সেঁজুতি শোণিমা নদী
আপডেট
০৭-০৩-২০১৮, ১৫:৩২

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার নেপথ্যে ছিলেন যারা

7-march-special
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের এই ঘোষণায় নিপীড়িত বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে। সেই ঘটনার ৪৬ বছর পর বিশ্ববাসীর কাছে এই ভাষণকে তুলে ধরা হলো বিশ্ব ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রামাণিক দলিল হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজ ইউনেস্কোর মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারের অংশ।
এই ৪৬ বছরে ৭ মার্চের সেই ভাষণকে পেরোতে হয়েছে দীর্ঘ পথ। পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তৎকালীন বাঙালি সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষণটি ধারণ, মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে প্রাণ বাজি রেখেও তা সযত্নে সংরক্ষণ এবং সরকারের পালাবদলের অস্থির সময়ে তা নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা থেকে শুরু করে এর পূর্ণাঙ্গ লিখিত রূপ তৈরি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আবেদন - ভাষণটিকে কম পথ পেরোতে হয়নি আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে।

একাত্তরের দিনগুলিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে রক্ষা করেছিলেন যারা

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত আলি খান সময় নিউজকে জানান, ‘সাতই মার্চের ভাষণ ধারণে ১৯৭১ সালে ডিএফপির ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা হয়েছিলো। ডিএফপির ক্যামেরাম্যানরাই এই কাজটি করেছে। নাগরা রেকর্ডারে এটা ধারণ করা হয়, এটি ছিলো খুবই দামি ও উন্নত মানের একটি রেকর্ডার। এতে শব্দ পতন হয় না। এতে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠের যে বলিষ্ঠতা আছে, এটি তা ধারণ করতে পেরেছিলো। এটি খুব সঠিকভাবে ছোট ছোট নোটগুলোও রেকর্ড করতে পারে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এখনকার মতো ডিজিটাল ভিডিও ক্যামেরা তো তখন ছিলো না, তখন এটি ফিল্মে রেকর্ড করা হয়েছিলো। ফিল্মের একেকটা স্পুল চার মিনিটে শেষ হয়ে যায়। একটা স্পুল খুলে যেহেতু আরেকটা স্পুল ঢোকাতে হতো, সেহেতু কিছু কিছু জায়গায় দেখা যাবে, কিছু দৃশ্য নেই। এই সময়ের কিছুটা গ্যাপ ছিলো।’

তিনি দাবি করেন, এই ভিডিও রেকর্ডটি মূলত ডিএফপিরই সম্পদ। সেই ক্যামেরাটা এখনও ডিএফপির কাছে আছে। যে নাগরা রেকর্ডার, সেটাও আছে। যে মানুষগুলো এটি ধারণ করেছিলেন, তাদের অনেকেই কিছুদিন আগ পর্যন্তও জীবিত ছিলেন। 


লিয়াকত আলি খানের ভাষ্যে উঠে আসে একাত্তরের উত্তাল দিনে ভাষণটি যিনি রক্ষা করেছিলেন, সেই আমজাদ আলীর বীরত্বের কথা।

‘এই রেকর্ডিংটি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের হাত থেকে রক্ষা করারও একটি সুন্দর ইতিহাস আছে। ডিএফপির কার্যালয় তখন ছিলো সচিবালয়ের ভেতরে। সেখানে টিনশেডের একটি রুমের ভেতরে এটা রাখা ছিলো। অভিনেতা মহিবুর রহমান, (যাকে সবাই আবুল খায়ের নামেই চিনতেন) তখন ফিল্ম ডিভিশনের ডিরেক্টর ছিলেন। উনি এটিকে রক্ষ করার জন্য, আমজাদ আলী নামের এক সহকারীকে দেন (উনি পরে বিটিভির প্রেডিউসারও হয়েছিলেন)। উনি এটাকে বাক্সবন্দি করে পুরান ঢাকা দিয়ে নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জ হয়ে মুন্সিগেঞ্জের দিকে চলে যান।’ 

তিনি জানান, ‘রেকর্ডটি নেয়ার সময় প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে বিভিন্নস্থানে পাকিস্তানি সেনাদের চেকপোস্ট ছিলো। এরমধ্যেও এই রেকর্ডটি বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ নেন তিনি।’

যেভাবে তৈরি হলো বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রূপ

বঙ্গবন্ধুর এই মহান ভাষণটি বারবার শুনতে শুনতে বাঙালির মনে গেঁথে গেলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত এটির কপিগুলো ছিলো ছড়ানো ছিটানো অবস্থায়। এটির কোনো লিখিত পূর্ণাঙ্গ রূপও ছিলো না। সেটি তৈরির কাজ নিজের হাতে নিয়েছিলেন সাবেক প্রধান তথ্য অফিসার ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। 

সময় নিউজকে তিনি জানান, ‘২০১০ সালে ডিএফপিতে গেলাম। ওখানে গিয়ে দেখলাম বঙ্গবন্ধুর কিছু ভাষণ সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণও রয়েছে। আমার মূল আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ালো এই ভাষণটি। আমরা চিন্তা করলাম, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণগুলো বিচ্ছিন্নভাবে আছে, এগুলোকে একসঙ্গে করে একটা বইয়ে রূপ দেয়া যায় কিনা।’ 

‘আমরা অবাক বিষ্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, ভাষণটার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দৈর্ঘ্য! ডিএফপি তে একটা ভিডিও রেকর্ড আছে, যেটার দৈর্ঘ্য ১০ মিনিট। আরেকটা টেপ পেলাম, যেটার দৈর্ঘ্য ১৪ মিনিট। ডিএফপিতেই ১৯৭২ সালে ভাষণটির একটি প্রিন্ট সংস্করণ সংরক্ষণ করা হয়েছিলো। হাসান হাফিজুরের বইয়েও ভাষণটি আছে। সবগুলো সংগ্রহ করে দেখলাম, প্রতিটি ভাষণে কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। কোনোটায় দুই-এক লাইন বেশি আছে, কোনোটায় কম আছে।’

‘আমার কাছে মনে হলো, ৭ মার্চের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষণ - সেটার একটা পূর্ণাঙ্গ রূপ থাকা উচিৎ। পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে গেলে এটার মূল টেপটা প্রয়োজন, যেটা ৭ মার্চে রেকর্ড করা হয়েছিলো। তখন মনে পড়লো, এই ভাষণ সরসরি প্রচার করতে শুরু করেছিলো বেতার, কিন্তু মাঝখানে এটা বন্ধ করে দেয়া হয়। যে কারণে, ওই দিন আমরা পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি শুনতে পারিনি। তখন মনে হলো, বাংলাদেশ বেতারে এর মূল কপিটি থাকতে পারে। তখন আমি বেতারে চিঠি দিলাম। এরপর ওদের ডিজির সঙ্গে কথা বলে আর্কাইভ থেকে ১৯৭২ সালের মূল কপিটা সংগ্রহ করলাম, যেটা ১৭ মিনিট দুই সেকেন্ডের।’

বেতারের সেই রেকর্ড ছাড়াও ১৯৭২ সালের বই ‘বজ্রকণ্ঠ’ এবং আরও কয়েকটি লিখিত রূপ সংগ্রহ করেন তিনি। জাহাঙ্গীর হোসেন লক্ষ্য করেন, বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছেন, ১৯৭২ তা সালে পত্রপত্রিকায় যখন প্রকাশ করা হয়, তখন সেটাকে নানাভাবে সম্পাদনা করা হয়। প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত হওয়ার সময় ভাষণটিকে একটি পরিশীলিত রূপ দেয়া হয়। এই কারণে এই সংস্করণগুলোর সঙ্গে মূল ভাষণের পার্থক্য থেকে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমি মূল ভাষণটি হুবহু কপি করে রাখলাম। যাতে এটি যথাসম্ভব অবিকলভাবে সংরক্ষণ করা যায়। ভাষণের কোনো কোনো জায়গায় বঙ্গবন্ধু থেমে যাচ্ছেন, জনতা দাবি তুলছে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার, মাঝে মাঝে নেতা-কর্মীদের ধমক দিচ্ছেন। টেলিভিশন ও বেতার যখন বন্ধ করে দিলো সম্প্রচার, একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো। সেসময় তিনি নেতা-কর্মীদের কিছু নির্দেশনা দিচ্ছেন- এই সবই পরিশীলিত ভাষণের কপিতে নেই। এগুলো ব্র্যাকেটবন্দি করে ইটালিক ফন্টে লিখে আর নিচে একটা টিকা সংযুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ ভাষণটির লিখিত রূপ সংরক্ষণ করা হলো।’

আর এভাবেই ডিএফপির তরফ থেকে প্রকাশিত হয় ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ’ নামের বইটি।

তখন থেকেই ধীরে ধীরে শুরু হয় ভাষণটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পালা।

তিনি জানান, ‘যখন আমরা এই বইটির কাজ করছিলাম, তখন আমাদের কাছে একদিন রোকেয়া খাতুন নামের একজন আসলেন, তিনি তখন বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনে কাজ করছিলেন। তিনি আসলে শিক্ষা ক্যাডারের লোক, ওখানে ডেপুটেশনে ছিলেন। তিনি জানালেন, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ট্রেনিং-এ যাবেন, সেখানে ইউনেস্কোর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের এতিহ্যকে তুলে ধরেন। তিনি এসেছেন আমাদের কাছে, ঢাকা ও বাংলাদেশের ঐতিহ্যের তথ্য নিতে। তখন তাকে আমি বললাম, আপনি যেহেতু ঐতিহ্য তুলে ধরতে পান, সবচেয়ে ভালো হবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি তুলে ধরা হলে। তখন তিনি খুব উৎসাহিত হলেন আমাদের পূর্ণাঙ্গ কপিটি সংগ্রহ করে ইউনেস্কো কমিশনে দেখানোর জন্য। এটা ২০১১ সালের ঘটনা।’

রোকেয়া খাতুন ফিরে এসে ডিএফপিকে জানান ওখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি উপস্থাপন করেছেন। সেখানে ইউনেস্কোর সদর দফতরের কর্মকর্তারা এটি দারুণ পছন্দ করেন এবং বলেন এটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ মেমোরিয়ালে রেজিস্টার্ড হওয়ার যোগ্য। এ বিষয়ে সেবছর ডিএফপিতে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠায় ইউনেস্কো।

এরমধ্যে মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন ২০১৪ সালে ফিল্ম আর্কাইভের ডিজি হিসাবে যোগদান করেন। তখন বিষয়টি আবার চাপা পড়ে যায়। সেই ছাইচাপা উদ্যোগ ২০১৫ সালে ফের তুলে আনে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

যেভাবে মিললো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন বিমসটেকের বর্তমান মহাসচিব শহীদুল ইসলাম। তিনি সময় নিউজকে জানান বাকি গল্পটা।

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড-এ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে রেজিস্টার্ড হওয়ায় কোটি কোটি বাঙালির মতো আমিও অনেক খুশি। বিশেষ করে ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আমি ঐতিহাসিক ভাষণটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের যে প্রক্রিয়া- এর সঙ্গে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্ত ছিলাম। কাজেই আমার জন্য এটা ব্যক্তিগত সন্তুষ্টিরও কারণ।’ 

তিনি জানান,‘প্যারিস মিশন থেকে আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সেটাকে ইউনেস্কোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার। এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এদের সঙ্গে মিলে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তবে সব উদ্যোগ যে সফল হয়েছে, সেটা বলা যাবে না। কিন্তু জামদানি শাড়ি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, শীতলপাটি কালচারাল হেরিটেজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।’ 

‘আমার প্রথম থেকেই ইচ্ছা ছিলো যে, ইউনেস্কোর মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড-এ বাংলাদেশের কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। এ ব্যাপারে প্রথমেই মনে আসে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের কথা।’

‘এটার ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওযার আবেদন করতে একই নমিনেশন ফাইল তৈরি করতে হয়। তাতে এটি লিখিতভাবে আছে, না অলিখিতভাবে আছে এবং তাতে যে কন্টেন্ট আছে, সেটা বিশ্বের মানব সম্প্রদায়ের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কিনা- সেটার বিবেচনারও একটি বিষয় ছিলো।’ 

এই নমিনেশন ফাইল তৈরিতে শহীদুল ইসলামকে সাহায্য করেছিলেন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান। তার ভেতরে প্রথমেই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। তিনি প্রাথমিক নমিমেশন ফাইল তৈরিতে বেশ পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন বলে জানান সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।

এরপর এই ফাইলের যাচাই-বাছাই ও উন্নত করার জন্য তিনি  আলাপ করেন তৎকালীন ডিএফপির ডিজি লিয়াকত আলি খানের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাথমিকভাবে যে ফাইলটা তৈরি করেছিলো, তাতে শুধুমাত্র তাদের কাছে থাকা ফর্টি ফাইভ আরপিএম রেকর্ডে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটা দেয়া হয়। প্যারিস মিশন খোঁজ করতে শুরু করে এই ভাষণের অন্যান্য দলিলের।

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এক্ষেত্রে সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট যে অরিজিনাল আনএডিটেড ডকুমেন্টটা ছিলো। সেটি হলো তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার নাসের আহমেদ চৌধুরীর করা রেকর্ডটি। এটাই পরবর্তীতে ৮ মার্চ রেডিও বাংলাদেশ ঢাকা কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার করা হয়েছিলো। এছাড়াও ৭ মার্চ ভাষণের অরিজিনাল ৩৫ মিলিমিটার ভিডিও ফুটেজ- ধারণ করেছিলেন পাকিস্তান ফিল্ম ডিভিশনের চিফ মহিবুর রহমান খান।’

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ২০১৩ সালে এটির একটি ডিজিটাল অডিও ভিশন সংস্করণ তৈরি করে। আরও পরে ২০১৪ সালে ২০১৪ সালে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় তৈরি করে একটি সংষ্করণ। এর সবগুলোই প্যারিস মিশন জমা দেয় ইউনেস্কোর কাছে। এরপর যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শহীদুল ইসলামের ভাষ্যে, ‘আমরা এটি জমা দিয়েছিলাম ২৩ মে ২০১৬ তে। তারপর এটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০১৭’র ফেব্রুয়ারিতে তারা এটি ফেরত দিলো কিছু সংশোধনের জন্য। এরপর ১৭ এপ্রিল ২০১৭ তে সংশোধনের পর আমরা এটা আবার জমা দিলাম। এরপর এদের চূড়ান্ত অথোরিটি ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার অ্যাডভাইজারি কমিটি এটা ৩০ অক্টোবর এই ভাষণটিকে স্বীকৃতি দেয়।’

শহীদুল ইসলাম আরও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নিজে দেখে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন। প্রাথমিক নমিনেশন পাওয়ার পর ইউনেস্কোর নির্দেশে বেশ গোপনীয়তা রক্ষা করেই কাজটা করেন তারা।

এভাবেই বিশ্ববাসীর কাছে স্বীকৃতি পায় বাঙালির ইতিহাসের অন্যতম এই দলিল। নানা বন্ধুর পথ পেরিয়ে ৭ মার্চের এই ভাষণ তাই এখন কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে