আপডেট
১২-০৭-২০১৮, ১৬:১৮

ন্যাটো সদস্যদের সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার তাগিদ ট্রাম্পের

nato-today-up1
মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যদের সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ন্যাটো সম্মেলনে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজেদের জিডিপি'র অন্তত ৪ শতাংশ পর্যন্ত সামরিক ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তবে, ৪ শতাংশ নয়, জিডিপি'র ২ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়াতে সদস্য দেশগুলো সম্মত হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ। সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ তোলেন, জার্মানি রাশিয়ার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং জোটে তাদের অর্থায়ন যথেষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল।

 

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বুধবার দুই দিনব্যাপী ন্যাটো সম্মেলন শুরু হয়, তবে এ সম্মেলন বন্ধের দাবিতে ব্রাসেলসের রাস্তায় নামেন শত শত বিক্ষোভকারী। তাদের কণ্ঠে ছিল অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার আহ্বান।

বাইরে যখন বিক্ষোভে উত্তাল পরিবেশ, তখন সম্মেলনের ভেতরে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোড়জোড়। উত্তর আটলান্টিক দেশগুলোর সামরিক জোট- ন্যাটো মিত্রদের সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার তাগিদ দিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ২৯ দেশের এই জোটের সদস্য দেশগুলোকে নিজেদের জিডিপি'র অন্তত ৪ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। তবে এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটো মহাসচিব জানান, ৪ শতাংশ নয়, জিডিপি'র কেবল ২ শতাংশ ব্যয় বাড়াতে সম্মত হয়েছে সদস্য দেশগুলো।

ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ইরাকে জঙ্গি দমনে ''ট্রেনিং মিশন'' শুরু করতে চায় ন্যাটো। স্থানীয়ভাবেও জঙ্গিদের যেন প্রতিরোধ করা যায় এ জন্য সব রকম সহায়তা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো দেবে। যা এখন আফগানিস্তানে করা হচ্ছে। এ জন্য আগামী বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। এই বছর, কমপক্ষে আটটি ন্যাটো সদস্য সামরিক খাতে তাদের জিডিপি'র দুই শতাংশ ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি করেছে। এছাড়া, আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মিত্রদের ২০২৪ সালের মধ্যে এমনটা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে সদস্য দেশগুলোকে তাগাদা দিলেও জার্মানির ওপর বিশেষ করে তার ক্ষোভের কথা জানান। আগামী সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও ট্রাম্প রুশ-জার্মান সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন। বুধবার ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প জানান, ন্যাটোতে ঠিকমতো অর্থ ব্যয় না করে জার্মানি উল্টো রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি ক্রয় করছে। জার্মানি রাশিয়ার কাছে বন্দি এবং দেশটির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, জার্মানি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। ন্যাটোর অর্থায়নে জার্মানির অবদানও কম। ন্যাটোতে সেনা পাঠানোর দিক থেকে জার্মানি দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ বলেও ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন অ্যাঞ্জেলা মার্কেল।


জার্মানির সমালোচনা করলেও ন্যাটো সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক পার্শ্ব বৈঠকে ট্রাম্প দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট খুবই ভালোভাবে, সফলতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছি। এছাড়া ন্যাটোর বিষয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, ন্যাটোতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায় ফ্রান্স। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। পাশাপাশি সিরিয়াসহ ভূ-রাজনীতির নানা প্রসঙ্গও উঠে আসে আমাদের আলোচনায়।

বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে ন্যাটো সম্মেলন। এদিন, আফগানিস্তানে সেনা সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলেন সদস্যভুক্ত দেশগুলোর নেতারা। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে এরই মধ্যে ১৫ হাজার মার্কিন সেনা নিয়োজিত। সেখানে নতুন করে ৪৪০ জন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এছাড়া, জর্জিয়া ও ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হওয়ার আবেদন করেছিল, এ নিয়েও কথা হয় সম্মেলনে। তবে নতুন দেশ অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কম বলে জানান ন্যাটোর নেতারা।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে