লাইফস্টাইল ডেস্ক
আপডেট
০৭-১২-২০১৭, ১২:১২

ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে যা করবেন না

love-jpgedt
ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয় দুজনের মধ্যে। দুজনের মনের মিলেই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে রাগ-অভিমানে অনেক সময় সম্পর্কে বিভেদের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এই বিভেদই বিচ্ছেদের সুর হয়ে ওঠে। আর বিচ্ছেদ যেন না হয় সেদিকেই দুজনেরই লক্ষ্য রাখা উচিত। দুজন যদি সত্যিকারের ভালোবেসে থাকেন তো ভালবাসাকে পূর্ণতা দিতে নিজেদের মধ্যে মানিয়ে নেয়া কথাটা গেঁথে নিতে হবে। আসুন জেনে নেই ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য করনীয় কিছু কাজ।
১. অসম্মানজনক ভাষা : সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পারিক সম্মান ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। তাই এমন কোনো ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় যাতে আপনার ভালোবাসার মানুষটি আহত হন। কেউ যদি এ রকম ভাষা ব্যবহার করেও থাকে, সেটা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। বরং বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলা জরুরি।

২. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা : এমন অনেকেই আছেন যারা তাদের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে একা কোথাও যেতে দেন না। অনেকে আবার সব কাজে ব্যাখ্যা বা কৈফিয়ত দাবি করেন। কথায় কথায় ‘রেড ফ্ল্যাগ’ দেখানো হয়। অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ প্রেমিক বা প্রেমিকাকে আহত করে। এটা সম্পর্ককে ক্ষতিকর পরিণতির দিকেই নিয়ে যায়।

৩. বিশ্বাস ভঙ্গ : সম্মান ও শ্রদ্ধা ছাড়াও পারস্পরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে ভালোবাসা গড়ে ওঠে। আপনি যদি আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বিশ্বাস করতে না পারেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আরো গভীরভাবে ভেবে দেখতে পারেন। গভীর সম্পর্কে যাওয়ার আগে সেটার ইতি টানাও সেক্ষেত্রে ভালো হতে পারে। সম্পর্ক হবে পরিপূর্ণভাবে খোলামেলা, বিশ্বাসযোগ্য ও সহযোগিতামূলক। পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাসের অভাব থাকলে সুসম্পর্ক নষ্ট হবে। বিশ্বাসের অভাব থাকলে বিষয়টিকে অকারণে টেনে নেওয়া বা প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।

৪. যত্নশীল না হওয়া : ভালোবাসার অর্থ একে অন্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া। বিষয়টি বেশ সাধারণ। পেশাজীবনে আমরা বেশিরভাগ সময় অফিসে থাকি। কিন্তু দূরে থাকলেও প্রেমিক বা প্রেমিকার একটু খোঁজ-খবর নিলেই যত্নশীলতার বিষয়টি প্রকাশ পায়। কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘসময় তার খোঁজ না রাখেন বা যত্নশীল না হন- তাহলে আপনার সম্পর্কে ভাটা পড়বে। এ বিষয়টি সম্পর্কের জন্য আখেরে ভালো হয় না।

৫. গুরুত্ব দেওয়া : সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অন্যদের চেয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে কেউ যদি নিজেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, তাহলে সম্পর্ক যে বাজে দিকে গড়াবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভালোবাসা গড়ে ওঠে সমানে সমানে। এটা মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।


৬. নেতিবাচকতার ওপরে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া: নেতিবাচকতাও জীবনেরই অংশ। জীবনে বা সম্পর্কেও কখনো না কখনো তা আসতেই পারে। কিন্তু তা যেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে ছাপিয়ে না ওঠে।

৭. আবেগ-অনুভূতির অভাব : প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার প্রতি আবেগ-অনুভূতির ঘাটতি থাকা উচিত নয়। আবেগের অভাব থাকলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। আপনি যদি ভালোবাসার মানুষটির প্রতি সহানুভূতি বোধ না করেন, তাহলে মনে রাখবেন আপনার ভালোবাসায় ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি অনিবার্যভাবে সম্পর্কে ফাটল ধরাবে।

৮. সঙ্গীর কথা না শোনা : খোলা মনে ও সৎভাবে পরস্পরের অনুভূতি শেয়ার করা উচিত। কেউ যদি তার প্রেমিক বা প্রেমিকের কথা গুরুত্ব দিয়ে না শোনেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব দেখা দেবে। বিষয়টি সম্পর্কের জন্য ক্ষতিই ডেকে আনবে।

৯. সঙ্গী যদি আপনার স্বপ্নের সহযোগী না হন : প্রত্যেকটি মানুষেরই কোনো না কোনো স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নের প্রতি সমর্থন জানানো প্রেমিক বা প্রেমিকার কর্তব্য। স্বপ্নের সারথী হয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। ভালোবাসার মানুষটি যদি আপনার স্বপ্নকে অবজ্ঞা করেন, তাহলে সে সম্পর্ক ভাঙতে বাধ্য।

১০. দায়িত্বহীনতা : জীবন-সংসার চালাতে হলে কাজ করতে হবে। কেউ যদি কাজ কিংবা ব্যবসায় বিমুখ হয়, তাহলে অবশ্যই বিষয়টি শুভ লক্ষণ নয়। তাকে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া উচিত- কর্মবিমুখ মানুষের মধ্যে ভালোবাসা থাকলেও তা সফল হতে পারে না।

সূত্র : টেলিগ্রাফ।

/ফাএ




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে