আপডেট
১১-১০-২০১৮, ১৬:৪৯
আন্তর্জাতিক সময়

রোহিঙ্গা কিশোরী রাহিমা জানাতে চান তার স্বপ্ন

rohin-akter1
শিক্ষার মাধ্যমে মুক্তি লাভের আশায় প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে এগিয়ে যাচ্ছেন রোহিঙ্গা কিশোরী রাহিমা আক্তার। মাধ্যমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরোনো রাহিমা স্বপ্ন দেখেন মানুষের অধিকার সম্পর্কে জানার। বিশ্বব্যাপী আওয়াজ তুলতে চান রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষার। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে নিজেরে সংগ্রাম ও স্বপ্নের কথা এভাবেই জানিয়েছেন রাহিমা।

রাহিমা আক্তার। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুশি নামেই পরিচিত। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এ রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই। যে কয়জন রোহিঙ্গা মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষারগণ্ডি পেরিয়েছে, তাদেরই একজন ১৯ বছর বয়সী এ কিশোরী। বর্তমানে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও উগ্রবৌদ্ধদের নৃশংতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে তথ্যমূলক একটি গবেষণা তৈরি করছেন। স্বপ্ন, শিক্ষিত হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবেন।

 
রোহিঙ্গা কিশোরী রাহিমা আক্তার বলেন, পড়াশুনার মাধ্যমে আমি নিজেকে জানতে চাই। আমার অনেক বান্ধবী এ ক্যাম্পে আছে। যাদের দুই বা ততোধিক সন্তান রয়েছে। মাঝে মাঝে স্বামীর সঙ্গে তাদের ঝগড়া হয়। তাদের মন খারাপ থাকে। তারা সবসময় আফসোস করে। কারণ এখানে তাদের বা তাদের সন্তানদের জন্য ভালো জীবনধারণের ব্যব্স্থা নেই।
 

রাহিমার বিশ্বাস শিক্ষার মাধ্যমে রোহিঙ্গা নারীরা নিজের জীবন সম্পর্ক জানতে পারবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পরিপার্শ্বিক ও পারিবারিক বাধাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

 
তিনি আরো বলেন, বাবা আমার পড়াশুনা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলন। একদিন তিনি বললেন, তোমার স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই। তোমাকে বিয়ে করতে হবে। কারণ এটাই আমাদের সমাজের নিয়ম। আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি। বাবাকে অনুরোধ করেছি, বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, আমি সত্যিই পড়াশুনা করতে চাই।

রাহিমার মা মিনারা বেগম। ১৯৯২ সালে তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসেন। পারিবারিক সামাজিকসহ নানা কারণে জীবনে কখনোই বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি তার। তবে, শিক্ষার মাধ্যমে অসহায়ত্ব ঘুচবে এমন আশায়, সামাজিক রীতিকে টপকে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন তিনি।
 
মিনারা বেগম বলেন,  সমাজের গণমান্য ব্যক্তিরা বলেন, মেয়েদের বেশি লেখাপড়ার দরকার নেই। বরং তাদেরকে চুলা জ্বালানো ও রান্না করা শেখানো উচিৎ। মেয়েকে বাইরে বেরোতে দিলে আল্লাহ পাপ দেবেন। আমি বলি, বাচ্চারা যদি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে পারে, তাহলে কেনো আমি তাদের স্কুলে পাঠাবো না?


বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। নানা প্রতিবন্ধকতায় বেশির ভাগ রোহিঙ্গা শিশুই থেকে যাচ্ছে শিক্ষার মৌলিক অধিকার বঞ্চিত।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে