আপডেট
০৯-১১-২০১৮, ১৬:৩৬
আন্তর্জাতিক সময়

সহ্য ক্ষমতার ৪০ গুণ বেশি দূষিত নয়া দিল্লির বাতাস

ind-air-somoy
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির বাতাস সহ্য ক্ষমতার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি দূষিত হয়ে গেছে। যা স্মরণকালের ভয়াবহ দূষণে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। কোনো প্রক্রিয়াতেই পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায়- এর দায় চাপানো হচ্ছে রাজনীতিবিদদের ওপর। ইতোমধ্যে দিল্লিজুড়ে জারি করা হয়েছে ট্রাক ও মাঝারি আকারে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

বৃহস্পতিবার দিনগত মধ্যরাতে দিল্লির প্রবেশ মুখে চলছে, অভিযান। ট্রাক ও মাঝারি আকারের যানবাহন চলাচলের ওপর সন্ধ্যা থেকে জারি করা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে রাজধানী মুখেই আটকে দেয়া হয় গাড়িগুলোকে।

খাদ্য পণ্যের গাড়ি ছাড়া কোনো বড় ধরনের গাড়ি বা ট্রাক প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসছে না নয়া দিল্লির বায়ু দূষণ রোধে। ক্রমেই এ-দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের অঞ্চলগুলোতেও। নতুন করে ঝুঁকিতে রয়েছে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্য প্রদেশ রাজ্য। দিল্লির বাসিন্দারা বলছেন, দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবেই বছর বছর তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে দূষণের মাত্রা।

দিল্লির এক বাসিন্দা বলেন, 'রাজনীতিবিদদের ভবিষ্যত পরিকল্পনার অভাবেই দিল্লির আজ ভয়াবহ অবস্থা। আমার ছোট্ট মেয়ে রয়েছে, তার ভবিষ্যত আজ হুমকির মুখে। কারণ এ শহরে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার কোনো পরিবেশ নেই।'

দিল্লিতে পর্যটক আসা অনেকাংশে কমে গেছে। তবে যেসব ভিনদেশী নাগরিক বিভিন্ন কাজের তাড়নায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের মুখেও উদ্বেগের বাণী।


দিল্লিতে আসা এক পর্যটক বলেন, 'এই আবহাওয়ায় বেঁচে থাকা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো মানুষই অসুস্থ হয়ে যাবে।'

শিশু ও বৃদ্ধদের সব থেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। দূষণে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী তারা। অথচ কর্তৃপক্ষ তাদের সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, দূষিত বায়ুতে শ্বাস নিয়ে বুকে জমেছে কফ। এই কফ কালো আকার ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে হাঁপানি রোগীদের জন্য এই বায়ু মারণব্যাধীর মতো। পাশাপাশি হাঁচি, কাশি তো লেগেই আছে। এ-অবস্থায় অতি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে না বের হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

আগামী তিনদিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে তা না কমা পর্যন্ত যে যার মতো নিরাপদ থাকতে হবে। সচেতন হতে হবে সবাইকে।

প্রতিঘন মিটার বায়ুতে সাধারণভাবে ২ দশমিক ৫ পিএম অর্থাৎ পার্টিকুলেট ম্যাটারের সহ্য ক্ষমতা ৫০। বৃহস্পতিবার যা বেড়ে ৯৯৯ মাইক্রোগ্রাম হয়। তবে শুক্রবার যা বেড়ে ২ হাজারে পৌঁছেছে। এই মাত্রা সহ্য ক্ষমতার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি দূষিত।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে