মহানগর সময় ডেস্ক
আপডেট
০৫-০৩-২০১৮, ০৯:০৯

যুগ যুগ ধরে আদালতে ঝুলে আছে ৩৩ লাখ মামলা

land-law
বর্তমানে সারাদেশে বিচারাধীন রয়েছে ৩৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫শ' মামলা যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক দেওয়ানি প্রকৃতির। এমনকি ১৯৬৭ সালের মামলাও অনিষ্পন্ন অবস্থায় ঝুলে আছে আদালতে। দেওয়ানি মামলার বিচারে এই দীর্ঘসূত্রতার জন্য আইনগত জটিলতা, সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা ও সময় ক্ষেপণের প্রবণতাকে দায়ী করছেন আইনজীবীরা।
মো. ইলিয়াছ বলেন, 'জমিটা কেনার পর আমরা ভোগ দখল করে খাই। ফসলের জমি ছিল। পরে জানলাম এটার ওপর মামলা আছে। আমাদের নামে কোনো নোটিস করা হয় নাই।কিন্তু বাবা-চাচারা যখন মিস কেস করে, তাদের রায় এবং ডিগ্রি পণ্ড হয়।'

১৯৬০ এর দশকে সিএস রেকর্ডিও এক স্বত্বাধিকারীর কাছ থেকে ২শ' ৭১ শতাংশ জমির ক্রয় সূত্রে মালিকানা লাভ করেন মো. ইলিয়াছ উদ্দীনের দাদা। সেই থেকে আজও জমির ভোগ ও দখলে রয়েছেন তারা। বাবা ও চাচারা জীবিত থাকতে ১৯৬৭ সালে সিএস রেকর্ডের ত্রুটি দেখিয়ে এক মামলা করেন জমির তৎকালীন স্বত্বাধিকারীর এক ওয়ারিশ ইদিবীবী। মামলার বয়স ৫০ পেরিয়েছে কিন্তু আজও শেষ হয়নি তার বিচার। এমনই আরেকজন ভুক্তভোগী নছিরণ বেগম। তার দাবি ছোট বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর কোনো ভাই না থাকায় চাচাতো ভাইয়ের ছেলে আকবর আলী ভুয়া দলিল করে বসত ভিটা লিখে নেন। সিএস রেকর্ডে মালিকানা থাকার পরও আদালতে গিয়ে কোনো প্রতিকার পাননি।

ভুক্তভোগী বলেন, 'টাকা দিয়ে অফিসারকে আমার চাচাতো ভাই না করে দিয়েছে, সে এখন একটা নকল কাগজ দিয়েছে। কোর্টের ম্যাডাম বলেছে এই কাগজ দিলে আমাদের কপাল পুড়বে।'

আদালতের সর্বশেষ তথ্য বলছে, নিম্ন ও উচ্চ আদালতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫শ' ৯১টি দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসবের মধ্যে দেওয়ানি অর্থাৎ জমিজমা সংক্রান্ত মামলাই বেশি। নিম্ন আদালতের পাশাপাশি উচ্চ আদালতেও রয়েছে বহু দেওয়ানী মামলা।

মামলার দীর্ঘসূত্রতার নেপথ্যে আদালত ও বিচার সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা ও অনিয়মকে দায়ী করছেন দেওয়ানি মামলা পরিচালনাকারী এই তরুণ আইনজীবী।


হাইকোর্ট আইনজীবী তানজীমুল ইসলাম বলেন, 'একটা মামলা হওয়ার পর চার-পাঁচ বছর শুধু সমন জারিতেই লাগে। আইনের স্পষ্ট বলা আছে, যখন মামলা চলাকালীন অবস্থায় ৬ বারের বেশি সময় নেয়া যাবে না। আবার আপিলে যখন যাবে আপিলে তিনবারের বেশি সময় নেয়া যাবে না।'

এদিকে দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে সরকারে অনাগ্রহ থাকায় মামলার জট বাড়ছে এমন দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

রাষ্ট্রপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফকির দেলাওয়ার হোসেন বলেন, 'দক্ষতা অভাব থেকে আমাদের এই বিচার ব্যবস্থা দ্রুত আগায় না। যেসব ক্ষেত্রে আইনের বাধা আছে, সে আইনগুলো সংশোধন করে সহজ করে যেন মানুষ বিচার পায় সেটার ব্যবস্থা নেয়া উচিত।'

আদালত ও দক্ষ বিচারকের সংখ্যা বাড়ালে মামলার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে