আপডেট
১২-১০-২০১৭, ১৭:০৯

'সোয়াট ইনচার্জ' হয়েই 'গ্যাংস্টার' সুমনের বাজিমাত

untitled-3
মডেল থেকে নায়ক হয়ে ওঠা এবিএম সুমন তার রাফ অ্যান্ড টাফ লুকের জন্য এরই মধ্যে নির্মাতাদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। পরপর তিনটি সিনেমায় গ্যাংস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন মডেলিংয়ের মাধ্যমে। মার্শাল আর্টে দক্ষ সুমন তাঁর সুঠাম শরীর ও আকর্ষণীয় চেহারার কারণে দ্রুত নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।
আড়ং, এক্সট্যাসি, ইজিসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের বিলবোর্ডে তিনি পরিচিত মুখ। এছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজ করেছেন সুমন। ‘অচেনা হৃদয়’ ছবির মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী নায়ক এ বি এম সুমনের।

এবার ‘ঢাকা অ্যাটাক’-সিনেমায় তাকে নতুন রূপে দেখা যাচ্ছে। এবিএম সুমন’কে নতুনভাবে দর্শকের সামনে সোয়াট টিমের ইনচার্জ (এসি, সোয়াট) আশফাক চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ সোয়াট দলের ইনচার্জ চরিত্রে সুমনের অসাধারণ অভিনয় দর্শক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

কালো সানগ্লাসের আড়ালে নিরুত্তাপ পাথরের মত মুখের ভঙ্গি’র কথা এখন দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। আর তাই অনেকেই বলছে, এই সিনেমাটি এবিএম সুমন এর ক্যারিয়ারের মাইলস্টোন।

সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই অভিনয়ের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন এবিএম সুমন। মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমগুলোতে তিনি ফিডব্যাক পাচ্ছেন।

সময়নিউজ.টিভির লাইভ অনুষ্ঠান 'তারুণ্যের সময়'-এর সঞ্চালক সাব্বির সামি মুহিতের প্রশ্ন ছিলো তার কাছে, কি বুঝে সাইন করেছিলেন ঢাকা অ্যাটাক সিনেমায়?


এ বিষয়ে সুমন বলেন, সিনেমার গল্পটি পড়ে আমার ভালো লেগেছিলো। আসলে আমাদের দেশের হল বিমুখ দর্শক অনেক দিন থেকেই মুখিয়ে ছিলো হলে গিয়ে ভালো কিছু দেখার জন্য। আর এই সুযোগটিই করে দেয় টাকা অ্যাটাক। আর আমি কাজটি করতে পেরেও খুশি।

তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এ সিনেমায় তো পুলিশের সব অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। পুলিশ, সোয়াত, কাউন্টার ট্যারিরিজম ইউনিট, ভারী অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়টি কিভাবে উপভোগ করেছেন?

এর উত্তরে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি ছিলো দারুণ চ্যালেঞ্জিং। আমাকে সোয়াতের ভারী পোশাক পরতে হয়েছে। ১৮ কেজি ওজনের অস্ত্র ক্যারি করতে হয়েছে। আসলো পুরো বিষয়টি দারুণ উপভোগ করেছি। তারপর যেহেতু রিয়েল অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে সেখানে অস্ত্রগুলো দেখাশোনা এবং আমরা যাতে আবার অস্ত্রের অপব্যবহার না করি (হাসি) সেটি দেখার জন্যও পুলিশ সদস্যরা আমাদের পাহারায় থাকতেন। আসলে পরিস্থিতি এমন ছিলো যদি তুমি অস্ত্র খুইয়ে ফেলো তবে তোমাকে মরতে হবে (হাসি)।

তিনি বলেন, ‘আমার আসলে অনেক দিনের অপেক্ষার ফসল এ ছবিটি। কারণ আমি কাজ করি খুবই কম। সিনেমায় অভিনয় নিয়ে কথা তো অনেকেরই সঙ্গে হয়। কিন্তু যখন আমি দেখি না কেউ একজন একটি ফিল্ম বানাবে তখনই কাজটি করা হয়। অনেক কাজ করার ক্ষুধা কিংবা অনেক টাকা বানাব এজন্য আমি ইন্ডাস্ট্রিতে আসিনি। শিল্পী হয়ে আজীবন বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে এসেছি।’

আর সেদিক থেকে কাজের কোয়ালিটির গুরুত্বের বিষয়টি এবিএম সুমন সব সময় মাথায় রাখেন। আর বললেন, ‘সুযোগটা যখন পেয়েছি, আমি নিয়েছি। আমাকে শতভাগ ব্যবহারের বিষয়টি পরিচালকের হাতে ছিল। আমার ভাল লাগছে এই ভেবে আমি এতোদিন অপেক্ষার পর একটি প্রপার ফিল্মের মাধ্যমে আমি এতদিন পর বাজারে এসেছি। এটা বিশাল শান্তি।’

তিনি বলেন , এ ছবিতে প্রত্যেকটি দৃশ্যধারণের আগে এবিএম সুমন’কে মোমেন্টটা জানতে হয়েছিল-কোন সিকোয়েন্সটা কখন যাচ্ছে। যদিও চিত্রনাট্য তার মুখস্থ ছিল। আর সে অনুযায়ী তাকে চরিত্রটি প্লে করতে হয়েছে। এটা তার ক্যারিয়ারের এ ধরনের প্রথম কোন কাজ। এজন্য তাকে হোম ওয়ার্কও করতে হয়েছে।

এ ছবিতে সুমনের অভিনয়ের পাশাপাশি তার ফিগার, ফিটনেস নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে। প্রসঙ্গটি তুলতেই বললেন,‘ ভবিষ্যতে কাজের ব্যাপারে আমাকে আরও অনেক বেশি যত্নশীল হতে হবে। আমি একটা বিষয় বলে রাখি, আমার অভিনয়ের তেমন কোন ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। আর মাত্র সাড়ে তিন বছর হল অভিনয় শুরু করেছি। দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনারা যাকে পর্দায় দেখেছেন ও সাড়ে তিন বছরের একটা মানুষ। অভিনয়ের প্রতি ভালো লাগা থেকেই নিজেকে তৈরি করা, আর সে চেষ্টা অব্যাহত রাখা। আপনার হলে যান, এবং সিনেমাটি দেখুন। কথা দিচ্ছি দারুণ উপভোগ করবেন।’






DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে