আপডেট
১২-০১-২০১৮, ০৯:০৪

বগুড়ায় বিদ্যালয়গুলোতে চলছে বাড়তি ফি আদায়

admi-fees1
বগুড়ার শহরের এমপিওভুক্ত ও নন এমপিও বিদ্যালয়গুলোতে বর্ষ ফি’র নামে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। বিদ্যালয় ও শ্রেণিভেদে এর পরিমাণ ৬ থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বছরই সেশন ফির নামে  অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা। শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, অর্থগ্রহণে এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারের নীতিমালা থাকলেও নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে কোন নীতিমালা নেই। আর অতিরিক্ত ফি নেয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক।
এ বছর বগুড়া আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে ইশান। সেশন ও অ্যাডভান্স ফি বাবদ তাকে পরিশোধ করতে হয়েছে ১৪ হাজার ১শ ৮০ টাকা। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী আংশিক এমপিওভুক্ত এই বিদ্যালয়ের সেশন ফি হওয়ার কথা ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। এমপিওভুক্ত শহরের ইয়াকুবিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে সেশন ফি নেয়া হচ্ছে ৬ হাজার টাকা, কিন্তু নেয়ার কথা ২ হাজার টাকা। একইভাবে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে ১৪ থেকে ২২ হাজার, বিয়াম মডেলে ৮ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। বর্ষফির নামে এত বেশি টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা।   

অভিভাবকরা জানান, প্রতিবছরই স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের এই আর্থিক ধাক্কাগুলো দেন। আর প্রতিবছরই ধাপে ধাপে বেতন তো বাড়ছে।

অন্য আরেক অভিভাবক জানান, 'বগুড়া শহরে এমন কোন প্রতিষ্ঠা নেই, যেখানে শিক্ষাবর্ষ ফি ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

অতিরিক্ত বর্ষ ফি আদায়ের  ব্যাপারে এমপিওভুক্ত বিদ্যালয় প্রধানরা বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের জন্য খরচের কথা বলছেন। আর নন এমপিও বিদ্যালয়ের প্রধানরা সম্পূর্ণ খরচই শিক্ষার্থীর  বেতন  থেকে আয় করতে হয় বলে জানালেন।

 বগুড়া আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ  মোস্তফা কামাল বলেন, 'সাম্প্রতিক ৩০টা কম্পিউটার দিয়ে দুইটা ল্যাব করেছি। এছাড়া স্কুলে ৬০ টা আইপি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।


তিনি আরও জানান, সরকারের যে নির্ধারিত সেশন ফি তা দিয়ে এইগুলো করা যাবে না।

 ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন বলেন, 'স্কুলে ৩০ জন শিক্ষক আছে; যারা এমপিওভুক্ত নয় তাদের বেতন দিতে হয়।'

বিদ্যালয়গুলো যাতে সহনীয় পর্যায়ে ফি নেয় ,সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করছেন বলে জানালেন শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক।

বগুড়া জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, 'এ শিক্ষা ফি যাতে সহনীয় পর্যায়ে হয়। এই মর্মে জেলা প্রশাসক মহোদয় একটি চিঠি দিয়েছে। আর আমি সেই চিঠির উত্তর পেলে সেটি আমি স্কুলে প্রচার করবো। যাতে নির্ধারিত ফি বাইরে কোন বাড়তি ফি নেয়া না হয়।'

বগুড়া জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, 'শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করবো; যাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতি বাইরে কোনো কাজ না করেন। আর কেউ যদি নীতি মালা না মানেন. তাহলে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত বাদ দেওয়া হবে।'

২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর সরকারের জারিকৃত নীতিমালায় এমপিওভুক্ত ও আংশিক এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে মফস্বল এলাকায় সেশন চার্জসহ ভর্তির ফি সর্বমোট ৫শ টাকা, উপজেলা এলাকায় ১ হাজার ও জেলা সদরে ২ হাজার টাকা আদায় করা যাবে। এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে ৫ হাজার ও আংশিক এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে ৮ হাজার টাকা আদায় করতে পারবে। আর ইংলিশ ভার্সনের জন্য  ১০ হাজার টাকা।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে