আপডেট
১৭-০২-২০১৭, ১৬:৩৪

অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে দ্বিতীয় দফা সিরিয়া শান্তি আলোচনা

syria-17feb
কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় দ্বিতীয় দফা সিরিয়া শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ আলোচনা, বুধবার শুরুর কথা থাকলেও তুরস্ক ও বিদ্রোহী প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার শেষ দিনে আলোচনায় যোগ দেয়। এদিকে, সিরিয়ার অন্তত চারটি শহরে ৬০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতি অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেরা শহরে জঙ্গিগোষ্ঠী নুসরা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সিরীয় বাহিনী। বৃহস্পতিবার মানশিয়া এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি, তাদের অবস্থান করা কয়েকটি ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়। এদিন, দেরা থেকে দক্ষিণে জর্ডান এবং পূর্ব ও পশ্চিম দিকের সিরীয় শহরগুলোতে বিদ্রোহীদের কৌশলগত কয়েকটি যোগাযোগ-সড়কের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দাবি করে সিরীয় সেনারা।

একইদিন মধ্যাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের শহরতলীতে আইএসের দখলে থাকা হায়ান গ্যাসক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। রুশ বিমান হামলা ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সহায়তায় হোমসের আরও কিছু এলাকা থেকে আইএসকে বিতাড়নের দাবি করে তারা।

কয়েকটি শহরে বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর কাছে কোণঠাসা হওয়ার খবরের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কাজাখস্তানের আস্তানায় দ্বিতীয় দফা সিরীয় শান্তি আলোচনা বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে এদিনই শেষ হয়। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় দুই দিনব্যাপী এ শান্তি আলোচনা বুধবার শুরুর কথা থাকলেও, বিদ্রোহী ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা একদিন দেরি করে এতে যোগ দেয়। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার জন্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসাদ সরকার ও বিদ্রোহী প্রতিনিধিদের মধ্যে আস্থাহীনতা ও পরস্পরের দোষারোপকে দায়ী করা হলেও, তুরস্ক ও বিদ্রোহীদের দায়ী করছেন সিরীয় সরকার প্রতিনিধি দলের প্রধান।

সিরীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান বাশার আল জাফরি বলেন, 'তুরস্ক ও বিদ্রোহী প্রতিনিধিরা এ আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেননি। সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিশ্চয়তা দানকারী ৩ দেশের মধ্যে রাশিয়া ও ইরানের ব্যাপারে আমাদের অভিযোগ নেই, কিন্তু তুরস্ক একদিন পরে যোগ দেয়ার পাশাপাশি অনভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে। মাত্র একদিনের আলোচনায় সিরিয়ার অসংখ্য জটিল বিষয় সমাধানের অগ্রগতি হতে পারে না।'

এ অবস্থার মধ্যেই সিরিয়ার কয়েকটি শহর থেকে অবৈধ অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সিরিয়ায় এখনও ১৩টি শহরে অবরোধ রয়েছে উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়- এর মধ্যে অন্তত চারটি শহরে ৬০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সাহায্য প্রয়োজন।

জাতিসংঘের সিরিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূতের উপদেষ্টা জ্যান ইজল্যান্ড বলেন, 'আমরা যদি শিগগিরই আল-ফুয়া, কেফ্রায়া, মাদায়া ও জাবাদানির মতো শহরগুলোতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে না পারি; তবে, সেখানেও গত বছরের মতো তীব্র খাদ্য সংকটে মানুষ মারা যাবে। সংঘাত থেকে বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে সিরিয়ার আরও অন্তত ৮০টি এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে।'

সিরিয়া সংকট নিয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরবর্তী পর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু কথা রয়েছে। তার আগে, আসাদ সরকারের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিদ্রোহী দলগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী হাই নেগোসিয়েশন কমিটি বা এইচএনসি।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে