আপডেট
১৯-০৬-২০১৭, ০৮:২৮

বাঘের খাবারও চুরি হয়! অনিয়মই যেনো নিয়ম ঢাকা চিড়িয়াখানায়

untitled-2
অনিয়মই যেনো নিয়ম ঢাকা চিড়িয়াখানায়। সঠিক পরিচর্যার অভাব তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে রয়েছে প্রাণীদের খাবার নিয়ে নানা টাল-বাহানা। বরাদ্দ পরিমাণের চেয়ে কম দেয়া, এমনকি সময় মত খাবার দেয়ার নিয়মও মানা হচ্ছে না। অবশ্য এসব অনিয়ম-দুর্নীতির দায় অস্বীকার করছে কর্তৃপক্ষ।
বেলা প্রায় ১২টা। খাবারের জন্য হাহাকার। দর্শনার্থীর দেয়া একটি আম নিয়ে কাড়াকাড়ি জাতীয় চিড়িয়াখানার এই উল্লুকগুলোর মাঝে। প্রতিদিন কেবল সকালেই খাবারের বরাদ্দ। তাও মানা হচ্ছে না সঠিকভাবে। সকাল গড়িয়ে তখন দুপুর। অবশেষে, খাবার এলো।

তবে হরিণের খাবারের পাতটি তখনো শূন্য। পাশের খাঁচার বানরের জন্য বরাদ্দ কলার কিছু পরিমাণ ভাগ্যে জুটলো তাদের। তারও ঘণ্টাখানেক পর খাঁচায় থাকা শতাধিক হরিণের জন্য এলো মাত্র এক বস্তা সবজি। একই অবস্থা ময়ূরের খাঁচায়ও।

চিড়িয়াখানার কর্মচারীরা বলেন, 'স্যারেরা যে অনুযায়ী বলছে আমরা তাই করি। আজ একটু দেরি হয়েছে অন্য জায়গায় কাজ ছিল তাই। রোজা রমজানের দিন তো তাই দেরি'

একটু সামনে এগোতেই বানরের খাঁচা। প্রথমটি বানরশূন্য দেখে অবাক হলেও, পরে বোঝা গেলো কারণ। হয়তবা স্বজাতির এই মৃতদেহে বিচলিতরা আশ্রয় নিয়েছে পাশের খাঁচাটিতে। ফ্লেমিংগোর খাঁচার সামনের নির্দেশিকায় লিখা জলাশয়ে বাস। যদিও ভিতরে নেই পানির ছিটেফোঁটাও। আর হায়েনার খাঁচার সামনে মাংস নিয়ে চলছে এমন সূক্ষ্ম কারচুপি। পরে সময় সংবাদের ক্যামেরার টের পেয়ে বালতি রেখেই চলে যান এই কর্মচারী। কিন্তু দূরে যেতেই খানিকটা বাদে এসে নিয়ে গেলেন রেখো যাওয়া সেই মাংসের টুকরো।

বাঘ, কুমির, ভাল্লুক কিংবা বানর। উচ্ছলতা নেই কারো মাঝে। অবোলা এই প্রাণীগুলোকে খাবারের জন্য প্রতিনিয়তই চেয়ে থাকতে হয় চিড়িয়াখানার খাবার পরিবেশনকারীর দিকে। এমন পরিস্থিতি হতাশ করেছে দর্শনার্থীদেরও।


তারা বলেন, 'সকালের খাবার দেয় না।তারা দুপুর বারোটার খাবার দেয়। এটা অমানবিক। বাঘ না বিড়াল বুঝা যায়না। খাবারের অভাবে হাটতে পারে না ঠিকমত। নিথর হয়ে পড়ে গেছে সব জীব।'

এক দর্শক প্রশ্ন করে বলেন জাতীয় চিড়িয়াখানার যে বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার সেটা কি এখানে আছে।

এতসব অনিয়মের ভিড়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে দায়সারা বক্তব্য কিউরেটরের।

তিনি বলেন, আমি মানব না অনিয়ম হচ্ছে। খাবার পর্যাপ্ত দেওয়া হয়। সকাল আট অথবা সাড়ে আটটার মধ্যে দেওয়া হয়। তারপরেও আমি দেখবো অনিয়ম হচ্ছে কিনা।'

আন্তর্জাতিক মান মেনে কোন প্রাণীর জন্যে কি পরিমাণ খাবার সরবরাহ করতে হবে তার কোন তালিকা এখানে নেই। সেই সঙ্গে চলছে নিম্নমানের ও অপর্যাপ্ত খাবার পরিবেশন। দিনের পর দিন চলে আসা এই অনিয়ম ও দুর্নীতির শাস্তির নজির চোখে পরে না। তবে শাস্তি ও তদারকির চেয়ে প্রয়োজন একটু আন্তরিকতা ও আর ভালবাসার অনুভূতির।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে