আন্তর্জাতিক সময় ডেস্ক
আপডেট
০৭-১২-২০১৭, ০৯:১১

জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ফিলিস্তিনের বিক্ষোভ

jeru-crisis-up-jpgedt
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের গাজাসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স। আর এ অঞ্চলে উগ্রবাদ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এদিকে, জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে মার্কিন নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলেছে মার্কিন কনস্যুলেট অফিস। একইসঙ্গে অন্যান্য দেশে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সে খবর অনেকটাই পুরনো। কেবল বাকি ছিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে আরব লিগ। কারো আপত্তিই আমলে নিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্স, তুরস্ক সৌদি আরবসহ অনেক মিত্র দেশের আহ্বানকে তোয়াক্কা না করে বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'দুই দশকেরও বেশি সময়ের ছাড় দিয়েও আমরা ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি। তবে শান্তি আলোচনা সফল করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমার ক্ষমতার মধ্যে এ ধরনের একটি চুক্তি বাস্তবায়নে ইচ্ছুক আমি।'

ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পরপরই গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী বিক্ষোভ করে হামাস। ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। একই সময় তুরস্কের ইস্তাম্বুলেও যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী বিক্ষোভ বের করা হয়। ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি ইসরাইলের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার জন্য দিনটিকে কালোদিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে পেলেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন-পিএলও। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, এ ধরনের ঘোষণার কারণে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে মধ্যপ্রাচ্য।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত কেবল শান্তি আলোচনার পথই বন্ধ করবে না। এতে এই অঞ্চলে উগ্রবাদ এবং ধর্মীয় যুদ্ধ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে।'

যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণায় সায় নেই যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ মিত্রদেশগুলোর। ট্রাম্পের ওই ঘোষণাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে ভেস্তে যাবে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা। একইমত দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুলে ম্যাক্রোঁ। এছাড়া, ট্রাস্পের ঘোষণার বিরোধিতা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক মাইলফলক আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিইয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিইনয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, 'এটা একটা ঐতিহাসিক দিন। ৩ হাজার বছর ধরে জেরুজালেম ইহুদিদের রাজধানী। এই শহরটি আমাদের আশার আলো জাগায়। এখানেই আমাদের সবকিছু।'

এদিকে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির পর তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

/ফাএ




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে