আপডেট
১৩-০১-২০১৮, ১৭:১২
আন্তর্জাতিক সময়

সিরিয়ায় তুরস্ক ও মার্কিন সেনাদের উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা

syria-today-u
সিরিয়ার ইদলিবে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তুরস্ককে দায়ী করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। একইসঙ্গে দেশটিতে তুরস্ক ও মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি অবৈধ উল্লেখ করে তাদের অবিলম্বে সেখান থেকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে দামেস্ক। এরমধ্যেই ইদলিবে সরকারি ও বিদ্রোহীদের মধ্যকার সংঘর্ষের কারনে নতুন কোরে শরণার্থী সংকট সৃষ্টির আশঙ্কায়, সিরীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রাশিয়া ও ইরানের প্রতি আহবান জানিয়েছে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। এদিকে, প্রায় দেড় বছর পর জর্ডান সীমান্তের কাছে সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ পাঠিয়েছে জাতিসংঘ ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জর্ডান সীমান্তের কাছে সিরিয়ার রুকবান শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ। জর্ডান সরকারের অনুমতি পাওয়ায় ২০১৬ সালের আগস্টের পর শুক্রবার প্রথমবার এই শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ পাঠায় জাতিসংঘ ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠন।

জর্ডানে জাতিসংঘ অধিবাসী এবং মানবিক ত্রাণ সমন্বয়ক অ্যান্ডার্স পেডারসেন বলেন, এখানকার শরণার্থীদের জন্য এটা এখন খুবই জরুরী। আমরা জানি এদের অবস্থা শোচনীয়। গত রমজানের পর এখানে কোন ত্রাণ আসেনি।

বেহাল দশা বাতাবো এলাকার শিবিরের শরণার্থীদেরও। ইদলিব প্রদেশের আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানবন্দরের কাছে বিমান হামলা এবং সরকারি ও বিদ্রোহীদের মধ্যকার সংঘর্ষের কারণে গৃহহীন হাজারো মানুষ এখানে দিন পার করছে বহু কষ্টে। 

তারা বলেন, বিমান হামলায় আমাদের ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। পরিবার সন্তান নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলাম। এই হার কাঁপানো শীতে কে ঘর ছাড়তে চায়? পরে এই শিবিরে আশ্রয় পাই। তবে এখানেও অনেক কষ্ট হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, আমরা সিনজারের বাসিন্দা। বোমা হামলা ও যুদ্ধের কারনে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। তবে এখানেও ঠাণ্ডার তীব্রতায় আমার সন্তানরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।


এরমধ্যেই সরকারি বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে ইদলিবে তাদের লক্ষ্য কোরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহী দল জইশ আল-নসর। হামলার পর প্রদেশের খুয়ায়েন শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবে দু'পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারনে নতুন কোরে শরণার্থী সংকটের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তুরস্ক। এ পরিস্থিতিতে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তের কাছে সিরীয় সেনা অভিযান নিয়ন্ত্রণে রাশিয়া ও ইরানের প্রতি আহবান জানান তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।

বিনালি ইলদিরিম বলেন, ক্রমাগত হামলার কারণে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নতুন কোরে শরণার্থী সমস্যার সৃষ্টি হবে। যেখানে লাখো মানুষ বাস করে সেখানে সন্ত্রাসী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে পার্থক্য বের করা কিভাবে সম্ভব? এতে সিরিয়ার শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে। এখন বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের জন্য সিরিয়ার সরকারকে সতর্ক করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে তুরস্ক সিরীয় সরকারি বাহিনীকে সতর্ক করার কথা বললেও অন্যদিকে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে তাদের উপর হামলার পরিকল্পনার জন্য আঙ্কারাকে দায়ি করেছে। সিরিয়ান ফিল্ড কমান্ডার অভিযোগ করেন, ইদলিবে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালানোর সময় আইএস জঙ্গিদের যুদ্ধসরঞ্জাম দিয়ে সরাসরি সহায়তা করে তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টির সন্ত্রাসীরা।

একইদিন আবারও সরকারের অনুমতি ছাড়া সিরিয়ায় বিদেশি সেনার উপস্থিতি এবং ঘাঁটি নির্মাণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় বলে সতর্ক করেছে দামেস্ক। একে দখলদারিত্বের সঙ্গেও তুলনা করেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল আল-মেকদাদ।

এদিকে সিরিয়ায় রাশিয়ার হেমেইমিম বিমানঘাঁটিতে মর্টার হামলার সঙ্গে জড়িত বিদেশি মদদপুষ্ট উগ্র সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গেল ৩১ ডিসেম্বর একদল সন্ত্রাসী সিরিয়ার ওই বিমানঘাঁটিতে মর্টার হামলা চালালে দুই রুশ সেনা নিহত হন।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে