সেঁজুতি শোণিমা নদী
আপডেট
১৩-০৯-২০১৮, ১৮:৩২
বাণিজ্য সময়

অস্তিত্ব সংকটে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর: দায়ী কারা?

banglabandha22222
চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ আছে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সব কার্যক্রম। বলা হচ্ছে, স্থলবন্দরটির তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেড, তাদের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এটিআই লিমিটেড, মাল ওঠানামা করতে নিয়োজিত শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি-রফতানিকারকদের দ্বন্দ্বের কারণেই এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এদের প্রত্যেকেই দোষারোপ করছেন একে অপরকে। কিন্তু ২১ বছর আগে অপার সম্ভাবনা নিয়ে চালু হওয়া এই স্থলবন্দরকে কার্যত অচল করে রাখার পেছনে দায়ী কারা?

 

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের আহ্বানে একাধিকবার জরুরি বৈঠকের পরও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সংকট নিরসন হচ্ছে না। সমস্যার সূত্রপাত হয় শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন শুরুর পরপরই। স্থলবন্দরে শ্রমিকদের তত্ত্বাবধানে থাকা বেসরকারি ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি, ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেয়াতেই হচ্ছে এই সমস্যা। এদিকে, ব্যবসায়ীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা তারা পাচ্ছেন না। তারা এও বলছেন, ২১ বছরেও স্থলবন্দরটি সক্ষমতা অর্জন না করায় এর সিংহভাগ দোষ বর্তায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেডের ওপরেও।

এটিআই লিমিটেডের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

১৯৯৭ সালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ভারত ও ভুটানের সঙ্গেও চালু হয় একই কার্যক্রম। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। প্রতিদিন সরকারের রাজস্ব আয় হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ভারতসহ নেপাল ও ভুটানের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এখানে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টও চালু করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৪ মে ‘এটিআই লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্য লোড-আনলোডের জন্য লেবার হ্যান্ডেলিং-এর ইজারা দেওয়া হয়। মূলত এরপর থেকেই অস্থির হয়ে উঠেছে চতুর্দেশীয় বাণিজ্যের একমাত্র স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। এটিআই লিমিটেড, বন্দর পরিচালনা কোম্পানি ‘বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেড’ এবং আমদানি-রফতানিকারকদের সঙ্গে পণ্য লোড-আনলোডের দরদাম নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় বন্দরের লোড-আনলোডিং লেবারদের। সবশেষ একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছে বকেয়া পোর্ট চার্জসহ রাজস্ব আদায় এবং লোড-আনলোডিং লেবারদের বকেয়া পাওনা আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ হয়ে যায় স্থলবন্দরটি। একে-অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে হাতাহাতি, মারামারি, ভাঙচুর, মামলা-পাল্টা মামলাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে চরম উত্তেজনা চলছে সেখানে। 


বন্দরে লেবার হ্যান্ডেলিং এর ইজারা চালু হওয়ার আগে ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ উদ্যোগে শ্রমিকদের দিয়ে পণ্য লোড-আনলোড করাতেন। সেসময় শ্রমিকরা ভারতীয় গাড়ি থেকে টনপ্রতি ৩১ টাকা ৫০ পয়সা, ভুটানি গাড়ি থেকে ৩৮ টাকা এবং নেপালি গাড়ি থেকে ৫৫ টাকা করে পণ্য লোড-আনলোড করতেন। তবে এটিআই লিমিটেড তা কমিয়ে সব দেশের জন্য আনলোড বাবদ টনপ্রতি ১৯ টাকা দর করে নির্ধারণ করে। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়। গত ৬ আগস্ট ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছে বকেয়া টাকা চাইতে গেলে লেনদেন নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। শ্রমিকরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিক নেতাদের নামে আদালতে মামলা দায়ের করে।

শ্রমিকদের কেন ১৯ টাকা মজুরি দেয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে এটিআই লিমিটেডের অংশীদার মেহেদী হাসান খান বাবলা সময় নিউজকে বলেন, ‘সরকারের রাজস্ব এবং অন্যান্য সব কর পরিশোধ করলে এর বেশি মজুরি তাদের পক্ষে দেয়া সম্ভব না। তবে শ্রমিকেরা যাতে বঞ্চিত না হন, সে জন্য ভর্তুকি দিয়ে হলেও তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিচ্ছেন তারা।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভ্যাট বাদে যে ১০৪ টাকা দিচ্ছেন, মধ্যে ৩২ টাকা নৌ মন্ত্রণালয় কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এটিআই পাচ্ছে ৫৬ টাকা। লোডিং-এ ২৮, আনলোডিং-এ ২৮। ভ্যাট, ট্যাক্স বাদ দিয়ে এটিআইয়ের থাকে ২২ টাকা ৮৬ পয়সা। শ্রমিকদের ২১ টাকা লোডিং-এ দিচ্ছে, ১৯ টাকা আনলোডিং-এ দিচ্ছি। মোট ৫০ টাকা দেয়া হচ্ছে। তার মানে এখানে ভর্তুকী দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লেবাররা আগে ৩১ টাকা পেত। এখন সেখানে ১৯ টাকা পায়। যে রেট হয়েছে, এখানে এর চেয়ে বেশি দেয়ার সুযোগও নেই। মিটিং-এর রেজুলেশনে বলা হয়েছে ভারতীয় গাড়িতে আগে তারা যে ২০ টাকা বখশিস পেত, এখন সেখানে ১০ রূপি, বাংলাদেশি টাকায় ১২ রুপি বাড়ানোর ব্যবস্থা করবে এটিআই। হিসাবে তখন তারা ৩১ টাকাই পাবে।’

কিন্তু এটিআই-এর তরফ থেকে যে ভর্তুকীর হিসাবটি দেয়া হলো, ব্যবসায়ীরা বলছেন, চুক্তি অনুযায়ী সেটি দিয়েছেন তারাই!

পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এবং আমদানি রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সচিব হারুনর রশীদ সময় নিউজকে বলেন, ‘ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের কাছে পেত ১৯ লাখ টাকা। সেবার শ্রমিকরা তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। এটিআই-এর মালিকরা এসে আমাদেরকে এটার মধ্যস্ততা করতে বলেন। তার মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নেই, লোডের যে টাকাটা আছে- ৩১ টাকা- এটা ঈদ পর্যন্ত ভর্তুকী দেব।’

এই ব্যবসায়ী নেতা অভিযোগ করে বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পণ্য নামিয়ে দিলেও উঠিয়ে দিচ্ছেন না। ফলে শ্রমিকদেরকে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে তাদের। আর সেই খরচের হিসাব না ধরেই এটিআই লিমিটেড তাদের কাছে অর্থ দাবি করছে।  

হারুনর রশিদ জানান, সরকারি নিয়মে লেবার হ্যান্ডেলিং-এর জন্য একটি পক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হয়।  মাল ওঠানো এবং নামানোর জন্য তারাই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটা চার্জ কেটে রাখে। এটা ল্যান্ড পোর্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে তাদেরকে দেয়। এই অর্থের ৬৩% শ্রমিক, ভ্যাটের অংশ সরকার এবং আর বাকি অংশ পায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইজারাদার। এ বাবাদ নেয়া হয় ১০৪ টাকা। ভ্যাটসহ ১১৯ টাকা ৬০ পয়সা। 

তিনি বলেন, ‘এর বিপরীতে দেয়া হয় অফলোড এবং লোডের সেবা। নেপাল ও ভুটান থেকে যে পাথর আসে- এটির অফলোড ৬০ এবং লোড ৬০ টাকা। এটিআই অফলোড করে দিচ্ছে। কিন্তু লোড আমাদের নিজেদের পয়সায় করে নিতে হচ্ছে। কিন্তু টাকাটা তারা আগেই কেটে নিচ্ছে। এখন উনারা ভর্তুকীর টাকার সঙ্গে যে সেবাটা দেননি- সেই টাকার বিল ধরিয়ে আমাদেরকে বলছেন এই টাকা আপনাদের কাছে পাব। আপনি যেটুকু সেবা দিয়েছেন- সেই টাকা তো আগেই আমি লেবারকে দিয়েছি। তাহলে ওই টাকাটা বাদ দিয়ে দেবেন না?’

তিনি আরও বলেন, ‘সেবা বহির্ভুত কোনো চার্জ আমরা দিতে আগ্রহী না। সেবা ছাড়া আমাদের কাছে যখন কোনো অর্থ দাবি করা হয়- সেটা চাঁদাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়।’

ব্যবসায়ীরা কি সত্যিই কর ফাঁকি দিচ্ছেন?

ব্যাবসায়ী ও শ্রমিকদের অভিযোগের বিপরীতে এটিআই কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, বর্তমান ব্যবস্থায় শ্রমিকরা খুশি, কিন্তু তাদের খেপিয়ে তুলছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের একটি কুচক্রী মহল। রাজস্ব ফাঁকি দিতে চান বলেই নাকি এমনটা করছেন তারা!

মেহেদী হাসান খান বাবলা বলেন, ‘১৯৯৭ সালে বন্দরটি চালু হওয়ার পর থেকে অন্য সব বন্দরে শ্রমিকদের দিয়ে যেভাবে লোডিং আনলোডিং হয়- সেভাবে হচ্ছিল না। সরকার এখান থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এটিআই এখানে যুক্ত হওয়ার পর সরকার প্রথম কিছু টাকা পেয়েছে।’

কিন্তু গত কয়েক মাসে রাজস্ব হিসাবে আমদানিকারকদের কাছে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা শুল্ক বকেয়া পড়েছে বলে দাবি করেন বাবলা।

তিনি বলেন, ‘১১ জন আমদানিকারকের কাছে সরকার টাকা পাবে ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২ জনের কাছে পাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এদের মধ্যে একজনের ছোটভাই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে সরাসরি ইনভল্ভড। মোজাফফর হোসেন, আঁখি অপু এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী। তার ভাই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। দুই ভাই মিলে বাকি রেখেছে ১ কোটি ১২ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৫ টাকা ১২ পয়সা।  আরেকজন টি ইসলাম। তার কাছেও বাকি আছে অনেক টাকার শুল্ক।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হারুনর রশীদ সময় নিউজকে বলেন, ‘যে ব্যাবসায়ীদের কথা বলা হচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের কাছেই এই অর্থ পরিশোধের সমস্ত রশিদ আছে বলে আমি জানি। যে শুল্কের কথা বলা হচ্ছে- সেটি সম্পূরক শুল্ক। এটি যে চার্জ দিয়ে বন্দর থেকে গাড়ি বের করতে হয়- তার মধ্যেই রয়েছে। সুতরাং, সেই অর্থ পরিশোধ না করলে তো তারা টিকেটই পেত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূল যে শুল্ক সেটা প্রতিদিন ৮০ লাখ টাকা করে গত এক মাসেই ২৪ কোটি টাকার রাজস্ব দিয়েছি আমরা। কাস্টমস থেকে আমাদের কোনো প্রশ্ন করা হয়নি এটা নিয়ে। তারা করছে কেন।’

এটিআই-এর দিকে পাল্টা অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘এটিআই এবং বিএলটিএল-এর কাছে সরকারের ২৩ কোটি টাকার রাজস্ব বাকি পড়ে আছে। এই টাকা আমরা পরিশোধ করেছি। কিন্তু এটা তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে।’ 

তিনি আরও জানান, এটিআই বা বন্দর কর্তৃপক্ষ- কেউই ভ্যাট রাখা সত্ত্বেও এর রশিদ কখনও তাদের বুঝিয়ে দেন না।

তিনি বলেন, ‘৩ মাসে চার হাজার পাথর আমদানি করেও ভ্যাটের রশিদ তাদের কাছ থেকে পাইনি।’

প্রশ্ন যখন সক্ষমতার

২১ বছর আগে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর চালু হলেও সক্ষমতার প্রশ্নে দেশের অন্য বন্দরগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ব্যবসায়ীরা এক্ষেত্রে আঙুল তুলছেন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেডের দিকে।

ব্যবসায়ী নেতা হারুনর রশীদ বলেন, ‘২৫ বছরের জন্য স্থলবন্দরের দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেড। এদের দায়িত্ব ছিল বন্দরটাকে পুরোপুরি সক্ষম করে তোলার। কিন্তু ২১ বছরে এটির আধুনিকায়নে তারা কিছুই করেনি। এখন ভেতরে যদি আমি একদিন মাল আনলোড করি, পরের দিন মাল রাখার জায়গা থাকবে না।’

ব্যবসায়ীরা বন্দরের ভেতরে জায়গা না পেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বিজিবি ক্যাম্পে মাল ওঠা-নামা করেন বলেও জানান তিনি। ওদিকে বন্দরের ভেতরে ব্যবসায়ীরা গাড়ি আনেন না বলেই চার্জ রেখেও তাদের পূর্ণ সেবা এটিআই দেয় না বলে জানান মেহেদী হাসান খান বাবলা।

বন্দরের আধুনিকায়ন এতদিনেও কেন হয়নি, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মামুন সোবহান জানান, ১৯৯৭ সালে ইজারা নেয়া হলেও মূল কার্জক্রম চালু হয় ২০১৪ সাল থেকে।

কেন বন্দরটি চালু হতে ১৪ বছর লেগে গেল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের একটি পলিসির কারণে। এটা আমাদের নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান নিজেই করেছেন। কেন হয়েছে- সেটা আপনি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন। এছাড়া তখন গাড়ি কম আসতো। দশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টা গাড়ি আসতো তখন। সরকারের সঙ্গে এই বন্দরে আমরা অংশীদারি ব্যবসা করি এই বন্দরে। মাত্র ১০-২০ টা গাড়ি ঢুকলে একটা প্রতিষ্ঠান কত টাকা পায় আর? আর সেটা দিয়ে আধুনিকায়নই বা কীভাবে সম্ভব?’

ব্যবসায়ী, ইজারাদার, শ্রমিক আর তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান- সবাই যখন একে অন্যের দিকে আঙুল তুলতে ব্যস্ত- তখন আরও একবার সংকট নিরসনের পদক্ষেপ হিসেবে ১৫ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক নিজ কার্যালয়ে ডেকেছেন বৈঠক। 

সংবাদমাধ্যমকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে প্রয়োজনে তাদের নিয়ে আবারও বৈঠক করা হবে। আশা করা হচ্ছে— সব পক্ষকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এবং নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শিগগিরই বন্দরটি সচল করা হবে।’

বাংলাবান্ধা ছাড়াও এটিআই লিমিটিড লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরেরও ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, এটিআই-এর সত্ত্বাধিকারী পাটগ্রাম উপজেলার চেয়ারম্যান রুহুল হক বাবুল চাইছেন সীমান্ত দিয়ে আসা আমদানি-রফতানির পুরো ব্যবসাটিই একচেটিয়াভাবে চলে আসুক বুড়িমারী স্থলবন্দরে। আর সে কারণেই বাংলাবান্ধায় চলমান সংকট নিরসনে তেমন উদ্যোগ নেই তার। আর এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেড!

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, দীর্ঘসময় ধরে জটিলতার কারণে যে অচলাবস্থা চলছে বাংলাবান্ধা স্থরবন্দরে, তাতে করে এদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছে বিদেশি রফতানিকারকেরা। আর রফতানিকারকেরা না থাকলে অবধারিতভাবেই এই বন্দরে ব্যবসা করা থেকে সরে যাবেন আমদানিকারকেরাও। সেক্ষেত্রে কর্মসংস্থান হারাবেন এই এলাকার ৪০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী।  




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে