আপডেট
১৫-১১-২০১৭, ১২:৪২

'ট্রাম্প পরমাণু হামলার নির্দেশ দিলে মুখ থুবড়ে পড়বে'

trump-power2
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরমাণু হামলার নির্দেশের ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন সিনেটে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অস্থির, অতিপরিবর্তনশীল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তবজ্ঞানবর্জিত উল্লেখ করে ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেছেন, ট্রাম্প যদি পরমাণু হামলার নির্দেশ দেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শুরুতেই তা মুখ থুবড়ে পড়বে।
একইভাবে প্রেসিডেন্টের অযৌক্তিক আদেশ পালনে সশস্ত্র বাহিনী বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নীতিনির্ধারক কমান্ডার রবার্ট কেহলার। তবে, মার্কিন পরমাণু অস্ত্রের ইতিহাসে এর কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের হাতেই রয়েছে।

৪০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের পরমাণু হামলার কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললো মার্কিন কংগ্রেস। 'পরমাণু হামলার নির্দেশ প্রদানের কর্তৃত্ব' শীর্ষক সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শুনাতিতে সিনেটর বেন কার্ডিন জানিয়েছেন, কোনো ধরনের সংযম ছাড়া সত্যিই প্রেসিডেন্ট পরমাণু হামলার নির্দেশ দেবেন কী না, এটি জনগণের প্রশ্ন এবং একই বিষয়ে তারা শঙ্কিত।

মার্কিন সিনেটর বেন কার্ডিন বলেন, 'গেলো আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি না দেয়াই উত্তর কোরিয়ার জন্য উত্তম হবে। অন্যথায় তাদেরকে ছারখার করে দেয়া হবে। যা বিশ্ববাসী কখনো দেখেনি।

এছাড়া, প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন, উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো উপায় নেই। উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একের পর এক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ই মানুষের মনে এ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।'

উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের বাগযুদ্ধের পরই মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নিয়ে সাবেক মার্কিন কৌশলগত কমান্ডার রবার্ট কেহলার বলেন, যৌক্তিক আদেশ পালনে সশস্ত্র বাহিনী যেমন বাধ্য থাকে তেমনি অযৌক্তিক আদেশ প্রত্যাখানে করাও তাদের বাধ্যবাধকতার মধ্যেই পড়ে।


সাবেক মার্কিন কৌশলগত কমান্ডার রবার্ট কেহলার বলেন, 'এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী অন্ধভাবে কোনো আদেশই পালন করে না। প্রেসিডেন্টের পরমাণু হামলার নির্দেশ অবশ্যই আইনসিদ্ধ। তবে, সশস্ত্র বাহিনীর মূলনীতি হলো- পরমাণু হামলার প্রয়োজন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগে থেকে অনুমান করা। ঠিক একই কাজ প্রতিরক্ষার অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও। অযৌক্তিক কোনো আদেশ প্রত্যাখ্যান করতেও বাধ্য থাকে সশস্ত্র বাহিনী।'

তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের একার পক্ষে পরমাণু হামলার নির্দেশ দেয়া সম্ভব বলে মনে করেন আরেক সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড মারকি। তিনি বলেন, প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরমাণু হামলার নির্দেশের একক ক্ষমতা থাকে। তবে এ পর্যন্ত কেউই এমনটি করেননি।

মার্কিন সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড মারকি বলেন, 'আইন থাকা সত্বেও এককভাবে কারো পক্ষে কোনো দেশের ওপর ধ্বংসাত্মক পরমাণু হামলার চালানো সম্ভব না। যুক্তরাষ্ট্র বিরক্ত হয়ে, কোনো ধরনের আলোচনা, সতর্কতা ছাড়াই পরমাণু হামলা চালাতে পারে, এটা মানুষের ভয় ছাড়া কিছুই না।'

কমান্ডার ইন চীফ হিসেবে এককভাবে পরমাণু হামলার নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন প্রেসিডেন্ট। এ নির্দেশের জন প্রেসিডেন্টকে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা বা ঐক্যমতেরও প্রয়োজন পড়ে না।

এ অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অস্থির, অতিপরিবর্তনশীল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তবজ্ঞানহীন উল্লেখ করে ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেছেন, ট্রাম্প যদি পরমাণু হামলার নির্দেশ দেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শুরুতেই তা মুখ থুবড়ে পড়বে।

পিএস/




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে