আপডেট
১৪-০৯-২০১৮, ১৬:৪২
আন্তর্জাতিক সময়

ইয়েমেন শিশুদের জন্য 'নরকে' পরিণত হয়েছে: জাতিসংঘ

yem-news-up
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন শিশুদের জন্য 'নরকে' পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। দেশটির অন্তত ৪ লাখ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। এছাড়া ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি শিশু চরম খাদ্য ঘাটতি ও বাসস্থান সংকটে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। হুদায়দা বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ দেশটিতে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

শিশুটির অসহায় এই আর্তনাদ যে কাউকে নাড়া দিলেও, ইয়েমেনে যেন দেখার কেউই নেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির হাজার হাজার শিশুর একই অবস্থা। যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে খাদ্যাভাবে অপুষ্টির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হচ্ছে শিশুদের।

তারা বলেন, যুদ্ধের কারণে আমাদের কোনো চাকরি নেই। তাই আমাদের হাতে কোনো অর্থও নেই। অসুস্থতা আমাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। শিশুদের ভালো কোথাও নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেবো, অর্থাভাবে তাও সম্ভব হচ্ছে না।

 

মাকিয়া মাহদি, পরিচালক, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাজ্জাহ বলেন, গত এক সপ্তাহে অপুষ্টির শিকার অন্তত ১৭ শিশুকে পেয়েছি। এখানকার শিশুরা ঠিক মতো খেতেই পায় না। এজন্য প্রতিনিয়তই তাদের অপুষ্টির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো রকম সাহায্য সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অপুষ্টিতে মৃত্যু হবে তাদের সন্তানদের।

 তারা বলেন, 
আমার মেয়ে জোহরার বয়স সাত মাস। তার জন্মের পর থেকেই তাকে আমরা বাইরের কোনো দুধ খাওয়াতে পারিনি। বুকের দুধও সে ঠিক মতো পাচ্ছে না, কারণ আমরা নিজেরাই তো খেতে পাই না। ইয়েমেনে আমার মতো এমন অনেক গরিব মানুষ আছে, যাদেরকে কোনো সহায়তা দেয়া হচ্ছে না। দাতা সংস্থা কিংবা কোনো এনজিও কেউ আমাদের পাশে নেই।

এ অবস্থায় জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইয়েমেন শিশুদের জন্য নরকে পরিণত হয়েছে। এখানে শিশুদের বেঁচে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই বলেও জানায় সংস্থাটি।


মেরিক্সোল রেলানো, ইউনিসেফ প্রতিনিধি, ইয়েমেন বলেন,  ইয়েমেনে ১৮ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। এর মধ্যে চার লাখ শিশু চরম অপুষ্টিতে রয়েছে। এছাড়া ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি শিশুর খাদ্য ঘাটতি, রোগে আক্রান্ত হওয়া ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদিকে গৃহবন্দি করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীরা। পরে হাদি সরকারের সেনাবাহিনী ও হাউথি বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। হাদিকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব এ যুদ্ধে অংশ নেয়। এ অবস্থায় গত ১৩ই জুন গুরুত্বপূর্ণ হুদায়দা বন্দর দখলের লক্ষ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। তারপর থেকে দেশটিতে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা বন্ধ রয়েছে। 




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে