মাহমুদ রাকিব
আপডেট
২৯-০৫-২০১৮, ০৪:৫৯

এবার ঈদে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ!

eid-river
ক’দিন বাদেই ঈদুল ফিতর। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ১৭ জেলার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এবার আপনজনের কাছে ফিরবেন নদীপথের ৪১টি নৌরুট দিয়ে। তাই প্রস্তুত করা হচ্ছে দুই শতাধিক যাত্রীবাহী লঞ্চ। তবে মাস্টাররা বলছেন, প্রয়োজনীয় বয়া বাতি না থাকা ও অনিয়ন্ত্রিত মালবাহী নৌযানের পাশাপাশি ঈদে ঝড় মৌসুম হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণই থেকে যাবে এবারের ঈদের নৌপথ।
যদিও নৌমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঈদের আগে পরে তিনদিন করে নৌপথে সব মালবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

চলছে শেষ মুহূর্তের ঝালাইয়ের কাজ। ভেঙে যাওয়া লোহার পাত মেরামত করে ঈদের আগেই লঞ্চ ভাসাতে হবে নদীতে। পাশেই আবার চলছে রং প্রলেপের কাজ। আধুনিকায়ন হচ্ছে ফার্নিচারেও। মূলত ঈদে যাত্রীদের কাছে লঞ্চকে আকর্ষণীয় করে তুলতেই বুড়িগঙ্গা তীরের ডকে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

এক লঞ্চ মালিক বলেন, ‘ঈদে যাত্রীদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য এসি, টিভি, খাট- সবকিছু পরিবর্তন করে নতুন করে দিচ্ছি।’

আরেকজন বলেন, ‘যাত্রীরা এগুলো পছন্দ করে। আমরা সবকিছু আধুনিকায়ন করে লাইনে যাবো।’

মালিকপক্ষ যখন ঈদকে কেন্দ্র করে লঞ্চ সাজসজ্জা নিয়ে ব্যস্ত তখন মাস্টারদের ভাবনায় ঝড় মৌসুম আর নদী পথে চলা অনিয়ন্ত্রিত মালবাহী নৌযান। তারা বলছেন, ঈদের আগে নদীতে প্রয়োজনীয় বয়া বাতির পাশাপাশি লঞ্চে আধুনিক যন্ত্রপাতি না বসালে ঈদে নদীপথ ঝুঁকিমুক্ত হবে না।


এক মাস্টার বলেন, ‘বালুবাহী বলগেটগুলো যেভাবে এলোমেলোভাবে নদীতে চলাফেরা করে তাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা খুব বেশি থাকে। তাছাড়া ঝড়ের ভয় তো আছেই।’

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়া কোনো লঞ্চকেই ঘাট ছাড়তে দেয়া হবে না। আর অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য একদিনে সব গার্মেন্টস ছুটি দেয়াকে দুষছে সংস্থাটি। যদিও যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, ঈদে নৌপথকে ঝুঁকিমুক্ত করতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকে এখনি নজর দিতে হবে।’

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর এম. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘লাইফ বয়া, লাইফ জ্যাকেট এবং যে লঞ্চে যে সমস্ত নিরাপত্তামূলক যন্ত্রপাতি সেগুলোকে নিশ্চিত করেই লঞ্চগুলোকে ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবো। সমস্যা হয়ে যায় আমাদের গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার জন্য লঞ্চঘাটে আসেন। তখন প্রচণ্ড ভিড় হয়ে যায়। যদি পর্যায়ক্রমে ঈদের দশ দিন আগে এবং দশ দিন পরে ছুটিটা পান তাহলে কিন্তু সমস্যা হয় না।’

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদের তিন দিন পরে পর্যন্ত কোনো কার্গো, বালুবাহী জাহাজ নদীতে চলবে না।’

ঝড় মৌসুমের মধ্যেই উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে এবারের ঈদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদীপথে ঢাকা থেকে কম করে হলেও পঞ্চাশ লাখ মানুষ নিজ নিজ ঘরে ফিরবেন ঈদ পালন করতে। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু বিবেচনা করে বাস্তবিক অর্থেই যদি ঈদ মৌসুমে নদীপথে চলাচলকারী অবৈধ মালবাহী নৌযান ও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নদীপথ।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে