আপডেট
১৪-০৩-২০১৮, ২৩:১৭

ফয়জুরের হামলার বিষয়ে জাফর ইকবাল যা বললেন

164032jafor-kk
চিকিৎসা শেষে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান জাফর ইকবাল। বুধবার বেলা ১২টা ৪৬ মিনিটে নভো-এয়ারের একটি ফ্লাইটে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইকবাল। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক ও তার মেয়ে ইয়েশিম ইকবালসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। 

পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা 'সাধাসিধে কথা' শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য দেন জাফর ইকবাল।

অনুষ্ঠানে জাফর ইকবাল যা বললেন তা পুরো বক্তব্য তুলে ধারা হল....

তিনি বলেন, আঘাত পাওয়ার পর আমি আমার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। জ্ঞান না হারানোর চেষ্টা করছিলাম ও বিভিন্ন জিনিস মনে রাখার চেষ্টা করতেছিলাম। এ সময় আশ পাশের শিক্ষার্থীদের আমি রক্তের গ্রুপও বলে দিয়েছিলাম। আমি বলেছি, আমারা রক্তের গ্রপ এ প্লাস। কিন্তু তারা শুনলো..ও প্লাস।

ওসমানী মেডিকেলের ডাক্তাররা খুবই অসাধারণ চিকিৎসা দিয়েছেন। খুব প্রেসারের মাঝে তারা ঠাণ্ডা মাথায় চিকিৎসা দিয়েছেন। তারা শুধু মাথাটা ন্যাড়া করতে পারেননি, যার ফলে সিএমএইচের চিকিৎসকদের আবার আলাদা করে করতে হয়েছে। তিনি এসময় ক্যাপ খুলে তার ন্যাড়া মাথা সবাইকে দেখান।

পরে বলেন, আমাকে ক্যাম্পাসে যেতে হবে। ক্যাম্পাসে গিয়ে আমাকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কেননা এর একটি কারণ আছে, ওই যে আমাদের একটি বিল্ডিং আছে সেই বিল্ডিংয়ের সামনে আমাদের ছাত্ররা শিক্ষকদের উপর আঘাত করেছেন। 


২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট যখন শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায় তখন আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। যার ফলে আমি সব সময় ভাবতাম কবে এই ক্যাম্পাস থেকে চলে যাব। আমি ভাবতাম যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাত্রদের গায়ে হাত তুলে তাদের এখানে থেকে কি হবে। পরে ভাবলাম চলে যাবো। 

এ জন্য আমি সব সংগঠন থেকেও দূরে সরে গিয়েছিলাম। ছাত্ররা অনেক মিনতি করত আবার আসার জন্য। কিন্তু আমি তাদের মিনতি শুনি নাই। আমি নিষ্ঠুরের মতো সংগঠনগুলোকে বলেছিলাম, তোমাদের সঙ্গে থাকব না। আমি এলে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। 

কিন্তু আমি তাদের ভালোবাসার কাছে আমি হেরে যাই। আমি বলতে চাই, আমি তোমাদের সঙ্গে থাকতে চাই। আমি তোমাদের কাছে আগের সেই ব্যবহারের জন্য দুঃখিত। ক্ষমা চাইতেই আমি তোমাদের এখানে এসেছি। তোমরা যখন নাটক-গান করবে আমাদের ডেকো আমরা তখন যাব।

তবে একজন তখন বেশি কষ্ট পাবো। আমার ছাত্ররা আমার শিক্ষকদের গাঁয়ে হাত তুলে। শিক্ষকদের সঙ্গে বেয়াদবি করে। তবে আমি তোমরা সেটা আর কখনো করবে না। 

এই সেই মুক্তমঞ্চে সেখানে আমি বসেছিলাম। যখন সেই আমাকে হামলা চালিয়েছে। তবে ওই ছেলেটির জন্য আমার বিন্দুমাত্র প্রতিহিংসা বা রাগ নেই। বরং তার জন্য আমার মায়া আছে, করুণা আছে। 

সে কেন এটা করেছে? বেহেশত যাওয়ার জন্য। আমাকে মারতে পারলে সে বেহেশত যাবে যেভাবে হোক তার মাথায় এটা কেউ এটা বুঝিয়েছে। একটা মানুষ কত দুঃখী হলে সে চিন্তা করে আরেকজন মানুষকে হত্যা করে সে বেহেশত যাবে। এ সুন্দর পৃথিবীর কিছুই সে জানে না, বুঝে না অথচ সে ধারণা করে রেখেছে আরেকজনকে হত্যা করলেই সে বেহেশত যাবে। তার মনে কত কষ্ট থাকলে সে এই ধারণা পোষণ করতে পারে।

তোমরা আমাকে নাস্তিক বল, আমি পবিত্র কোরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই মনোযোগ সহকারে পড়েছি। কোরআনের একটি সূরা (৫/৩২) তোমরা বাসায় গিয়ে পড়িয়ো, সেখানে লেখা আছে, ‘আল্লাহ বলেছেন, যে লোক অপর একজনকে হত্যা করে সে যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করল।’ আমাকে হত্যা করে তোমরা কীভাবে বেহেশত যাবে তাহলে? অন্যদিকে যে একজনকে রক্ষা করে সে যেন পুরো মানবজাতিকে রক্ষা করল।

এ সময় তাকে বাঁচানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তোমরা যে জীবনকে বেছে নিয়েছো সেটা কোনো জীবন নয়। তোমরা আস, আমার সঙ্গে কথা বল। আমি শুনতে চাই তোমার কিসে এত বিভ্রান্তি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। 




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে