আপডেট
১৪-০৯-২০১৭, ০৮:১০

বাড়ছে যানজট, রাজধানীতে রিকশার সঠিক সংখ্যা জানে না কেউ

untitled-2
মেগাসিটি ঢাকার যানজটের বড় কারণ হিসেবে বরাবরই চিহ্নিত করা হয় ধীরগতির বাহন রিকশাকে। মূল পরিবহন ব্যবস্থায় এখনো লাগাম ছাড়া এ অযান্ত্রিক বাহনটি। দুই সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ৮৮ হাজারের বাইরে নগরীতে চলাচলকারী রিকসার সংখ্যা নিয়ে কোন হিসাব নেই। বেসরকারি হিসেবে, এ সংখ্যা ৬ গুন। তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা রিকশা নিয়ে কোন পরিকল্পনাই নেই সিটি করপোরেশনের।
১৯৮৬ সালে রিকসা ভ্যানের নতুন নিবন্ধন বন্ধ করে তৎকালীন অবিভক্ত সিটি করপোরেশন। এ সংস্থাটির কাছে কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও, বেসরকারি হিসেব বলছে, বর্তমানে রিকশার সংখ্যা ৫ লাখের উপরে।

অনুমোদিত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা নিয়ন্ত্রণে ২০০১ সালে ৬ নভেম্বর রিকসা মালিকদের সাথে বৈঠক করে তৎকালীন সিটি করপোরেশন। করপোরেশনের পরিধি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মালিক সমিতিগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন চলমান ও অনুমোদিত ৩৫ হাজার রিকশা এবং ৮ হাজার ভ্যান নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া, নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমিতির নামে রিকশা চলাচলের সুযোগ রাখা হয়। ১৬ বছরেও কার্যকর হয়নি এ সিদ্ধান্ত।

নতুন নিবন্ধন দ্রুত চালুর দাবি জানিয়ে জাতীয় রিকশা ভ্যান-শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইনসুর আলী বলেন, ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নামে প্লেট ছাপিয়ে শহরে কয়েক লাখ রিকশা চলাচল করছে। এতে শহরের অরাজকতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের পূর্বের চুক্তি বাতিল করেনি সিটি করপোরেশন। দ্রুত ওই রিকশাগুলোর লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি আমরা।'

বিভিন্ন সমিতির নাম ব্যবহার করে রিকশা চালানোর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে সময়ের অনুসন্ধানে। শুধুমাত্র আজিমপুরের একটি ব্যস্ত সড়কেই ১ ঘণ্টার মধ্যে দেখা মিলেছে সাতটি মালিক সমিতির নামফলকের রিকশা। যার তিনটিই মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনকৃত রিকশা পাওয়া গেছে মাত্র একটি।

নানা সমিতির নামে রিকশার নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কয়েকজন রিকশা চালক বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতির পক্ষ থেকে এই রিকশাগুলোর নিবন্ধন দেওয়া হয়। একটি রিকশা হলে লাইসেন্সের অভাব হয় না।


এদিকে, রিকশা নিয়ন্ত্রণে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল সময় নিউজকে বলেন, ‘রিকশা’র সমস্যার চাইতে নাগরিকদের কাছে বড় যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছি আমরা। তবে আস্তে আস্তে কিছু সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধও করা হচ্ছে।

গুলশান, বসুন্ধরা, ক্যান্টনমেন্টের মতো অভিজাত এলাকার সোসাইটিগুলো গড়ে তুলেছে নিয়ন্ত্রিত রিকশা চলাচল ব্যবস্থার। এ ধরনের উদ্যোগ পুরো শহরে সম্প্রসারণ করা গেলে তা শহরকে আরও বসবাস উপযোগী করবে বলে মন্তব্য করে পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ৯০ দশকে শহরে যে পরিমাণ রিকশা ছিল আস্তে আস্তে সেই সংখ্যায় নিয়ে আসতে হবে রিকশার সংখ্যা। নিয়ন্ত্রিত রিকশা চলাচল নিশ্চিত করা গেলে শহরটি আরও বসবাস উপযোগী হয়ে উঠবে।

ভবিষ্যৎ নগরীর কথা চিন্তা করে এখনই রিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে উদ্যোগী হবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে