আপডেট
১৮-০৬-২০১৭, ১৪:৪৬

দার্জিলিংয়ে আলাদা রাজ্যের দাবিতে অবরোধ, ব্যাপক সংঘর্ষ

gorkha
পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে আলাদা রাজ্যের দাবিতে অব্যাহত বিক্ষোভ ও সহিংসতায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ৪ সমর্থক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘাতে আহত হয়েছেন দু'পক্ষের প্রায় অর্ধশত মানুষ। তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলি ছোঁড়ার খবর অস্বীকার করে, চলমান উত্তেজনার পেছনে সন্ত্রাসীদের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষোভ দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চল দার্জিলিং। আলাদা গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার লাগাতার হরতালের অংশ হিসেবে, আন্দোলনকারীরা র‌্যালি বের করলে বাধা দেয় পুলিশ। মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।

বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে জনমুক্তি মোর্চার অন্তত ৪ সমর্থক নিহতের দাবি করে দলটি। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিহতের আলাদা সংখ্যা উল্লেখ করা হলেও, সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও রাজ্য সরকার এ খবর অস্বীকার করেছে। একইদিন দু'পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৩৫ সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'দার্জিলিং এ আজ যা হচ্ছে, তার পেছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। একদিনে এই সঙ্কট তৈরি হয়নি। অনেকদিন ধরে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে কোনো একটি অপশক্তি অস্ত্র দিয়ে আসছিলো। সেই অস্ত্র হাতে পেয়ে উপজাতীয়রা সহিংস হয়ে উঠেছে।'

ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর উপ মহাপরিদর্শক বি কে টপ্পো বলেন, 'পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। কিছু বিপথগামী লোক অকারণে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'

এর মধ্যেই শনিবার রাজ্য সরকার বিরোধী বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসে নেপালি ভাষাভাষী গোর্খা জাতিগোষ্ঠীর নারীরা।

আন্দোলনকারী এক নারী বলেন, 'আমরা যখনই বিভিন্ন ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন শুরু করলাম, তখনই এখানে রাজ্য সরকার অনেক পুলিশ মোতায়েন শুরু করলো। তাদেরকে বলতে চাই, ভয় দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা পুরো পশ্চিমবঙ্গ কিংবা কলকাতা চাইছি না। আমরা শুধু আমাদের গোর্খাল্যান্ড চাই।'

গত সপ্তাহে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ ও আলাদা গোর্খা ল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে, লাগাতার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। এর পর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। চলমান এই সংঘাতে আটকে পড়া পর্যটকদের কেউ কেউ সরে আসলেও; এখনো অনেকে আটকে আছেন।

এক দর্শনার্থী বলেন, 'বেশ কয়েকদিন ধরে দোকান-পাটসহ সবকিছু বন্ধ। খাদ্য-পানীয় কেনার মতো কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। সব জায়গায় শুধু পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সর্বদা একটা উত্তেজনা বিরাজ করে।'

এ অবস্থায় যারা দার্জিলিং ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের অনেকেই সফর বাতিল করছেন।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে