আন্তর্জাতিক সময় ডেস্ক
আপডেট
১৪-০২-২০১৮, ১৮:০৪

রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ: যুক্তরাষ্ট্র

us
রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। মঙ্গলবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সুনিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র। এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।

মঙ্গলবার ২০১৮ সালের প্রথম পূর্ণ বৈঠকে বসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউ.এন.এইচ.সি.আর। নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি মনসুর আইয়্যাদ শাহ আবদুল আলোতাইব্যি'র সভাপতিত্বে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, সুইডেন পেরুসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলো অংশ নেয়।

এসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি রোহিঙ্গা নিধনের দায়ভার নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপর জোর দেন।

নিকি হ্যালি বলেন, 'দুঃখজনকভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববাসী এনিয়ে মিয়ানমার সরকারের ভূমিকা দেখার অপেক্ষায় আছে। কিন্তু আমরা তাদের বর্বরসুলভ আচরণের কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। বরং বার্মা সরকার সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে। আমরা মিয়ানমারে গ্রেফতার রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি।'

রাখাইন রাজ্য সরেজমিন পরিদর্শনের উপর জোর দেন রাশিয়া-চীন ছাড়া অন্য সব রাষ্ট্রগুলো। তবে চীনের অবস্থান ছিল আগের চেয়ে অনেকটা গঠনমূলক। মিয়ানমারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

তিনি বলেন, 'রোহিঙ্গা প্রত্যাবাশনে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাকে সম্পৃক্ত করতে আমরা অব্যাহতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি। এটি খুবই উদ্বেগজনক যে, এখনও রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।'

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সংকট সমাধানের আশা ব্যক্ত করে মিয়ানমার রোহিঙ্গা সমস্যার পেছনে সন্ত্রাসবাদের উত্থানের যোগসাজশকে তুলে ধরার চেষ্টা করে।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ দু সুয়ান বলেন, 'মিয়ানমার ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবাসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন তখন মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো বিষয় বিদ্রোহীদের ভুল বার্তা দেবে।'

পরে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন সময় টেলিভিশনকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের কথা জানান।

তিনি বলেন, 'গত দশ দিনে নতুন করে প্রায় ১৫শ' রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারা যে অভিযোগগুলো করেছে সেগুলো আমরা এখানে তুলে ধরেছি। এগুলোর বিষয়ে দ্রুত যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয় তাহলে বাকি যারা ফিরে যেতে প্রস্তুত তারাও সেখানে ফেরার ব্যাপারে আগ্রহী হবে না।'




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে