আপডেট
০৫-১২-২০১৭, ০৩:৫৭

সিল্কের হারানো ঐতিহ্য কি ফিরবে?

untitled-4
নানা জটিলতায় কোটি কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দশ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে রাজশাহী রেশম কারখানা। শুরুতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রবেশের সম্ভাবনা দেখা দিলেও আজ সেটা শুধু স্মৃতি। অবশ্য ব্যবসায়ীদের মতে, পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আবারো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তবে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা বলছেন, সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, ১৯৬০ সালে রেশম কারখানা স্থাপনের পরের বছর এটি মডেল কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সে সময় এই অঞ্চলে রেশম পোকার ডিম এবং গুটি উৎপাদন করতো চাষিরা, যা থেকে তৈরি হতো সুতা। এরপর নিখুঁত বুননের মাধ্যমে তৈরি হতো রেশমি পোশাক। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত কারখানাটি লাভজনক থাকলেও পরে কোটি কোটি টাকা লোকসানের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে প্রতিষ্ঠানটি। এক পর্যায়ে মূলধন সরবরাহ করতে না পারায় ২০০৭ সালে বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। সে সময় লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ৬০ লক্ষ টাকায়।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনসুর আলী বলেন, 'রেশম বস্ত্র উৎপাদনের জন্য দুইটা ফ্যাক্টরি ছিলো। একটা রাজশাহী রেশম কারখানা এবং আরেকটা ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে কারখানা দু'টি বন্ধ করে দেয়া হয় ফলে দেশীয় রেশম সুতার বাজারটা আরো নষ্ট হয়ে যায়।'

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা উন্নয়ন প্রকল্পের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন বলেন, 'আমদানি শুল্ক ফ্রি করে দেয়ায় আমাদের দেশের চাষিরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি।'

শুরুতে এই শিল্পে বহু কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রবেশসহ নানা সম্ভাবনা দেখা দিলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে রাজশাহী রেশম কারখানাটি। দশ বছর ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখনও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন রেশম শিল্পের সাথে জড়িতরা।

রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, 'আমাদের পরিকল্পিত চাষে যেতে হবে এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে। এটা সরকারি সেক্টরে করে লাভ নেই, ব্যক্তি মালিকানায় করতে হবে।'


উষা সিল্কের ম্যানেজার মো. জহিরুল ইসলাম অপু বলেন, 'বাইরে থেকে আসা সুতাগুলো যদি নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাহলে দেশীয় পর্যায়ে আবার চাহিদা সৃষ্টি হবে।'

তবে সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আনিস-উল-হক ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, 'আমরা চেষ্টা করছি প্রথমে একটি কারখানা চালু করার জন্য। এটা সফলভাবে চালু করতে পারলে আমরা রাজশাহীর কারখানাটি চালু করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবো।'

১৯৭৭ সালে নতুন ১’শ টি রিলিং মেশিন, ২৩টি শক্তি চালিত ও ১০টি হস্ত চালিত তাঁত স্থাপন করলেও আর লাভের মুখ দেখেনি কারখানাটি।

/এসএম




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে