আন্তর্জাতিক সময় ডেস্ক
আপডেট
১৪-০৩-২০১৮, ১৬:২৬

মহাবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১০ তথ্য

stephen-hawking-
৭৬ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটলো পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং'র।

হকিং এর অদ্ভুত বিচার বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং সেন্স অফ হিউমার তার ভাঙা শরীরের বাঁধা পেরিয়ে তাকে সারাবিশ্বের মানুষের জন্য এক অমোঘ অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া তিনি তার অদম্য গবেষণায় সব সময় মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। আসুন জেনে নেই তার সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

বিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আজ বুধবার মারা গেছেন। গত ৮ জানুয়ারি ছিল তাঁর ৭৬তম জন্মবার্ষিকী। বিজ্ঞানের দুনিয়ায় সবচেয়ে পরিচিত মুখ হকিংয়ের গবেষণা ও কাজ কয়েক দশক ধরেই মানুষকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন:

১. ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন হকিং। বেড়ে ওঠেন সেন্ট আলবানসে। চার ভাইবোনের মধ্যে বড় ছিলেন। হকিংয়ের বাবা ফ্র্যাঙ্ক হকিং ছিলেন জীববিজ্ঞানের গবেষক। মা ইসাবেল হকিং রাজনৈতিক কর্মী। বাবা চেয়েছিলেন, হকিং বড় হয়ে চিকিৎসক হোক। ছেলেবেলা থেকেই হকিংয়ের আগ্রহ বিজ্ঞান আর গণিতে। তাঁর জন্মদিনের তারিখ আরেক বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির ৩০০তম মৃত্যুবার্ষিকী।

২. ১৯৫৯ সালে ১৭ বছর বয়সে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন হকিং। চেয়েছিলেন গণিতে পড়তে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত পড়ার সুযোগ না থাকায় পদার্থবিজ্ঞান পড়েন। তিনি প্রথম বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

৩. হকিংয়ের সম্মানসূচক ডিগ্রির সংখ্যা এক ডজন। ১৯৮২ সালে সিবিই অর্জন করেন। রয়্যাল সোসাইটির ফেলো ও ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের সদস্য তিনি।


৪. হকিং ২১ বছর বয়স থেকে অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) রোগে ভুগছিলেন। এ রোগ খুব কম দেখা যায়। এটি খুব ধীরে ধীরে মানুষকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে ফেলে।

৫. ১৯৮৫ সালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তাঁর ভোকাল কর্ড ও ল্যারিংস নষ্ট হয়। এতে কি-বোর্ড চালিত ইলেকট্রনিক স্পিচ সিনথেইজার তাঁর হুইলচেয়ারে বসানো হয়।

৬. ১৯৮৮ সালে তাঁর লেখা ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইটি সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইয়ের একটি। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর ও আপেক্ষিকতা নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত ছিলেন ব্রিটিশ এই পদার্থবিদ। চার বছরের বেশি সময় ধরে সানডে টাইমসের সেরা বিক্রি হওয়া বইয়ের তালিকার শীর্ষে ছিল এটি।

৭. ২৫ বছরের বিবাহিত জীবনে তিন সন্তানের জনক হকিং। জেন হকিংয়ের সঙ্গে ১৯৯৫ সালে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাঁর। পরে নার্স এলাইন মেসনকে বিয়ে করেন।

৮. আইনস্টাইনের পর হকিংকে বিখ্যাত পদার্থবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। হকিংয়ের নামানুসারে এক কণাস্রোতের নাম দেওয়া হয়েছে হকিং বিকিরণ।

৯. হকিং ও তাঁর মেয়ে লুসি হকিং মিলে ২০০৭ সালে শিশুদের জন্য জনপ্রিয় বই ‘জর্জ’স সিক্রেট কি টু দ্য ইউনিভার্স’ লেখেন। এর তিনটি সিক্যুয়াল রয়েছে।

১০. ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পুরস্কারে ভূষিত করেন।

তিনি এ বিষয়ে আত্মজীবনীতে তিনি বলেছেন, 'তোমাকে কম চেষ্টা করতে হলে হয় খুব ব্রিলিয়ান্ট হতে হবে নাহয় তোমার নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে হবে।'

চীনের বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘টেনসেন্ট ডব্লিউ ই’ শীর্ষ সম্মেলনে এক ভিডিও বার্তায় স্টিফেন হকিং ২০১৭ সালের নভেম্বরে বলেন, হাতে সময় আছে ৬০০ বছরেরও কম। এর মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে পৃথিবীর আয়ু। দ্রুত হারে জন বিস্ফোরণের জন্য শক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

তার জেরে বাড়ছে উষ্ণায়নের মাত্রা। তার ফলে আগামী ২৬০০ সালের মধ্যে এই গ্রহ পুরোমাত্রায় অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হয়ে বাসযোগ্য থাকবে না। প্রতিকার হিসেবে পৃথিবীর বিকল্প খুঁজে যেখানে চলে যেতে হবে।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে