আপডেট
১৭-০২-২০১৭, ১৬:২৪

ভুল সংবাদ প্রচার করায় মার্কিন গণমাধ্যমকে চড়া মূল্য দিতে হবে- হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

usa-trump
মার্কিন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিষয়ে ভুল সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে, এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কারণে মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত করতে সামনের সপ্তাহে অভিবাসন বিরোধী নতুন নির্বাহী আদেশ জারির ঘোষণা দেন। এদিকে, নতুন মার্কিন প্রশাসনে একের পর এক পদ থেকে কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের পরও, প্রশাসন নিখুঁতভাবে চলছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী নীতির প্রতিবাদে ও যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নে অভিবাসীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরতে ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, বোস্টন ও শিকাগো অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত হাজারো অভিবাসী বৃহস্পতিবার রাস্তায় পদযাত্রা করে। "অভিবাসী ছাড়া একটি দিন" শীর্ষক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা এদিন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পাশাপাশি, ক্লাস-চাকুরি এমনকি কেনাকাটা থেকে নিজেদের বিরত রাখেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি মানুষ অভিবাসী। আমরা মার্কিন অর্থনীতিতে যে ভূমিকা রাখছি তা অগ্রাহ্য করার কোন উপায় নেই। পূর্বপুরুষ বিবেচনা করলে এদেশের কেউই মার্কিনী নয়। একটা কাগজ আমাদের মর্যাদার মাপকাঠি হতে পারেনা।

গণবিক্ষোভের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে তিনি, অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে সামনের সপ্তাহে নতুন নির্বাহী আদেশ জারির ঘোষণা দেন। ৭টি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথাও জানান তিনি। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং গণমাধ্যমের বিতর্কিত সংবাদ প্রচারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'রাশিয়ার সঙ্গে আমার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গোপন যোগাযোগের বিষয়ে গণমাধ্যম যে খবর প্রচার করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এতে গণমাধ্যম তাদের বিশ্বস্ততা যেমন হারাচ্ছে তেমনি ওয়াশিংটন-মস্কোর কোন চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যারা আমার প্রশাসনকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তথ্য ফাঁস করছে তাদের আমরা খুঁজে বের করবো। এজন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।'

এদিকে একের পর এক মন্ত্রী পদত্যাগ করার পাশাপাশি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের মনোনয়ন সিনেটে ঝুলে থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের দাবি তার প্রশাসন নিখুঁতভাবে চলছে। অবৈধ অভিবাসীকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে রাখার অভিযোগ ওঠায় সবশেষ অ্যান্ড্রু পুজডার শ্রমমন্ত্রীর পদ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেন। তার জায়গায় আলোকজান্ডার একোস্টারের নাম মনোনীত করেন ট্রাম্প। জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে এই হারবার্ট গ্র্যাজুয়েট জাতীয় শ্রম সম্পর্ক বোর্ড ও বিচার বিভাগের সহ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে সাউথ ক্যারোলাইনার সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক মালভানি হোয়াইট হাউজের বাজেট পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার তার শপথ পাঠ করান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে মাইকেল ফ্লিন পদত্যাগের পর তার স্থানে ট্রাম্প সাবেক নৌ কর্মকর্তা রবার্ট হাওয়ার্ডের নাম প্রস্তাব করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ব্যক্তিগত কারণে হাওয়ার্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানায় হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতির কারণে এশিয়া, আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দীপপুঞ্জ নিয়ে উপদেষ্টা কমিশনের ২০ সদস্যের মধ্যে ১৬ জনই পদত্যাগ করেছে।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে