আন্তর্জাতিক সময় ডেস্ক
আপডেট
০৭-১২-২০১৭, ১৪:৪৫
আন্তর্জাতিক সময়

জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণার জেরে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক

999-jpgedt
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার জেরে জরুরি বৈঠক ডেকেছে নিরাপত্তা পরিষদ। ওআইসি'রও জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজাসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স। এদিকে, জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে মার্কিন নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলেছে মার্কিন কনস্যুলেট অফিস। একইসঙ্গে অন্যান্য দেশে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।

জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ক্ষোভে ফুসছেন ফিলিস্তিনিরা। গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী বিক্ষোভ করে হামাস। ট্রাম্পের সমালোচনা করে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, 'আমরা যে কত ক্ষুব্ধ তা ভাষায় বোঝাতে পারবো না। যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা অন্যায় এবং নীতিবহির্ভূত।'

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার জন্য দিনটিকে কালোদিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে পেলেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন-পিএলও। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, এ সিদ্ধান্তে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে মধ্যপ্রাচ্য।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত কেবল শান্তি আলোচনার পথই বন্ধ করবে না। এতে এই অঞ্চলে উগ্রবাদ এবং ধর্মীয় যুদ্ধ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে।'

শুধু ফিলিস্তিনে নয় তুরস্কেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ইস্তাম্বুলে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি ইসরাইলের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।


ধর্মীয়ভাবে পবিত্র নগরী হিসেবে পরিচিত জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দু'দেশই। দশকের পর দশক ধরে স্পর্শকাতর এ বিষয়টিকে সাবধানতার সঙ্গেই মোকাবিলা করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লিগসহ মিত্র দেশের আহ্বানকে তোয়াক্কা না করে বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ওই ঘোষণাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ভেস্তে যাবে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা। একই অবস্থান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর।

ম্যাক্রোঁ বলেন, 'এ সিদ্ধান্তকে মোটেই সমর্থন করে না ফ্রান্স। এটা আন্তর্জাতিক আইন এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার বিরোধী। এতে করে ইসরাইল ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যাবে। আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করতে হবে।'

ট্রাস্পের ঘোষণার বিরোধিতা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।

তবে স্বভাবতই এ পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক মাইলফলক আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইল।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিইনয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, 'এটা একটা ঐতিহাসিক দিন। ৩ হাজার বছর ধরে জেরুজালেম ইহুদিদের রাজধানী। এই শহরটি আমাদের আশার আলো জাগায়। এখানেই আমাদের সবকিছু।'

এদিকে, বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসে নিরাপত্তা জোরদারে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিল। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির পর তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

/ফাএ




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে