আপডেট
১৮-০৬-২০১৭, ১৬:৩১

দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যে জাতীয় ঐক্যের ব্রিটিশ রানির

london-flw-up
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ম্যানচেস্টার ও লন্ডনে পরপর হামলা, নির্বাচনে অনিশ্চিত ফলাফল এবং পশ্চিম লন্ডনে অগ্নিকাণ্ডে দেশ বিপদের মুখে পড়েছে- উল্লেখ করে রানি বলেন- এমন পরিস্থিতিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ, ব্রিটিশদের মাঝে বিভাজন তৈরি করতে পারে। এদিকে, গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত ৫৮ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে লন্ডন পুলিশ। আনুষ্ঠানিক জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার বাকিংহাম প্যালেস চত্বরে এক রাজকীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের যোগ দেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। স্বামী প্রিন্স ফিলিপ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিম লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ারে ভয়াবহ হামলায় নিহতদের স্মরণে ওই অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন রানি এলিজাবেথ। ম্যানচেস্টার ও লন্ডনে হামলা এবং গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুনের ঘটনার জেরে দেশজুড়ে চলমান উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে এদিন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে রানি বলেন- নির্বাচনে অনিশ্চিত ফলাফলের পর অগ্নিকাণ্ডের মতো এমন দুর্যোগে বিপদের মুখে পড়েছে ব্রিটেন। এ দুঃসময়ে ঐক্যের বদলে বিভক্তি জাতিকে আরও সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন রানি এরিজাবেথ।

গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ও নিহতদের প্রতি শনিবারও সমবেদনা জানায় শত শত মানুষ। দেয়ালিকায় বিভিন্ন শোকবার্তার পাশাপাশি ঘটনার ন্যায়বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তারা। নিহতদের স্মরণে একইদিন পাশের সেন্ট পিয়াস গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে'র সঙ্গে শনিবার দেখা করেন স্বজন হারানো বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।

তাদের একজন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে- ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও স্বজনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার দাবি তুলে ধরেছি আমরা। প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন।'

গত বুধবার গভীর রাতের ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও ভবনটি থেকে বেঁচে যাওয়া বাসিন্দারা। তবে, শনিবার পর্যন্ত ৫৮ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি বলেন, 'ওই রাতে ভবনটি থেকে যারা বের হতে পারেননি, সবাই মারা গেছেন বলে মনে করছি আমরা। এখন পর্যন্ত ৫২টি পরিবারের সদস্য নিখোঁজের অভিযোগ পেয়েছি, তাদের মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করতে দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে কাজ করছে।'

এদিকে, আগুনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ব্যর্থ হয়েছেন- উল্লেখ করে দ্রুত তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন- ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে অন্তত ২ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে- থেরেসা মে ব্রিটিশদের জন্য লজ্জাজনক পরিস্থিতি ডেকে এনেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর, নতুন সরকার গঠনের জন্য ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির সঙ্গে কনজারভেটিভ পার্টির সম্ভাব্য জোটের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিলো, গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর তা আরও জোরালো হয়।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে