SOMOYNEWS.TV

টিভি দেখতে ক্লিক করুন

দেশে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম এনআইসিইউ-পিআইসিইউ'র সংখ্যা

Update: 2017-05-19 09:02:11, Published: 2017-05-19 09:02:12
nicu-1
বাংলাদেশে যেসব শিশু ৩৪ সপ্তাহ আগে ও এক কেজি আটাশ গ্রামের নিচে জন্ম নিচ্ছে যেসব শিশু তাদের জন্য প্রয়োজন নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউ। এছাড়া ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জটিল রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পিআইসিইউ। কিন্তু দেশে এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ'র সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অন্যদিকে লো বার্থ ওয়েট শিশু ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার না কমানো গেলে স্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

যে কোন শিশুর ফুসফুসের সারফেকটেন্স তৈরি হতে প্রয়োজন ৩৪ সপ্তাহ। কিন্তু এ শিশুটি মায়ের গর্ভে আসার সাত মাস অর্থাৎ ২৮ সপ্তাহ পরই ৫শ গ্রাম ওজন নিয়ে আসে পৃথিবীতে। তাই ফুসফুসের ক্রিয়া চলমান রাখতে এখন কৃত্রিমভাবে দেয়া হচ্ছে লাইফ সাপোর্ট। এছাড়া খাওয়াদাওয়া আর পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি গঠন না হওয়ায় নির্দিষ্ট পরিমাণে টিউবে দেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি। ফলে কয়েকদিন আগে প্রথম চোখ খোলে সে। এভাবে গত দেড় মাস ধরে এই এনআইসিউইতেই বড় হয়ে উঠছে শিশুটি।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিউই ও পিআইসিইউ বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মনির হোসেন বলেন, 'পৃথিবীতে এসে যে সার্ভাইভ করবে, এদের হার্টের পরিপূর্ণতা বা তন্ত্রের পরিপূর্ণতা যেটা দিয়ে তারা খাবে সেটাতে পরিপূর্ণতা হয় না। এমনকি রোগ প্রতিরোধের যে ক্ষমতা সেটাও পরিপূর্ণভাবে থাকে না।'

সাম্প্রতিক সময়ে গর্ভাবস্থায় জটিলতার কারণে স্বল্প ওজন ও নানা জটিলতা নিয়ে জন্ম নিচ্ছে অনেক শিশু। এসব নবজাতকের জন্য যে পরিমাণ এনআইসিইউ'র প্রয়োজন তা খুবই অপ্রতুল।

অন্যদিকে শিশুদের জটিল রোগ আরোগ্যে যেখানে পিআইসিইউ বা পেডিয়েট্রিক আইসিইউর প্রয়োজন সেখানে বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে কোন পিআইসিইউ নেই। বেসরকারি পর্যায়ে আছে দু থেকে তিনটি।

ঢাকা শিশু হাসপাতাল নিউনেটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, 'বাচ্চারা অর্ধেকের বেশি জন্মগ্রহণ করছে গ্রামে, যেখানে কোন সুযোগ সুবিধা নেই। একটা শিশু অসুস্থ হলে যেখানে পরিচর্যার ব্যবস্থা আছে সেখানে আনতে আনতেই হয়তো সে চলে যাচ্ছে। এসেও সঙ্গে সঙ্গে সে জায়গা পাচ্ছে না।'

শিশুদের জন্য এনআইসিইউ সেবা বাড়ানোর ক্ষেত্রে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) পরিচালক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, '২০২২ সালের মধ্যে আমরা সব ধরণের যান্ত্রিক সুবিধাসহ জেলা সদরের হাসপাতালে অন্তত পাঁচ থেকে দশটা বেডের ব্যবস্থা করতে পারবো।'

প্রতি হাজারে বাংলাদেশে এখনো শিশু মৃত্যুর হার ২০ থেকে ২৫ জন। যেখানে মধ্য আয়ের দেশে উন্নতি হতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে হবে অন্তত ৫ এর নিচে । তাই স্বাস্থ্যখাতের এই অংশটির উন্নয়নের দিকে বাড়তি নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Update: 2017-05-19 09:02:11, Published: 2017-05-19 09:02:12

More News
loading...

সর্বশেষ সংবাদ



Contact Address

89, Bir Uttam CR Dutta Road,
Banglamotor, Dhaka 1205, Bangladesh.
Fax: +8802 9670057, Email: info@somoynews.tv
উপরে