনাম,শ্রীলংকা, নেপাল,ভুটান,মালদ্বীপ সহ  দেশ সহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  “রাইফেলে ফায়ারিং”, “অ্যাসোল্ড কোর্স”, “বেয়ানোট ফাইটিং” ও “সশস্ত্র সালাম”।  

নানজীবা বলেন, “কাজ শিখার চেষ্টা করছি। আর সবার দোয়া থাকতে আশা করি লক্ষ্যে পৌছাতে পারব। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবিনা। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক।আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনবে”।

মিডিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, “শুধু মিডিয়া না, আমি মনে করি প্রত্যেক সেক্টরে কাজ করতে হলে কৌশলী হতে হবে। কারণ আমার মতে একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ  দুইটি পিঠই থাকে। তাই অবস্থা বুঝে কৌশল অবলম্বন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাতারাতি তারকা হওয়া হয়তো অনেকটাই সহজ কিন্তু সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন। তাই কাজ শিখতেছি এবং পরবর্তীতে মিডিয়ার হাল ধরার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতেছি। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও চাই পুরণ করতে”।

আমার সব কিছুর প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। মা আমাকে শুধু সাহায্যই করেননা বরং সেই আমার সব অর্জনের প্রেরণা। সারাদিন অফিস করে এসেও সে আমাকে প্রেরণা যোগাতে ভুলে যাননা কোনোদিনই। তবে আমার কাজের একমাত্র সাহস ও প্রেরণার ভান্ডার আমার ছোট ভাই। আমি যখনই ভাবি আমি আর পারবনা তখনই ওর কথা মনে করি তখন এক অদ্ভুত শক্তি আমাকে এগিয়ে যাওয়া সাহস দেয়” ।

একসময় নানজীবার স্বপ্ন ছিল পুরোদমে একজন চিত্রশিল্পী হবেন, কিন্তু এখন সে স্বপ্ন বদলেছে।  তিনি আরও বলেন, মিডিয়াতে তারকা হয়ে কাজ করতে আসিনি, মিডিয়াতে নেতৃত্ব দিতে চাই। সেই সাথে চাই উড়ন্ত পাখিদের সাথে আকাশে উড়তে, মেঘের সাথে কথা বলতে আর আকাশের  তাঁরাদের সাথে গল্প করতে।  একজন বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের পরিচিতি চাই, নিজের কাজ দিয়ে দেশকে তুলে ধরতে চাই বিশ্ব দরবারে। আর সেই উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ শেখার চেষ্টা করছি।

>> সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : তাহিয়া রুবাইয়াত অপলা