আপডেট
১৩-০৯-২০১৭, ১৪:৩৭

উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা কুৎসিত হৃদয়ে মানবতার স্থান নাই

o-christophe-rohingya-900-copy
প্রতিদিন দলে দলে মানুষ সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের সীমার মধ্যে প্রবেশ করছে। চোখে মুখে ভয়ংকর আতঙ্ক এবং নির্মম নির্যাতনের ছাপ স্পষ্টত প্রতীয়মান। এতটুকু আশ্রয়, এতটুকু নিরাপত্তার খোঁজে দেশান্তর হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। জোর করে বাস্তুহারা করা হয়েছে।
খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার বিন্দুমাত্র নিশ্চয়তা নেই যে পথে সে পথেই ছুটে আসছেন তারা। প্রাণ বাঁচাতে এ ছুটে চলা। স্বজন-হারা এ মানুষগুলোর গগন বিদীর্ণ আর্তনাদ শাসক গোষ্ঠীর হৃদয়ে মানবতার জন্য জায়গা করতে পারেনি। বলছিলাম মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার ও নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশে ছুটে আসা উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের কথা।

তাদের কথা ভেবে চোখ বন্ধ করলেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাঙ্গালি উদ্বাস্তুদের কথা মনে পড়ে। তখন পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে লাখ লাখ বাঙ্গালি প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছিল।

গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারে পুলিশ ও সেনার কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে উগ্রবাদীদের হামলার সূত্র ধরে রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে রোহিঙ্গা দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এরপর থেকেই প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মতে ২৫ আগস্টের পরে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আদৌ এর সঠিক হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। এখনও হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশ এত বড় চাপ সামলাতে পারছে কি? এ চাপ সামলানো সত্যি বড় কঠিন কিন্তু মানবিকতার দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে আর কত?

মিয়ানমারে যারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা সবাই কি বাংলাদেশে তথা পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিতে পেরেছেন? ঘৃণ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছেন অনেক রোহিঙ্গারা। আরাকান এখন বিভীষিকায় পরিপূর্ণ। সামগ্রিকভাবেই অন্ধকারে ছেয়ে গেছে মিয়ানমার, সেখানে জীবনবোধ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। জীবন-হরণের জিঘাংসায় জর্জরিত তাদের রাজধর্ম। ২০০৭ সালে ‘স্যাফ্রোন রেভল্যুশন’ বা ‘গেরুয়া বিপ্লব’ এরপরে পুরো মিয়ানমার এখন বৌদ্ধ উগ্রবাদীদের চারণভূমি।


মুসলমান অধ্যুষিত রাখাইনকে সবচেয়ে বড় নরক বানিয়ে ফেলেছে দেশটির সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর বৌদ্ধ উগ্রবাদীরা। নয়লী মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাওয়া হত্যা, শেল নিক্ষেপ ও তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার বর্ণনায় ‘জাতিগত নিধনের’ সব উপাদানই আছে। রোহিঙ্গাদের সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি মায়ানমার সরকার। এক প্রকার সহিংসতার মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের বের দেয়া হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। তারা নাকি বাঙ্গালি। বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন করে মিয়ানমারে গিয়েছেন তারা! এখানেই আমার কথা, তারা বাঙ্গালি কিভাবে হলো?

মিয়ানমারের অঙ্গরাজ্য আরাকান বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত এবং অতি প্রাচীনকাল থেকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একসময় সম্রাট আওরঙ্গজেব ও সুজাদের আমলে মোগল সম্রাটদের অধীনেই ছিল আরাকান। আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের চর্চা হয়েছে মধ্যযুগে। মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলমান কবি সৈয়দ আলাওল, দৌলত কাজী প্রমুখ আরাকান রাজসভারই কবি। বাঙালির সঙ্গে আরাকানিদের হাজার বছরের এমন সম্পর্কের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে শুধু বাংলাভাষী ও ধর্মমতে মুসলমান হওয়ার কারণে লাখো রোহিঙ্গাকে উদ্বাস্তু করে দিচ্ছে উগ্র  বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা।
মিয়ানমারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তথাকথিত গণতন্ত্র আন্দোলনের নেত্রী শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি পর্যন্ত বলে দিয়েছেন, রোহিঙ্গারা বাঙালি দুষ্কৃতকারী! সুতরাং তাদের জন্য কোনো মানবাধিকার বা নাগরিক অধিকার খাটে না। নিজের জন্মভূমিতে নাগরিকত্বহীন রোহিঙ্গারা।

১৯৮২ সালে সংবিধান সংশোধন করে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত করা হয়। বলা হয়, যারা ১৮২৩ সালের আগে মিয়ানমার এসেছে, কেবল তারাই সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। ইতিহাস বলে, ১৮২৪ সালে ইঙ্গো-বার্মা যুদ্ধে বর্মি রাজা পরাজিত হলে পুরো ভূখণ্ড ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে চলে যায়। তখন আরাকান রাজ্য ছিল পাহাড় ও জঙ্গলাকীর্ণ। ব্রিটিশ সরকার সমতল থেকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের সেখানে নিয়ে যায় সেই পাহাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার করে আবাদ করতে। সেই থেকে দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা তারা। সে সময় এই অঞ্চল থেকে যেমন বাংলাভাষী মানুষ মিয়ানমারে গেছে, আবার ওখান থেকে রাখাইন জনগোষ্ঠীর লোকজন বাংলায় এসেছে। অনেক রাখাইন এখনো পটুয়াখালী, কক্সবাজার, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করছে। ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার (বার্মা) স্বাধীন হওয়ার পরও সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাস করতে কোনো সমস্যা হয়নি। অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতো তারাও নাগরিক হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। আদি সংবিধানে ছিল, ১৯৪৮ সালের আগে যারা বার্মায় এসেছে, তারা সবাই দেশের নাগরিক। ১৯৬২ সালে মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারির পর থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় বাহিনী কিংবা উগ্রপন্থী রাখাইনদের ধাওয়া খেয়ে প্রায়ই তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে হয়। ১৯৭০ সালে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ দেওয়া বন্ধ করা হয়। ১৯৭৪ সালে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি ১৯৮২ সালের নাগরিক ফরমানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়।

হিংসার বিরুদ্ধে অহিংসা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে তার অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য নোবেল কমিটি ১৯৯১ সালে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় অং সাং সু চিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়। কিন্তু আজ অহিংসার বিরুদ্ধে হিংসারই উন্মত্ত উল্লাস হচ্ছে সু চির মিয়ানমারে। সেখানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্বই শুধু হরণ করা হয়নি, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুরুষদের হত্যা ও নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। নেই নাগরিক অধিকার। আশা ছিল, ২০১৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ক্ষমতায় আসার পর রোহিঙ্গাদের দুঃখ শেষ হবে।

গণতান্ত্রিক শাসনামলে সামরিক সরকারের জাতিবৈরী নীতি বাতিল করে রোহিঙ্গাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। মানবতা-বিরোধীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ২০১২ সালে রোহিঙ্গা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’। আরসার মুখপাত্র হংকং-ভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা এশিয়া টাইমসে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তারা মিয়ানমারের মধ্য থেকেই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আরসা ধর্মভিত্তিক নয়, জাতিগত অধিকারভিত্তিক সংগঠন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আরসাকে ‘সন্ত্রাসবাদী ভাবা’ কিংবা ‘মিয়ানমার সরকারের ফাঁদে পড়া’ থেকে সতর্ক থাকুন। যদিও মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে আরসাকে ‘বাঙালি সন্ত্রাসবাদী’ বলে অভিযোগ করে আসছে।

সম্প্রতি অং সান সু চির অফিস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে সু চি বলেছেন, রাখাইনে সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ আছে! মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। তার দাবি, বিদেশি গণমাধ্যমে যেসব লেখালেখি হচ্ছে তার বেশির ভাগই ‘ভুয়া’। খুবই হাস্যকর, নিরাপদ থাকলে বুঝি রোহিঙ্গারা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে, নদীতে ডুবে মরার ঝুঁকি নিয়ে দেশ ছাড়ছে! ভুয়া হলে কেন বিদেশি সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার কর্মীদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না?

গেল বছর জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে প্রধান করে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কমিশন গঠন করা হয়। চলতি বছরের ২৪ আগস্ট কমিশন দেশটির প্রেসিডেন্ট থিন কিউ এবং রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর অং সান সু চির হাতে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে রাখাইন রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতি, রোহিঙ্গাদের নাগরিক স্বীকার করা, তাদের অবাধ চলাচল এবং সব সম্প্রদায়ের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়। কফি আনানের প্রতিবেদনে ৮৮টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে।

কিন্তু প্রতিবেদন জমা দেয়া মাত্র কয়েক ঘণ্টার পরে তল্লাশি চৌকীতে উগ্রবাদীদের হামলাকে পুঁজি করে সেনাবাহিনী (রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী) রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক হত্যা, লুট ও অগ্নিসংযোগ চালাতে থাকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এর নাম দিয়েছে অপারেশন ক্লিনজিং বা নিশ্চিহ্নকরণ অভিযান। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সরকারকে তিন বিষয়ে চাপ দিয়ে। জাতিসংঘের তদন্ত দলকে কাজ করতে দেয়া, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং রাখাইন সহিংসতায় যুক্ত লোকজনের বিচার করা। সহিংসতায় সরকার বা সেনাবাহিনী যারাই যুক্ত থাকুক না কেন তাদের বিচার করতে সু চি সরকারকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

কয়েক দশক ধরে নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত পাঁচ-ছয় লাখ আরাকানি মানুষকে জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের মধ্যে নানান অপরাধ প্রবণতা ও অপরাধকে সামলেও নিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এভাবে আর কত? বাংলাদেশ আর পারছে না। কিন্তু রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর নির্মম অত্যাচারের ফলে দিকভ্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের সীমানায় হাজির হচ্ছে। পথে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছেন তারা। নাফ নদীর পানিতে লাশ পচে পানির রং যেন পরিবর্তন হয়েছে। এ লাশগুলো পালিয়ে আসা হতভাগ্য নারী-পুরুষ ও শিশুদের।
গণমাধ্যমের হিসেব মতে এ কয়েকদিনের সহিংসতায় প্রায় শতাধিক লাশ পাওয়া যায় নাফ নদীতে। বিশ্বমোড়লদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে না রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি। আমার বিশ্বাস এ মুল্লুকের শক্তিধর রাষ্ট্র ভারত ও চীন চাইলে অতিদ্রুত রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান করতে পারে কিন্তু তারা করছে না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাজার ঠিক রাখতে মানবাধিকার রক্ষায় দাদাদের এতটুকু মাথাব্যথা নেই বললেই চলে। মিয়ানমারে গিয়েছিলেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী। আশায় ছিলাম যে তিনি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে কড়া কিছু বলবেন কিন্তু আশাহত হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে এ দাদা দুই রাষ্ট্র নিজেদের সুবিধার জন্য চুপ থাকে সব সময়। এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচিত জরুরী সভা ডেকে মিয়ানমারকে বলে দেওয়া যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নৃশংস নিপীড়ন বন্ধ না হলে দেশটি চরম নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে।

১১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ বলেছে, রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন করা হচ্ছে। এই তাহলে বিশ্বের অবস্থা। এখানে মানবতা নেই। রোহিঙ্গাদের সমস্যার কারণে বাংলাদেশও নানা সমস্যার মুখে পতিত হচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে শুরু করেছে। অনেক রোহিঙ্গা নির্দিষ্ট জায়গায় না থেকে বাঙ্গালিদের সাথে মিশে গিয়েছে। বাংলাদেশ মানবিক দিক বিবেচনা করে না হয় সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিল কিন্তু চিরকাল তো আর এ বোঝা বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ইতোমধ্যে মিয়ানমারকে কঠোর চাপ দিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রস্তাব গর্হিত করেছে। এতে শ্রদ্ধা জানাই সংসদকে। এখন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসা ছাড়া অন্য কোন উপায় আমি আপাতত দেখছি না।

মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ

লেখক: শিক্ষার্থী, এমএসএস (নৃবিজ্ঞান), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও সভাপতি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে