সানবীর রুপল
আপডেট
১৭-০৪-২০১৮, ০৯:৪২

আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের আদিবাসীদের জীবনমান

adibasi22
উত্তরাঞ্চলের সমতলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন মান আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে, দিনদিন সংকুচিত হচ্ছে ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার পরিধি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল পেতে ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। 

 

বিস্তীর্ণ সবুজ ধানক্ষেত। কাঁচা রাস্তা। কারুকাজ করা মাটির ঘরবাড়ি। গ্রীষ্মের খরতাপেও যে কারো চোখ জুড়িয়ে যাবে। দিনাজপুরের বিরামপুরের সাঁওতাল পল্লীতে ভর দুপুরে অলস সময় কাটানো মানুষগুলো দেখলে মনে হবে রাজ্যের সুখ এখানেই।

কিন্তু সূর্য রশ্মী ফসলের ক্ষেতে আলো ছড়ালেও জীবন জীবিকার আদ্যপান্তে এখনো এখানে খুব একটা আলো পৌঁছেনি। সমতলে সাঁতাল, মাহালী, মারো, তুরিসহ অন্তত ৩৩টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসতি। নারী পুরুষ নির্বিশেষে এদের বেশিরভাগের জীবন চলে কৃষিকাজ করে। এসব জাতিগোষ্ঠীর আছে নিজস্ব ভাষা ,আছে নিজস্ব সংস্কৃতি। তবে, বেশিরভাগ আদিবাসী খ্রিষ্টার্ন ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এতে নিজস্ব সাংস্কৃতি চর্চা কমছে। আর ভাষার চর্চাও হয়ে এসেছে সীমাবদ্ধ।

এক আদিবাসী নারী বলেন, ‘সবসময় কি আর বাংলা বলি? যখন আমরা গল্প করবো, তখন বলবো।’

আরেক নারী জানান, ‘আগে অনেক কষ্টে ছিলাম, তিনবেলা খাবার জুটতো না। এখন তিনবেলা খাই। কৃষিকাজ করে টাকা জমিয়েছি। মেয়েকে স্কুলে পড়াচ্ছি, এখন আগের চেয়ে ভালো আছি।’    


অন্তত ৬০ ভাগ আদিবাসী নিরক্ষর হলেও এখন সময় পাল্টেছে। প্রায় সব বাবা মা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান। তবে, অনেকেরই সামর্থ্যে কুলোয়না উচ্চ শিক্ষায়।

একজন বললেন, ‘আমরা তো লেখাপড়া করি নাই। এখন আমাদের ছেলেদের পড়াচ্ছি।’

আরেকজন বললেন, ‘আদিবাসী কোনো শিক্ষক যদি থাকতো, তাহলে বিষয়টা আরও সুবিধা হতো।’

সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগে অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে। কৃষিকাজের পাশাপাশি তাদের জীবিকায় এখন যোগ হচ্ছে মাছ-কুচিয়া চাষ ও গবাদি পশু পালন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মতে, আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়নে পরিকল্পিত কর্মসূচি হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আমাদের ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক সারা মারান্ডী বলেন, ‘পাহাড়ী এলাকায় তাদের পুথক একটি মন্ত্রণালয় রয়েছে। তাদের বিষয়গুলো নিয়ে কিন্তু সেখান থেকেই প্রতিনিয়ত কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু সমতলে এখনও আমরা সেই জায়গাটিতে পিছিয়ে আছি।’

গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘উপযুক্ত কর্মসূচি প্রণয়ন করে তার সম্পদ সমাবেশিকরণটাই হলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ 

আর বিশ্লেষকদের মত, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে না পারলে অপূর্ণ থেকে যাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। এমনটাই মত অর্থনীতিবিদদের।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান বরেন, ‘কাউকে বাদ দেয়া যাবে না, সবাইকে মানব মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। কাজেই রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা প্রচুর।’

পাহাড়ি ও সমতলে ৪৫ টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস। এসব জাতিগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। এরমধ্যে সমতলে আছে প্রায় ২৫ লাখ। 




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে