SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১১-০১-২০১৭ ১৬:২৯:১৭

২০৩০ সাল নাগাদ ধূমপানে ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

who-smoke

২০৩০ সাল নাগাদ ধূমপানের কারণে বছরে অন্তত ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট-এর যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব মৃত্যুর ৮০ শতাংশই ঘটে থাকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। প্রতিবছর ধূমপানজনিত কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয় বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ধূমপানের কারণে মৃত্যু হতে পারে। ধূমপানের কারণে ক্যান্সার হয়। এ ধরনের নানা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি সত্ত্বেও, বিশ্বে কোনভাবেই কমছে না ধূমপায়ীর সংখ্যা। বরং প্রতিবছর এ সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে বিশ্বব্যাপী ধূমপানজনিত মৃত্যুর সংখ্যা।

এমনি প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট-এর এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, ধূমপানজনিত কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৮০ লাখে। ধূমপানজনিত মৃত্যু বিশ্বের নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে বেশি হয়ে থাকে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা আছে, ধূমপান এক ধরণের নেশা। গরীব মানুষেরা তাদের দৈনন্দিন অন্যান্য ব্যয়ের মতোই ধূমপানের পেছনেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকে, যা বন্ধে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। গবেষণায় এটি ম্পষ্ট যে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ করা গেলে, অর্থনৈতিক এবং শারীরিক দুদিক থেকেই মানুষ উপকৃত হবে।

৬৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, তামাকজাত দ্রব্য ক্রয় ও ধূমপান জনিত রোগ-ব্যাধির চিকিৎসা বাবদ প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী যে অর্থ ব্যয় করা হয় তার পরিমাণ অন্তত এক লক্ষ কোটি ডলার। আবার ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে তামাকজাত দ্রব্যের বিপণন থেকে রাজস্ব বাবদ বিশ্বের সরকারগুলো আয় করেছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলার।

ধূমপান নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মানুষের জীবন রক্ষা পাবে বটে, তবে একই সাথে সরকারগুলোর রাজস্ব আয়ও কমবে। তাই ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আসলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানায়, বর্তমানে ধূমপানজনিত কারণে প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৬০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। আর এটি নিয়ন্ত্রণে টোবাকো খাতে সর্বোচ্চ হারে করারোপ সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি বলেও জানানো হয়।