আপডেট
১১-০৯-২০১৮, ০৬:২১
বাণিজ্য সময়

সরকারের নীতি ও সহযোগিতার অভাবে তৈরি হচ্ছে না নতুন উদ্যোক্তা

untitled-10
নতুন উদ্যোক্তা মানেই পণ্যে ও ব্যবসায় নতুনত্ব। ব্যবসায়ীরা এমনটা মনে করলেও গেল পাঁচ বছরে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে যত কারখানা ও বিনিয়োগ এসেছে, সেখানে নতুন উদ্যোক্তা যোগ হয়েছে মাত্র ১০ ভাগ। খাত সংশ্লিষ্টদের কাছে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির এই হার হতাশাজনক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে এখনও ঘাটতি রয়েছে সরকারের সহযোগিতা ও নীতি কৌশলে।

বিশ্বের তৈরি পোশাকের বাজারে বেশ পরিচিত নাম মেইড ইন বাংলাদেশ। যার যোগান আসে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা সাড়ে ৩ হাজারের বেশি কারখানা থেকে।

বর্তমানে বাজার দখলে শুধু পোশাকের মানই নয়, উৎপাদন প্রক্রিয়া কতোটা নিরাপদ, তাও নজরে রাখে বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। শর্তের বেড়াজালে তাই গেল ৫ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ১ হাজার ২শ'র বেশি কারখানা। আর এসময়ে গড়ে ওঠা কারখানার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫শ'।

পোশাক শিল্পে নতুন এই বিনিয়োগের প্রায় পুরোটাই করেছেন পুরানো উদ্যোক্তারা, তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে। অল্প বিনিয়োগে নতুন উদ্যোক্তা যুক্ত হয়েছে মাত্র ১০ ভাগ। বড় এই শিল্পখাতে নতুন উদ্যোক্তা আসার এই হারকে হতাশাজনক হিসেবেই দেখছেন এখাতের অভিজ্ঞরা।

ডেনিম এক্সপোর্ট লি. এর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, 'অবশ্যই এটা অপ্রতুল। এটা আরও বাড়ানো উচিৎ। নতুন উদ্যোক্তা আনা মানে ব্যবসায় নতুন করে তাদের সাপোর্টও পাওয়া।'

তাদের দাবি, এগিয়ে চলা পোশাক খাতে বৈচিত্র্যময়তা আনতে সত্যিকার অর্থে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।


মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, 'তারা আসলে নতুন লোককে লোন দিতে চায় না। ব্যাংকে তো রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট, বড় বড় শিক্ষিত অফিসাররা তাদের জায়গা নিয়ে কাজ করছেন। তাহলে তাদের কাজ কী? তারা যদি নতুন একটা উদ্যোক্তা ভালো করবে কিনা সেটা চিহ্নিত করতে না পারে।'

বিজিএমইএ'র প্রথম সহসভাপতি মইনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, 'ব্যাংক লোন পাওয়ার পর তার পরবর্তী যে সাপোর্টটা, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং অন্যান্য যে সাপোর্টগুলো, তা যদি দ্রুত না পাওয়া যায় তাহলে প্রোজেক্ট শুরু হওয়ার আগেই দেখা যাচ্ছে প্রোজেক্টটা সিক হয়ে যাচ্ছে।'

প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকারের দেয়া উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মাঝে যে ফারাক বিদ্যমান, তা দূর করার পরামর্শ অর্থনীতি বিশ্লেষকদের।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, 'অবশ্যই যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে অবকাঠামো অ্যাভেইলেবল করা। যেটা এখন খুবই দূরহ হয়ে পড়েছে। এখন একটি গ্যাস সংযোগ পেতে যে পরিমাণ ঝক্কির মধ্যে পড়তে হয়, জমি পেতে যে ঝক্কির মধ্যে পড়তে হয় তাতে শুধু দেশের মধ্যে না, একজন বিদেশি উদ্যোক্তাও দেশে কারখানা করতে অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।'

এর পাশাপাশি বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলগুলোতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখারও পরামর্শ তাদের।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে