আইএস-ইরাকি সেনা তীব্র যুদ্ধ, বাড়ছে শরণার্থীর সংখ্যা

Update: 2017-03-20 16:55:06, Published: 2017-03-20 16:55:08
iraq-mosul

মসুলের পশ্চিমাঞ্চলীয় আরও ৬টি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরাকি বাহিনী। দেশটির যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মসুলের বিখ্যাত আল-নূরি মসজিদের মাত্র ৬শ' মিটার দূরে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের তীব্র লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। এসব এলাকা থেকে নতুন করে কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক পালিয়ে গেছে। বৈরী আবহাওয়া আর তীব্র খাবারের সঙ্কটে দুর্বিষহ জীবন-যাপনের পর কোনো মতে জীবন বাঁচিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে এসব মানুষ।

ইরাকি যৌথ বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের তীব্র লড়াইয়ের মুখে প্রতিদিনই পালিয়ে আসছে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক। লড়াই যত তীব্র হচ্ছে পালিয়ে আসা মানুষের মিছিল ততোই দীর্ঘ হচ্ছে।

জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হাতে বন্দী থাকার পর মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে আসা এসব মানুষ; শরণার্থী কেন্দ্রে কোনো মতে আশ্রয় নিলেও; বৈরী আবহাওয়া আর খাবারের সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করায় সেখানেও মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাদের।

পালিয়ে আসা এক ব্যক্তি বলেন, 'বাব আল-বেইত এলাকা আইএস পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সেখানে কোনো খাবার নাই। জীবন বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই নেই। আইএস আমাদের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে।'

পালিয়ে আসা আরেক জন বলেন, 'আমরা প্রায় ২৫ দিন ধরে আইএসের হাতে বন্দী ছিলাম। সেখানে কোনো পানি ছিল না, খাবার ছিল না। মনে হচ্ছে এক অন্ধকার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলাম। মানবতা আজ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।'

একদিকে, সরকারি বাহিনীর বিমান হামলা অন্যদিকে আইএস নৃশংসতায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন বহু বেসামরিক মানুষ। সম্প্রতি মসুলের জাদেদা এলাকায় ৫ বছরের এক শিশু বিমান হামলা থেকে বেচে গেলেও; তার সুস্থভাবে জীবন-যাপনের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এদিকে, পশ্চিম মসুলে আইএস-এর প্রধান ঘাঁটি নুরি মসজিদের মাত্র ৬শ' মিটার দূরে জঙ্গিগোষ্ঠীটির সঙ্গে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি বাহিনী। শনিবার ইরাকি ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যৌথ বাহিনীর অভিযানে জঙ্গিরা মসজিদটি ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তারা আবার যেন সংগঠিত হতে না পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খারাপ আবহাওয়া, আইএসের চোরাগোপ্তা ও আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলার কারণে অভিযান কিছুটা ধীর গতিতে চলছে বলে জানায় যৌথ বাহিনী।

ইরাকি ফেডারেল পুলিশের মেজর জেনারেল হায়দার আবু দিরঘাম বলেন, 'প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযানের গতি কিছুটা কমে গেছে। তবে সতর্ক রয়েছি আমরা। যেখানেই আইএসের অবস্থান দেখছি। সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি ২০১৪ সালের জুলাই মাসে যে মসজিদ থেকে খিলাফতের ঘোষণা দিয়েছিল সেই আল-নুরি মসজিদের আশপাশ থেকে এর মধ্যেই জঙ্গিদের হটিয়ে দিয়েছি আমরা।'

একইদিন মসুলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ আরো ৬টি এলাকা পুনর্দখল করে ইরাকি বাহিনী। মসুলের আল কুর এবং আল-তাওয়াফা এলাকায় যৌথ বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় আইএস যোদ্ধারা। গেল ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব মসুল থেকে পালি আসা জঙ্গিরা ওই সব এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানায় গণমাধ্যম।

গেল বছরের অক্টোবরে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদির আইএসবিরোধী অভিযানের ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৫৫ হাজার বেসামরিক নাগরিক মসুল ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এরমধ্যে গত ৩ সপ্তাহেই অন্তত ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা- আই.ও.এম। এখনো আইএসের অবরোধের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬ লাখ মানুষ।

Update: 2017-03-20 16:55:06, Published: 2017-03-20 16:55:08

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( )


More News
  


আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত (সাম্প্রতিক)


Contact Address

89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh.
Fax: +8802 9670057, Email: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv