আপডেট
১৩-০২-২০১৮, ১৭:১৫

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক পুনর্গঠনে তহবিল সংগ্রহে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

iraq-recon
আইএস বিরোধী যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইরাক পুনর্গঠনে ব্যাপক অর্থ সহায়তা প্রয়োজন। সেজন্য তহবিল সংগ্রহে কুয়েতে আয়োজন করা হয়েছে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের। সেখান থেকে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের আশা করছে ইরাক সরকার। তবে, এই অর্থ ব্যয়ে দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এক সময়ের প্রাণবন্ত মসুল শহর এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। আইএস বিরোধী অভিযানে দেশটিতে একের পর এক বিমান হামলা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে সব অবকাঠামো। বিধ্বস্ত শহরটি আবারও বাসযোগ্য করে তুলতে এখন কোমর বেঁধে সংস্কার কাজে নেমেছেন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা।

এখানে যাদের বাড়ি ঘর ধ্বংস হয়েছে, তারা সবাই তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে দেয়ার আবেদন করেছেন। পরে সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ মূল্যায়নকারী দল এখানে এসেছেও। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন পদক্ষেপই নেননি।

জাতিসংঘের এক হিসাবে, মসুলের অন্তত ৪০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা এখনও কোন রকম গৃহনির্মাণ সহায়তা পাননি। অনেকে নিজ উদ্যোগেই শুরু করেছেন মেরামত কাজ।

আমরা পুরনো নগরীর বাজার পরিষ্কারের কাজ হাতে নিয়েছি। আশা করছি, ৪০ দিনের মধ্যেই আমরা পুরো বাজার এলাকা পরিষ্কার করে দোকান পাট চালু করতে পারবো।

আই-এস জঙ্গিরা দখল করে নেয়ার পর মসুল ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন অনেক বাসিন্দা। ইরাকি বাহিনী অবশেষে শহরটি আইএস মুক্ত করার পর এখন ফিরতে শুরু করেছেন তারা। কিন্তু ফিরে এসেও চেনা শহরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ঠিকানা।


দি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন জানিয়েছে, আইএস জঙ্গিরা ইরাকের ৫০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে। গত বছরের শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রায় ৩২ লাখ নিজ এলাকায় ফিরে এসেছে। তাদের মধ্যে ২৬ লাখেরই ঘর বাড়ির কোন চিহ্নই এখন আর নেই।

ইরাক সরকার ও বিশ্বব্যাংক যে হিসাব করেছে তাতে দেখা যায়, পুনর্গঠন কাজের জন্য অন্তত ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন পড়বে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করে দেয়ার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ইরাকের বন্ধুরাষ্ট্র কুয়েত। এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে কুয়েত সরকার। সেখান থেকেই সংস্কার কাজে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ সম্ভব হবে বলে আশা করছে ইরাক।

পুনর্গঠন কাজে আন্তর্জাতিক তহবিল পেলেও তা কতোটা স্বচ্ছভাবে ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতি-গ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ইরাক অন্যতম। দেশটির আবাসন ও পুনর্গঠন বিষয়ক মন্ত্রণালয় অবশ্য পুনর্গঠন প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে।


আবাসন ও পুনর্গঠন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাবের আব্দুল্লাহ হাজি বলেন, অতীতে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে অস্বচ্ছভাবে অর্থ খরচ হয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু এই মুহূর্তে সামান্য অর্থও আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অনেক কিছু।

২০১৪ সাল থেকে আইএস ইরাকের এক তৃতীয়াংশ এবং সিরিয়ার এক বড় অংশ দখল করে নেয়। গত ডিসেম্বরে টানা তিন বছরের যুদ্ধ শেষে আইএসের বিরুদ্ধে বিজয়ের ঘোষণা দেয় ইরাকি বাহিনী।

 




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে