আন্তর্জাতিক সময় ডেস্ক
আপডেট
১২-০১-২০১৮, ১৬:৪০

ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ

untitled-7
ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ট্রাম্প প্রশাসন যখন চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে চুক্তির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে করা ইরানের বর্তমান চুক্তির চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে তা দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। আর পরমাণু চুক্তির সঙ্গে অন্য কোনো ইস্যুকে না জড়াতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বার্লিন। এরমধ্যেই তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারির ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

রাশিয়ায় ঝটিকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে যান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। এসময় ইউরোপিয়ান কমিশনের সামনে জাভেদ জারিফের সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করে কয়েকশ' প্রবাসী ইরানি। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে করা ছয় জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়ে শুক্রবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলে এর ভবিষ্যৎ কি হবে তা আলোচনা করতেই জাভেদ জারিফের ইউরোপ সফর।

পরে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানান ইইউ নেতারা। ফেদেরিকা মোঘেরিনি বলেন, চুক্তি রক্ষায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইইউ'র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি বলেন, 'এই চুক্তিটি কাজ করছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভালোভাবে নজরদারি করতে পারছে। এরকম একটি চুক্তি রক্ষা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এক থাকা দরকার। যা বিশ্বকে রক্ষা করতে পারবে।'

এসময় পরমাণু চুক্তির সঙ্গে আলাদা কোনো বিষয় না জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমা গ্যাব্রিয়েল।


তিনি বলেন, 'পরমাণু চুক্তি রক্ষা করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমাদেরকে দু'টি জিনিস পরস্পর থেকে আলাদা করতে হবে। আর তা হলো ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা এবং অন্যটি হচ্ছে আঞ্চলিক ইস্যুতে ইরানের কঠিন ভূমিকা ও তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি।'

আর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, বর্তমান চুক্তিই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে পারে।

বরিস জনসন বলেন, 'আমি মনে করি না, কেউ এর চেয়ে ভালো কোনো উপায় নিয়ে আসতে পারবে। যারা এটির বিরোধিতা করছে, তারা আরো ভালো সমাধান নিয়ে আসুন, কারণ এর চেয়ে ভালো কোনো চুক্তি আমরা দেখতে পাইনি।'

পরমাণু চুক্তির প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের চুক্তি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে সব শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানান ম্যাক্রোঁ।

এদিকে, ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিন বলেন, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না করলে যেকোনো মুহূর্তে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

স্টিভ মুচিন বলেন, 'পরমাণু চুক্তির বাইরেও ইরানকে আরো বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ ও ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে আনতে। তবেই তেহরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।'

এদিকে, চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিতে চাইলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব নাও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে ২০১৫ সালে চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ছয় জাতিগোষ্ঠী। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই চুক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের হুমকি দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে