নাজমুস সালেহী
আপডেট
০৩-০৪-২০১৮, ০৩:৩১

কার সন্তান বাঁচে কার হাতে, প্রশ্নবিদ্ধ হন কে

nafisa-child
দুর্ভাগ্যের পৃথিবীতে জন্ম তার। মানব সন্তানের জন্মও কখনও ভীষণ নির্মমতার, জন্মই যেন আজন্ম পাপ। কার কারণে? কার গর্ভে জন্ম? কিই বা পরিচয়? এমন অনেক প্রশ্নবোধক চিহ্ন এই ফুটফুটে নবজাতকের কপালে।

 

ঘটনাটি ২৫ মার্চ রাতের। সদ্য প্রসূত তুলতুলে কচি শরীর তখনও রক্তে মাখা। মিরপুর স্টেডিয়ামের পাশের গলিতে রাতের আধারে, নিষ্পাপ এই প্রাণটিকে ফেলে যায় নিষ্ঠুর কোন হাত। তাই বলে মমতার হাতগুলি তো আর বসে থাকতে পারে না। কচি কণ্ঠের কান্না শুনে পরম মমতায় শিশুটিকে কোলে তুলে নেন নাফিসা ইসলাম। হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে আগলে ধরেন বুকে।

'যখন বাচ্চাটা আমার হাতে আসে তখন সে একেবারে নীল হয়ে গিয়েছিলো। কোন রক্ত সঞ্চালন ছিলো না বাচ্চাটার। আমি যখন কোলে তুলে নিলাম তখন আমার মনে হয়েছে যে, যেভাবেই হোক এই বাচ্চাটাকে আমার বাচাতে হবে। আমি জানি না, এমনটা কেন হয়েছে। তবে আমার মনে হয়েছে, আল্লাহ আমাকে উসিলা হিসেবে পাঠিয়েছে, তাকে বাঁচানো হয়তো আমারই দায়িত্ব।'

তখনও বেঁচে থাকা শিশুটিকে নিয়ে ছুটে যান নিকটস্থ এক হাসপাতালে। প্রাণ বাঁচাতে সাত দিন ধরে হাসিমুখে কি নিদারুণ কষ্টই না করে চলেছেন নাফিসা। এরই মধ্যে দু'দুটি হাসপাতাল বদলে বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে মোহাম্মদপুর কেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে।

ডাক্তারদের নিরলস চেষ্টায়, সুন্দর পৃথিবীতে চোখ মেলতে শুরু করেছে শিশুটি


কেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ড. গোলাম মুর্শেদ সুমন বলেন, 'যখন আমাদের এখানে আনা হয় তখন বাচ্চাটা প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ছিলো।'

কিন্ত নিষ্পাপ প্রাণটিকে বাঁচানোর এই মহৎ কাজ অভিনন্দিত হওয়ার বদলে হোঁচট খেয়েছে বার বার। হাসপাতাল তথা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা হাজারও প্রশ্নবাণে জর্জরিত নাফিসা দমে যাননি।

'আমি কখনো বুঝিনি যে, কোন মানুষকে বাচাতে গিয়ে এতো ভুগতে হয়, এতো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, মানুষের কাছে অবিশ্বাসের জায়গায় যেতে হয়। একটা মানুষকে খুন করলেও হয়তো এতো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় না।' বলছিলেন নাফিসা, ঝরছিলো চোখের জল।

শিশুটিকে একটি পারিবারিক পরিচয়ে বেড়ে ওঠার ব্যবস্থা করাই তার এক মাত্র লক্ষ্য। দত্তক নিতে ইচ্ছুক এমন কোনো দম্পতি শিশুটির দায়িত্ব নিতে চাইলে তাদের দিয়ে দিতে চান তিনি।

ইতোমধ্যে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন নাফিসা।

আলোর ধরায় বড় হোক শিশুটি, গোলাপ কুড়ির মত বিকশিত হোক তাঁর নতুন জীবন এমনই চাওয়া নাফিসা ও তার পরিবারের।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে