মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
শতরূপা দত্ত
আপডেট
১৮-০৭-২০১৯, ১৫:০০

রাষ্ট্রদূত সামিনার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, ক্ষমতার উৎস কী?

002
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১২ জুলাই সময় সংবাদের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উঠে আসে। এরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরো কয়েক কর্মকর্তার সামিনা নাজের হাতে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা বেরিয়ে আসে।

অনুসন্ধানে সরকারের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা ও তার কোটাভূক্ত আরও কয়েক কর্মকর্তার দুর্নীতির ছবিও উঠে এসেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ এক সময় ভারতের মুম্বাইতে ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তখন (২০১৫ সাল) এক নারী কর্মকর্তা মিশনে যোগ দিতে সেখানে যান। কিন্তু সামিনা নাজ ও তার পৃষ্ঠপোষকতাকারী একটি পক্ষের অঙ্গুলী-হেলনে তাকে মিশন কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই নারীকে গুরুতর অবস্থায় মুম্বাই হাসপাতালের আইসিইউতে ৫ দিন ভর্তি থাকতে হয় বলে জানায় সূত্রটি। পরে অসুস্থ অবস্থাতেই নিজের চেষ্টায় দেশে ফিরে আসেন তিনি। 

জানা যায়, এই নির্যাতনের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য সামিনা নাজের সহযোগী একটি পক্ষ ওই নারী কর্মকর্তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করে। এজন্য তারা নকল মেডিকেল সার্টিফিকেটও প্রস্তুত করে। ওই নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও রুজু করা হয়। হেনস্থা করার জন্য অধস্তন কর্মচারীদের সাক্ষী হিসেবে এনে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করানো হয়। 

পরে নির্যাতিতার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। নিরপেক্ষ মেডিকেল বোর্ড তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ বলে প্রতিবেদন প্রদান করে। 




তবুও থেমে থাকেনি সামিনা নাজ গং। শেষ পর্যন্ত ওই নারী কর্মকর্তাকে চাকুরী থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন করতে না পারলেও এখনো ওই নারী কর্মকর্তার পোস্টিং ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

পরবর্তীতে মুম্বাইতে ওই নির্যাতিতা নারী কর্মকর্তার পদে তারিক হাসান নামের আরেক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। সে সময় মুম্বাইতে থাকা রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ তার ওপরও বিভিন্ন নির্যাতন শুরু করেন। 

মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারিক হাসানকে দৈনিক ভাতা প্রদান করতেন না সামিনা নাজ। শিশু সন্তানের চিকিৎসার বিল দিতেন না। তারিক হাসানের বাসার ইলেক্ট্রিসিটির লাইন পর্যন্ত কেটে দেন তিনি। 



সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে কর্মরত মিশনের কর্মকর্তাদের বাসায় যে ন্যূনতম আসবাবপত্র ক্রয়ের টাকা দেয়ার কথা তারিক হাসানকে সেটিও দেয়া হয়নি। তিনি বার বার সামিনা নাজের কাছে সেই টাকা অনুমোদনের অনুরোধ জানালেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।