SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৩-০২-২০১৮ ০৬:১২:০৫

কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না রেললাইনে অপমৃত্যু

rail

নানা ব্যবস্থা নিয়েও কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না রেল লাইনের অপমৃত্যু। গত চার বছরে শুধুমাত্র রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ২ হাজার ৭৭৯টি ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৮১৩ জনের। এর মধ্যে গত বছরেই ৮১২ জনের  মৃত্যু হয়েছে। যা এযাবতকালে রেললাইনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু।

সংরক্ষিত এলাকা না হলেও দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটাচলা কিংবা বসা একেবারেই নিষিদ্ধ। কিন্তু তা কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না। যে কারণে রেল লাইন কেন্দ্রিক মৃত্যুর হার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। রেলওয়ে পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ২০১৭ সালে ৮১২ জন ,২০১৬ সালে ৭৬২টি ৭৭০ জন, ২০১৫ সালে ৫৯৫ জন এবং ২০১৪ সালে ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে তিন হাজারের বেশি।

গত চার বছরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু

সাল       ঘটনা    মৃত্যু
২০১৭    ৭৯৪     ৮১২
২০১৬    ৭৬২     ৭৭০
২০১৫    ৫৮৮    ৫৯৫
২০১৪    ৬৩৫    ৬৩৬

বাংলাদেশ রেলওয়ে( পূর্বাঞ্চল) জি আর পি পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 'রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় মানুষকে বিশেষ করে স্টেশনের মধ্যে যেসব দোকান-পাট আছে এবং আশপাশে যে বাড়ি-ঘর আছে তাদেরকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক একটা মিটিং করা হয়।'

মূলত কানে হেডফোন লাগিয়ে রেল লাইনের ওপর দিয়ে হাঁটা, রেললাইনের ওপর বসে আড্ডা দেয়া এবং রেলওয়ে ক্রসিং পার হতে গিয়ে মানুষ বেশি মারা যাচ্ছে বেশি।

গত চার বছরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে মৃত্যুর ঘটনা

সাল          কানে হেড ফোন    রেল লাইনে আড্ডা    ক্রসিং দ্রুত পারাপার
২০১৭             ৩৭                    ২৯০                       ৩৩৭
২০১৬             ৪৪                    ২৭২                       ৩৩১
২০১৫             ২৩                    ৩৪৯                       ১৮৯
২০১৪             ১১৫                  ২৮৬                        ২১২

বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) লোকো মাষ্টার মোহাম্মদ হানিফ বলেন, 'অসাবধানতাবশত অনেক লোক রেললাইনের ওপর বসে থাকে। রেললাইনের উপরে বসে আড্ডা দেয়, অন্যমনস্ক হয়ে এর উপর দিয়ে হাটাহাটি করে। আমরা হুইসেল দিলেও তাদের কানে আসে না।'

বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) লোকো মাষ্টার মাহফুজুর রহমান বলেন, 'অনেকেই কানে হেডফোন দিয়ে রেললাইনের উপর দিয়ে হাটে। হুইসেল দিলেও সে তখন শুনতে পারে না। ওই মুহূর্তে ব্রেক করাটাও সম্ভব হয় না।'

রেললাইনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা ছাড়া আর তেমন কিছুই করতে পারেনা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'রেললাইনে হাটা বা রেললাইন ক্রস করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিষয়ে আমরা মাইকিং করি, পোস্টারিং করি।'

রেল দুর্ঘটনায় নিহতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জি আর পি থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। রেলওয়ে আইন অনুযায়ী দুর্ঘটনার পুরো দায় সাধারণ মানুষের উপর পড়ায় ক্ষতিপূরণও পাওয়া যায় না।